খবর ডেস্ক :
বরিশালে মানব পাচার আইনে দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন- বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জঙ্গু বেপারীর ছেলে শামীম বেপারী (৩৩) ও রুবেল বেপারী (২৭)।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিতরা পলাতক ছিলেন।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা বলেন, ২০২৩ সালে ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা নাছরিন বেগম। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন তার ছেলেকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে কেনিয়া নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময় আসামিরা সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলা আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে গৌরনদী মডেল থানার এসআই মজিবর রহমান ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।

বিচারক সাতজনের সাক্ষ্য নিয়ে রায় দিয়েছেন। রায়ে করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে এক বিএনপি নেতাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থি নানা আচরণের কারণে বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ্ আলম মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থি নানা আচরণের কারণে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মিরাজের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। সব নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজ এখনো হাতে পাইনি।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনকে আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালত চলাকালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হট্টগোলের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনজীবী সমিতির এনেক্স ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে সেখান থেকে তাকে আদালতের পুলিশি হেফাজতখানায় নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় সভাপতির মুক্তির দাবিতে জেলা জজ আদালত ভবনের নিচে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও আইনজীবী সমিতি বিক্ষোভ করেছে। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা সভাপতির মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলাকালে সেখানে ঢুকে হট্টগোল করেন কয়েকজন আইনজীবী। এসময় বেঞ্চ ওলটপালট করা হয়। বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

তখন এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক।
এ ঘটনার জেরে আজ আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা জানান, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বেআইনিভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে সোমবার জামিন দিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছিলেন আইনজীবীরা।

এদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

খবর ডেস্ক :
আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যে তাকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। সেখানে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে মহানগর হাকিমের দ্রুত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

শুনানি শেষে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন দিয়েছেন।

আইনজীবী মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, তারা সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু আদালত অনুমতি দেয়নি। আদেশের পর একটি প্রিজন ভ্যানে করে আইনজীবী লিংকনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন।

পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন, অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন।

মামলায় বলা হয়, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আসামিরাসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তারা বিচারকদের উদ্দেশে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তারা হট্টগোল করেন।

এতে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা ইউনিয়নের বেজহার গ্রামে ব্র্যাকের স্বপ্নসারথি কিশোরীদের জীবন দক্ষতা বিষয়ক সেশন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) BRAC-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেলপ) আওতায় “ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং: পর্ব-০১” শীর্ষক জীবন দক্ষতা সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া কিশোরীরা নিজেদের স্বপ্ন, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায় তা ব্যাখ্যা করে।

সেশনটি পরিদর্শন করেন গৌরনদী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম। তিনি কিশোরীদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি মনোযোগী থাকা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের বরিশাল জেলার ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রিসান রেজা মোঃ সাহেদ, জেলা ব্যবস্থাপক (সেলপ) মোঃ নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সেশনটি পরিচালনা করেন মোসাঃ আছমা আক্তার, অফিসার (সেলপ)। সার্বিক সহযোগিতা করেন ফাহানা সরদার, সি.ও (সেলপ)।

আয়োজকরা জানান, কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন পরিকল্পনায় সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাবেক বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত ও বরিশালের সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল ক্লাবে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া এর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বরিশাল প্রেসক্লাব, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সম্পাদক ও প্রকাশক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন। তাছাড়া মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুখ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানানো হয়।রবেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনের সাংবাদিকবৃন্দ, সাংবাদিক নেতা সহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না যদি গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে, সুস্থভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একটা দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না, যদি যে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকে। গণমাধ্যম স্বাধীনতা চর্চা করতে পারে না, যদি তার জবাবদিহিতা না থাকে। আমরা সে কারণে স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো এবং এ পথেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করবো।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আমরা দেশে ভয়ভীতিমুক্ত একটা সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করবো জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ওয়েজবোর্ডকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

দ্রুত সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন সব সময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আলোচনাসভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সেটা অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিয়েছেন। কোনো ধরনের বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোনো ধরনের বিতর্কের স্কোপ নেই। এমনকি এ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো মহল, কোনো ব্যক্তি আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তারেক রহমান আজ জনগণের নেতা। আমরা সেই নেতার নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, যে পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত কিন্তু আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে হাত দিচ্ছি। আশাকরি আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা কি ছিল বা কি করতে যাচ্ছে যা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানাতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে পর্যটন নগরী  কুয়াকাটায়।

তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এ স্বাগত মিছিলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলটি কুয়াকাটার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাহে রমাদানের পবিত্রতা রক্ষা করুন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখুন, সংযম ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করুন এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহিপুর থানা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম মন্নান বলেন,রমাদান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও মানবিকতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে অন্যায়, অসৎ উপার্জন ও মজুতদারি পরিহার করে সমাজে ন্যায় ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাগর সৈকত জামে মসজিদের খতিব  মুফতি মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন,রমাদানের পবিত্রতা রক্ষায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের কষ্টকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জন করলে বরকত নষ্ট হয়ে যায়। হালাল ব্যবসাই প্রকৃত সফলতার পথ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা সাগর সৈকত জামে মসজিদের ইমাম মুফতি  মোঃ মোস্তফা কামাল, কুয়াকাটা কুরআন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রুমান ইমতিয়াজ তুষার, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ফজলুল হক খানসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

মিছিল শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

খবর ডেস্ক :
বরিশাল বিভাগ থেকে পাঁচজন সংসদ সদস্য এবার স্থান পেয়েছেন জাতীয় মন্ত্রিসভায়। তাদের মধ্যে দু’জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন এ অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে বরিশালে বইছে আশাবাদের হাওয়া। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে— এমন প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

মঙ্গলবার (১৭, ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন দু’জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী।

যেখানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ- বীর বিক্রম। এছাড়া বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. রাজিব আহসানকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মনজুরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু বলেন, এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর।

এই জনপদের দিকে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের সুদৃষ্টি আছে বলেই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ থেকে তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করেছেন। আমরা আশা করছি বরিশাল আর অবহেলিত থাকবে না।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশাল জেলার সদস্য কবি হেনরী স্বপন বলেন, ‘বরিশাল থেকে এবার যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রিত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। তার মধ্যে থেকে পাঁচজনকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে।

যদিও বরিশালবাসীর প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল।

বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। কৃষকরা চান ন্যায্যমূল্য ও সংরক্ষণ সুবিধা। ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ও নতুন বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিভাগ থেকে একাধিক মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে শুধু প্রতিনিধিত্ব নয়, কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে সাবেক এমপিসহ তিন আওয়ামী লীগ নেতার জামিন জেবুন্নেছা আফরোজ।

গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দুইজনকে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।

এর আগে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ।