খবর ডেস্ক :
এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ‘লিঙ্গ’ পাল্টে ‘ছেলে হয়ে গেছে মেয়ে’
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চরম গাফিলতিতে কয়েক হাজার পুরুষ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ (জেন্ডার) পরিবর্তিত হয়ে ‘ফিমেল’ বা নারী চলে এসেছে। ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ এই কার্ডগুলো বিভিন্ন কলেজে বিতরণ করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে হন্যে হয়ে বোর্ডের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। যদিও বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বহু কার্ড সংশোধন করা হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুত ঠিক করা হবে।
পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার আগে বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রিন্ট করে পাঠানো হয়। সম্প্রতি ঢাকা থেকে কার্ডগুলো ছাপিয়ে বরিশাল বোর্ডে আনার পর চার জেলার কলেজে বিতরণ করা হয়।
বিতরণের পরই ধরা পড়ে বড় ধরনের এই ত্রুটি।
ঝালকাঠি ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক ছাত্রের কার্ডে লিঙ্গ হিসেবে ‘ফিমেল’ লেখা হয়েছে। বিশেষ করে মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, তার কলেজের ৪২৩ জন ছাত্রের সবার কার্ডেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে ‘ফিমেল’ চলে এসেছে। সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে কার্ডগুলো বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য কারিগরি ত্রুটিকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সার্ভারজনিত সমস্যা এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংসের ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলাম। গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, পরীক্ষার আগে ভুলটি ধরা পড়ায় সমাধান করা সহজ হয়েছে।
কোনো ফি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে কার্ডগুলো সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কার্ড সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দীকী জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট পরীক্ষার্থী ৮১ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। প্রায় ৩০ হাজার কার্ডে এই ভুল হয়ে থাকতে পারে। ভুলগুলো নতুন করে কার্ড ছাপিয়ে সংশোধন করা হচ্ছে।
বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানোয় তারা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল। নতুন করে কার্ড ছাপাতে অর্থ ব্যয় হবে, আর সেটি কোনোভাবেই কলেজের ওপর চাপানো যাবে না, বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।






