TT Ads
Spread the love

খবর ডেস্ক :
ইলিশ সম্পদ রক্ষায় দেশব্যাপী চলছে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এই অভিযানের আওতায় জাটকা শিকার, বাজারজাত, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর পরও থেমে নেই জাটকা নিধন এবং বাজারজাত।

প্রতিদিন এবং রাতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে পাচার করা হচ্ছে জাটকা। আর প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিতে এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহন।

সম্প্রতি বরিশালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের পৃথক অভিযানে এমন তথ্য উঠে আসে। গত তিন দিনেই যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে তারা জব্দ করেছেন ছয় হাজার কেজির ওপরে জাটকা ইলিশ। এসব ঘটনায় দু-চারজন আটক হলেও নামমাত্র জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বাস স্টাফরা। আর ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল পাচারকারীরা।

জানা গেছে, বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ।

এসময় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ‘অন্তরা ক্লাসিক’ ও ‘রাজধানী’ নামের দুটি পরিবহনে তল্লাশি করে ৩৯টি ককসিটে রক্ষিত ৩ হাজার কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশাল আদালত চত্বরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ ইসলাম ও মিরাজুল ইসলাম রাসেলের উপস্থিতিতে জব্দ হওয়া জাটকাগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর বান্দরোডে লঞ্চঘাট এলাকা থেকে পাঁচশ কেজি জাটকা জব্দ করে কোতয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ। আটক করা হয় তিনজন জাটকা পাচারকারীকে। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর কাশিপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বরিশাল-ঢাকা-মহাসড়কে বাসে তল্লাশি করে ২ হাজার ৫৬০ কেজি জাটকা জব্দ করে সেনাবাহিনী। এসময় আটক তিনজন বাস স্টাফের কাছ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বা নৌপথে জাটকা পাচাররোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে যাত্রীবাহী বাসে জাটকা পাচার করছে। জাটকা জব্দ করা হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি হবে ভেবে পরিবহনগুলো আটক করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাস মালিক এবং শ্রমিকদের সচেতন হওয়া দরকার। পরিবহন বন্ধ হলে জাটকা শিকারও বন্ধ হবে। আর জাটকা শিকার না হলে বেচাকেনাও চলবে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোতে জাটকা পাচার বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে “অন্তরা ক্লাসিক, রাজধানী, মোল্লা, মোড়ল, চেয়ারম্যান, বাউফল ট্রাভেলস” সহ বেশকিছু লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনে নিয়মিত জাটকা পাচার হয়। এর সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার, চালক এবং হেলপাররাও জড়িত। অন্য মালামালের থেকে জাটকা পরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণের বেশি লাভবান হওয়ার লোভে যাত্রীবাহী বাসে অবৈধ জাটকা পরিবহন করেন তারা।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হামিউজ্জামান বলেন, “ইতোপূর্বে আমরা বেশ কিছু যাত্রীবাহী বাস থেকে জাটকা জব্দ করেছি। এসব বাসের স্টাফদের মাধ্যমে জেনেছি মূলত বাউফল এবং পটুয়াখালী থেকে বেশি জাটকা পাচার হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মূলত ভোলা এবং পটুয়াখালী মূল পয়েন্ট। এছাড়া বরিশালের হিজলা, মুলাদী এবং মেহেন্দিগঞ্জেও নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব নদী থেকে জাটকা শিকার করে এক জায়গায় করে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। নদী বা ট্রাকে জাটকা পরিবহন নিরাপদ না হওয়ায় এখন যাত্রীবাহী বাসে গভীর রাতে জাটকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে আমাদের নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

যাত্রীর সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সড়ক পথে প্রশাসনিক টহল এবং তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
সূত্র : দেশকাল নিউজ

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *