শাহিন সুমন :
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী ঘোষণা করে কার্যত জেলায় শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে বিএনপি। কৌশলগত কারণে বরিশাল-৩ আসনটি এখনও খালি রেখেছে দলটি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন ছয়টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। ফলে পুরো জেলায় বিএনপি–জামায়াত–ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ গরম হয়ে উঠছে।

 

বরিশাল-১: ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির দুর্গ
আগৈলঝাড়া–গৌরনদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন ইতোমধ্যেই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। মাঠের চিত্র বলছে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বপন ও জামায়াতের এ কে এম কামরুল ইসলাম খানের মধ্যে। ভোটারদের সোজাসাপ্টা মত বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে বিএনপি।

 

বরিশাল-২: সান্টুর এগিয়ে থাকার আভাস, অভির আগমনে সমীকরণ বদলাতে পারে
উজিরপুর–বানারীপাড়া আসনে বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গোলাম ফারুক অভি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। জামায়াতের প্রার্থী আবদুল মান্নান মাঠে খুব একটা সক্রিয় নন।

 

বরিশাল-৩: কৌশলগত নীরবতা, সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াত
বাবুগঞ্জ–মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে বিএনপি এখনও প্রার্থী দেয়নি। স্থায়ী কমিটির দুই নেতা সেলিমা রহমান ও জয়নুল আবেদীনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। এদিকে জানা গেছে, এই আসনটি এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদকে সমর্থন দেওয়ার কথাও ভাবছে বিএনপি।
প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াতের জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ দাবি করছেন, “এ আসন ধানের শীষের ঘাঁটি। বিএনপি প্রার্থী এলেই জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ।

 

বরিশাল-৪: রাজিব–জব্বার লড়াই তুঙ্গে
হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ আসনে বিএনপির রাজিব আহসান ও জামায়াতের আবদুল জব্বারের মধ্যে সরাসরি লড়াই জমে উঠেছে। রাজিব আহসান সংগঠনগতভাবে এগিয়ে থাকলেও মাঠে প্রচারণায় কিছুটা এগিয়ে জামায়াত প্রার্থী।

 

বরিশাল-৫: সরোয়ার বনাম হেলাল—দুই হেভিওয়েটের মোকাবিলা
বরিশাল সদর–সিটি করপোরেশনভিত্তিক এ আসনটি বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি। পাঁচবারের সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারকে ঘিরে আস্থাশীল বিএনপি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা মুয়াযযম হোসাইন হেলালও শক্তিশালী প্রার্থীদের একজন, ফলে এ আসনে
উত্তেজনা রয়েছে তুঙ্গে।

 

বরিশাল-৬: লড়াই তিনভাগে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
বাকেরগঞ্জে বিএনপির আবুল হোসেন খানের বিপরীতে মাঠে আছেন জামায়াতের মাহমুদুন্নবী তালুকদার। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমও প্রার্থী হলে ভোটের মাঠ তিনভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক, দৈনিক সমকালের কুয়াকাটা প্রতিনিধি ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সদস্য প্রয়াত খান এ রাজ্জাকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ডিসেম্বর) আছর নামাজ বাদ এ দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব কুদ্দুস মাহমুদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান,কুয়াকাটা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও মহিপুর থানা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মাইনুল ইসলাম মান্নান প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু,টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী সাইদ, কুয়াকাটা পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খান এ রাজ্জাক ছিলেন কুয়াকাটার সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সত্য, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। শিক্ষকতা থেকে শুরু করে সাংবাদিকতা সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন সততার দৃষ্টান্ত। তাঁর মৃত্যু কুয়াকাটার সংবাদপত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন,খান এ রাজ্জাক ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর লেখনি, তাঁর মূল্যবোধ আজও আমাদের পথ দেখায়।

প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন,তাঁর মতো মানবিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক পাওয়া সত্যিই কঠিন। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য তিনি আদর্শ হয়ে থাকবেন।

সভা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাইতুল আরজ জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব কারি মোঃ নজরুল ইসলাম।

পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে প্রয়াত সাংবাদিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সকল সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনের অভিযোগে চার যুবককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেঙ্গল গেস্ট হাউজের পেছনে তালুকদার বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোঃ নাসির বিশ্বাস (২০) মো. শাহীন খান (২০)মো. রাকিবুল ইসলাম (২০) মো. রফিকুল ইসলাম (২১)।

অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন সাদেক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন,মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক। কুয়াকাটাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। নিয়ম ভেঙে কেউই পার পাবে না। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় অভিযানে সহযোগিতা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের চৌকস টিম।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান কুয়াকাটায় অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা আরও বলেন, পর্যটন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে তরুণ সমাজ মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং কুয়াকাটার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো চালু হলো ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) পরীক্ষা। মৃগীসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা এখন থেকে কম খরচে পাওয়া যাবে হাসপাতালটিতে।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে হাসপাতালের ২য় তলার ২০৩৭ নং কক্ষে ইইজি সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক তাফিদা রাকিব ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিনামূল্যে ইইজি মেশিন সরবরাহ করা হয় শেবাচিম হাসপাতালে। মেশিনটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা অর্জনের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেন নিউরোমেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ও দুইজন মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিউরোমেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী এম. মনিরুল ইসলাম বলেন, “ইইজি পরীক্ষা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃগী, ঘুমের ব্যাধি, টিউমার, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগ শনাক্তে অত্যন্ত কার্যকর। সরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষা মাত্র ৬০০ টাকায় হওয়ায় দরিদ্র রোগীরা বিশেষ উপকার পাবেন।”

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “আমাদের হাসপাতালে ইইজি মেশিনের অভাব ছিল। আমরা নতুন করে কিনতে উদ্যোগ নিলেও তাফিদা রাকিব ফাউন্ডেশন বিনামূল্যে মেশিন সরবরাহ করায় আমরা কৃতজ্ঞ। এতে দক্ষিণাঞ্চলের অসহায় রোগীরা উন্নত সেবা পাবেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মাহমুদ হাসান, সিনিয়র ক্লিনিক্যাল প্যাথোলজিস্ট ডা. আশিক দত্ত প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বরিশালে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকালে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে এ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি এ দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করেন। এ সময় নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন।

দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা বিএনপির ‌আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন প্রমুখ।

দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল নগরীতে শহীদ মিনার সংলগ্ন মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের জমিতে ‘জালিয়াত চক্রের’ ঘর উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।

রোববার বিকালে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন মোহামেডান ক্লাবের সদস্য, খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবায়েদুলক হক চাঁন। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু, আসাদুজ্জামান খসরু।

বরিশালে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের জমিতে ঘর তোলার প্রতিবাদ
বক্তারা বলেন, একটি মহল ধর্মকে ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে। বরিশাল নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাব। পুরনো ক্লাব বরিশাল ক্রীড়া অঙ্গনে ভূমিকা রেখেছে। একটি মহল ধর্মকে ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে।

খবর ডেস্ক :
বাড়ির পাশে পুকুরে ভাসছে গজার মাছ। এক একটির ওজন ৪-৫ কেজি। তবু ধরেন না কেউ। তার থেকেও আশ্চর্যের বিষয় হলো- বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও পুকুর ছেড়ে যায় না গজারগুলো।

সকাল হলেই খাবার খেতে তীরে আসে গজার মাছ। যা দেখতে পুকুর পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। অনেকে মনোবাসনা পূরণে নিয়ত করে পুকুরে গজার মাছকে খাবার দিচ্ছেন।

অদ্ভুত এমন গজার মাছের সন্ধান মিলেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের উত্তর ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা সান্টু হাওলাদারের বাড়ির পুকুরে।

স্থানীয়দের দাবি- পুকুর দখল করে রাখা গজার মাছ কেউ ধরতে গেলেও শারীরিক বা মানসিকসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি। তাই মারা গেলে রান্না না করে মাটি চাপা দেওয়া হয় রহস্যময় এই গজার মাছ।

সান্টু হাওলাদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী সন্টু হাওলাদার দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। দেশে ফিরে কীটনাশকের ডিলারের ব্যবসা করতেন। হঠাৎ এক রাতে স্বপ্নে দেখেন, পুকুর ঘাটে গজার মাছের ঝাঁক। তার দাবি- হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারে গজার মাছ অলৌকিকভাবে এসেছে তাদের পুকুরে। যা সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে গিয়ে মিলিয়েও দেখেছেন তারা।

তিনি বলেন, “পুকুরে থাকা গজার মাছগুলোর বয়স ১৫-২০ বছর হবে। এগুলোর কিছু বিশেষ দিক রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যখন চারদিক তলিয়ে যায় তখনও পুকুর ছেড়ে যায় না। আবার পুকুরের অন্য মাছও খায় না তারা। সকাল হলেই খাবার খেতে ঘাটে আসে। গজারগুলোকে প্রতিদিন সকালে ছোট মাছ খেতে দেওয়া হয়। আর মারা গেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়।”

খাদিজা বেগম বলেন, “প্রথম দিকে আমাদের এক আত্মীয় অবহেলা করে গজার ধরতে এসেছিল। এজন্য সে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই গজার মাছের আধ্যাত্মিক শক্তির কথা বিশ্বাস করতে শুরু করে গ্রামবাসী। তবে ১০ শতকের এই পুকুরটিতে বর্তমানে কি পরিমাণ গজার মাছ রয়েছে তা জানা নেই কারোর।”

গজার মাছ ঘিরে এমন অলৌকিক ঘটনা স্বীকার করছেন প্রতিবেশীরাও। তবে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাড়ির মালিক সান্টু হাওলাদার। অথচ পুকুরে গজার মাছ ঘিরে নিজের ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন তিনি। এখন জিন ছাড়ানো, তাবিজ-কবজ এবং তদবির দিয়ে থাকেন সান্টু হাওলাদার। এ কারণে “সান্টু ফকির” নামে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

সন্টু হাওলাদারের পুকুরে গজার নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভ্রান্ত ধারনা সৃষ্টি হয়েছে তা সম্পূর্ণ কুসংস্কার বলে মন্তব্য করেছেন উজিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার।

তিনি বলেন, “দেশে বিলুপ্ত প্রজাতির যে ৬৪টি দেশীয় মাছ রয়েছে তার মধ্যে একটি গজার মাছ। মা এবং পুরুষ গজার পোনা ১০ সেন্টিমিটার না হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে যায় না। অথচ এই মাছকে অনেকে অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবেও দেখে থাকে। তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সূত্র : দেশকাল নিউজ ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের উদ্যোগে ওজোপাডিকোতে আউটসোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. ফয়েজ আহমেদ খান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ওজোপাডিকোতে স্থায়ী কারিগরি জনবল নিয়োগ করা হয়নি। এর ফলে ২১ জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বহুলাংশে বহিরাগত নির্ভর হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিমভাবে জনবল সংকট সৃষ্টি করে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর পরিপন্থি।

পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম ফারুক বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং ওয়েস্ট জোনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার লক্ষ্যে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা:

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আহত একটি নাইট হেরন (নিশি বক) উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করেছে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)।

 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলিপুর মৎস্য বন্দরের একটি মুরগির দোকান থেকে অসুস্থ অবস্থায় আটকে রাখা পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়।

 

উপরা’র সদস্যরা রাত বকটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা শেষে সন্ধ্যায় কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক–ইকো রিসোর্ট এলাকার নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করেন।

 

উদ্ধার ও অবমুক্তকরণ কাজে উপস্থিত ছিলেন উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, টোয়াকের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং বন বিভাগের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন,বন্যপ্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে যাতে কোনো পাখি বা প্রাণী অবৈধভাবে আটক বা নির্যাতনের শিকার না হয়। কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সবসময় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

 

উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন,উপকূলীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। জনসচেতনতা বাড়লে এ ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

 

গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

রাত বকসহ সব ধরনের বন্যপ্রাণী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সুরক্ষিত। কোনো প্রাণী আটক, বিক্রি বা নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এ ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন অপরাধ না ঘটে সে বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

 

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একে এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এ ধরনের পাখি আটক, বিক্রি বা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। কোথাও বন্যপ্রাণী আটক থাকতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করছি।

 

উপার সদস্যরা জানান, রাত বক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি পাখি। সফলভাবে উদ্ধার ও অবমুক্ত করতে পারায় স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

খবর ডেস্ক : 

পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের প্রথম বয়া ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ঘটল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। লাইটার জাহাজের ডেকে লাফিয়ে উঠল তিন মণ রুপালি ইলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) গভীর সমুদ্রে এ আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে।

 

কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ এমভি কেএসএল গ্লাডিয়েটরের নাবিকরা জানান, এমন ঘটনা আগে কখনোই দেখা যায়নি।

 

এ ঘটনার ১০ সেকেন্ডের একটি বিস্ময়কর দৃশ্য ধারণ করে রাখেন জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন।

 

রবিউল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাজটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক সেই সময় সাগরের বুক ফুঁড়ে জাহাজের দুই পাশ বেয়ে ছোট ইলিশের দল ছুটে আসে। ভয় আর উত্তেজনার মিশেলে লাফাতে লাফাতে তারা ডেকে উঠতে থাকে।

 

মুহূর্তেই প্রায় তিন মণ মতো ইলিশ উঠে আসে জাহাজের ওপর। নাবিকরা যতটা পেরেছেন কুড়িয়ে নিয়েছেন, বাকিগুলো আবার সাগরে পড়ে যায়।

এমন অদ্ভুত ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার। তিনি বলেন, বড় শিকারি মাছের তাড়া, জাহাজের আলো ও শব্দ মিলেই এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

তার ভাষায়, সমুদ্রে টুনা বা ম্যাকারেলের মতো বড় শিকারি মাছ ছোট ইলিশের পালের পেছনে তাড়া করলে আতঙ্কিত হয়ে ইলিশরা জাহাজের আলো বা শব্দের দিকেই ছুটে আসে। জাহাজের গা ঘেঁষে পানি সরু হয়ে গেলে মাছগুলো ওপরের দিকে ঠেলে উঠে যায়, তখন লাফাতে লাফাতে ডেকে পড়া অস্বাভাবিক নয়।

 

তিনি আরো জানান, জাহাজের তলার নেভিগেশন লাইট, ইঞ্জিনের কম্পন ও প্রপেলারের শব্দ অনেক সময় ছোট মাছকে আকর্ষণ করে কিংবা বিভ্রান্ত করে। ফলে তারা দল বেঁধে জাহাজের খুব কাছে চলে আসে।