নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বিগত দিনে জামায়াত ইসলামীর আমিরের সম্মানার্থে তার আসনে হাতপাখার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি, আবার তিনিও (জামায়াতের আমির) আমাদের সম্মান করে এখান থেকে প্রার্থী তুলে নিয়েছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। গতকালই আমি বরিশাল-৫(সদর) আসনের জামায়াতের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাহেবকে ফোনকল দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুনভাবে কোনো জোটে যাওয়ার এখন কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি তারা শরিয়াহ ভিত্তিক এবং কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক আইন প্রণয়ন করে এবং সুযোগ হয়, তাহলে অবশ্যই জোটে যাবে ইসলামী আন্দোলন।
আমাদের ‘একবাক্সের’ মূল থিমটা ছিল ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স। কিন্তু যখনই তিনি (জামায়াতের আমির) এক খ্রিস্টান ভদ্র মহিলার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে এবং শরিয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করবো না। তখন তো আর আমাদের এক বাক্স থাকে না। কারণ আমাদের এক বাক্সের নীতিটা ছিল ইসলামের পক্ষে এক বাক্স, এজন্য ইসলামের পক্ষে হাতপাখার বাক্স আছে।
বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের এ প্রার্থী বলেন, প্রশাসনের ঢিলাঢালা অবস্থা দেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জনগণ সন্দেহ প্রকাশ করছে। আমি প্রশাসনকে বলবো, আপনারা কোনো অবস্থাতেই কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না। সেইসঙ্গে নির্বাচনে দখলদারি, জোর এবং কালো টাকার ব্যবহার কোনোভাবেই যেন না হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দেশের উন্নয়নে একটি পরামর্শশালা করা হবে।
যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের নাগরিকরা থাকবেন, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে বরিশালের যা যা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কাজে হাত দেবো।
যারা আসামি নয়, তাদের আসামি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার এক কর্মীকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে কেস ঠুকে দেওয়া হলো, কিন্তু সে আওয়ামী লীগ না প্রমাণ করতে করতে তো নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। তাই আমি প্রশাসনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার জন্য অনুরোধ করছি। প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো অবস্থাতেই যাদের বিরুদ্ধে কেস নেই, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কেস দেওয়া যাবে না। যারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নয়, তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না, সেইসঙ্গে বেনামি-অজ্ঞাত একজন আসামিও গ্রেপ্তার করা যাবে না।
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চাইলে প্রশাসন কাউকে যেন হয়রানি না করে সেই আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা শুধু সাংবাদিকদের নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবো। কর্মী সম্মেলনে আমি সবাইকে খাদেম হতে বলেছি। রাজনৈতিক কাজটাকে খেদমত মনে করো, এটা ভোগের বা ব্যাবসার কোনো জায়গা মনে করবে না। এতদিন ক্ষুধার্ত ছিলাম এই বক্তব্য ধ্বংসের কারণ।






