নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে শুরু হচ্ছে বরিশাল বিভাগীয় বইমেলা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমান।

আজ সোমবার রাত ৮টায় নগরীর সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আহসান হাবিব। প্রেস কনফারেন্সে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নগরীর বেলস্ পার্কে এ বিভাগীয় বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অংশগ্রহণে শতাধিক স্টল থাকবে।

বইমেলাকে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বরিশাল বিভাগের কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেলে কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, বইমেলাটি চলবে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাট) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রিয়াজুর রহমান’র নিকট তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও খেলাফত মজলিসের বরিশাল (পূর্ব) জেলা সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন কামাল, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. সাইফুর রহমান, এ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন ও নুরুল হক সোহরাব, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা আমির অধ্যাপক নুরুল আমিন ও কাজিরহাট থানা আমীর মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন দাখিলের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জব্বার বলেন, দেশে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরী হয়নি। এ ব্যাপারে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাছাড়া এই রিমোট এলাকায় আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ বিরোধী জনতার মাঝে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় উৎসব মুখোর পরিবেশে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন সহ ৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ২৯ ডিসেম্বর উজিরপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজার নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম আলাউদ্দিন,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান টুলু, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মালায়শিয়া বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মিডিয়া ম্যােনজার আফম সামসুদ্দোহা আজাদ।

এছাড়াও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল মান্নান।এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওঃআঃ খালেক,সেক্রেটারী মোঃ খোকন সরদার,জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি হাফেজ মাওঃ কাওছার হোসাইন।

বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) থেকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’ এর সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওঃ মোঃ শাহে আলম,সেক্রেটারী মাওঃ মোঃ আব্দুল হক।

বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রঞ্জিত বাড়ৈ মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) থেকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী এডভোকেট মোঃ তারিকুল ইসলাম। খেলাফত মজলিস এর সংসদ সদস্য প্রার্থী মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান।

উজিরপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২০ হাজার ১৮৫, মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৬ হাজার ২৯জন,হিজরা ১ জন, মোট ভোটার সংখ্যা-২ লক্ষ ৩৬ হাজার ২১৫ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা-৮৪টি।

বানারীপাড়া উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা-৭৪ হাজার ৯২৩জন,মহিলা ভোটার সংখ্যা-৭২ হাজার ৬৪৫ জন,মোট ভোটার সংখ্যা-১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৬৮ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা-৫৬টি। (উজিরপুর-বানারীপাড়া) দুই উপজেলায় সর্বমোট মোট ভোটার সংখ্যা-৩ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৮৫ জন। ১২ ফেব্রুয়ারি নারী – পুরুষ ভোটারগন ভোট প্রদান করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করছেন।

আজ রবিবার বিকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে
মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি একইসাথে বরিশাল-৬ আসনেরও প্রার্থী।

এর আগে দুপুরে বরিশাল-২ আসনের এনপিপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আগামীকাল ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।

বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এরমধ্যে সর্বোচ্চ বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝারা) আসনে ৮ জন, বরিশাল-২ (বানারীপাড়া -উজিরপর) আসনে ৮জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনে ৮জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৪জন, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ ) আসনে ৬জন।

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ দেয়ার আশ্বাস রিটার্নিং কর্মকর্তার। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পেলে নেয়া হবে দ্রুত ব্যবস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৯৭৫ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের স্মৃতি ও বন্ধনকে ঘিরে বরিশাল জিলা স্কুলের ১৯৭৫ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও মিলনমেলার আবহ।

র‍্যালি শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ তারিকুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. মিজানুর রহমান, বঙ্কিম চন্দ্র সাহা, মোঃ সূরুয্যামান, এম. মকবুল আহমদ ফারুক, মোঃ আবদুস শুকুরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বরিশাল জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি তাদের জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। দীর্ঘ সময় পর সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে তারা আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিময় ও আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন। সুবর্ণজয়ন্তীর এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নতুন করে বন্ধন দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

খবর ডেস্ক :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান ভোটার হয়েছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ছবি তুলে ও আঙুলের ছাপ দিয়ে তারা ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

তারেক রহমান ভোটার হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সঙ্গে ছিলেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ওনারা আগেই অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন।

এখন আমাদের কাছে এসে কেবল আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
এনআইডি ডিজি বলেন, এরপর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সার্ভারে সার্চ করে দেখবে যে, সেটা কারো সঙ্গে ম্যাচ করে কি না। ম্যাচ না করলে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। এটা আমাদের কারো হাতে নেই।

আমাদের কাছ থেকে এনআইডি বা স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন। আবার নিবন্ধনকারীর মোবাইলে মেসেজ যাবে, সেখান থেকেও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত বৃহস্পতিবার সপরিবার দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। বিএনপি আগেই জানিয়েছিল শনিবার তিনি ভোটার হবেন।

এর আগে দলটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে হলে যে কোনো এলাকার ভোটার হলেই হয়। ২০০৮ সালের ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার সময় সঙ্গত কারণে ভোটার হতে পারেননি তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে।

তার আগেই ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মা জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ইটিআই ভবনে আসেন জাইমা রহমান। নিবন্ধন সম্পন্ন করে বেরিয়ে যান পৌনে একটার দিকে।

পরে তারেক রহমান ইটিআইতে আসেন দুপুর একটায়। বেরিয়ে যান সোয়া ১টার দিকে। জুবাইদা রহমান এর আগে জুন মাসের দিকে গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসার ঠিকানায় ভোটার হন। ১৯৬ নম্বর বাসভবনের ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গুলাশান-২ নম্বর, ১৯ ওয়ার্ড, ঢাকা-১৭ আসন।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পতিতাবৃত্তি ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ডিসেম্বর)সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব ঐক্য শিক্ষা নেতৃত্বের আয়োজনে এবং কুয়াকাটা স্টুডেন্ট এলায়েন্সের উদ্যোগে কুয়াকাটা প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা
পতিতা-মাদক বন্ধ করো, যুবসমাজ রক্ষা করো, মাদকমুক্ত কুয়াকাটা চাইসহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

মহিপুর থানা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম মন্নান বলেন, পতিতাবৃত্তি ও মাদক সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এসব অপকর্মের কারণে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। কুয়াকাটার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সমাজসেবক মাওলানা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন,মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আজকের এই ঝটিকা মিছিল প্রমাণ করে কুয়াকাটার শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ আর নীরব থাকবে না।
সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মহিম বলেন, যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনই মাদক ও পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান ও স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

কুয়াকাটা স্টুডেন্ট এলায়েন্সের মুখপাত্র মো. মুজাহিদ সিফাত বলেন,অবিলম্বে পতিতাবৃত্তি ও মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক রাসেল মুসুল্লি, কুয়াকাটা স্টুডেন্ট এলায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম, স্টুডেন্ট এলায়েন্সের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, সদস্য জাহিদ মুসুল্লিসহ বিভিন্ন পেশার সচেতন মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় তাকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে শুভেচ্ছা মিছিল করেছে বিএনপি।

আজ বুধবার বেলা ১২ টায় নগরীর সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুভেচ্ছা মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি। এতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বরিশাল থেকে ২০-২৫ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। ইতমধ্যে সড়ক ও নৌ পথে ৩ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান নিয়েছে। বরিশাল মহানগ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আজ রাতে বরিশাল নদী বনাদর থেকে চারটি লঞ্চযোগে ঢাকায় যাবেন।

বরিশালের সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে ও সকলকে আমন্ত্রন জানিয়ে তারা কর্মী সভা, আলোচনা ও শুভেচ্ছা মিছিল করছেন।

এর আগে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা মিছিল বের করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটার ও প্রার্থীরা কেউ পরিপূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর ৫ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যারা হুমকি দেবে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। এটা যদি না করা হয় তাহলে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাত ৮টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করিম বলেন, যারা প্রটোকল পাওয়ার পর্যায়ে যায়নি, অথচ সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী দিচ্ছি এটা দেশের কোন ‘ল’ তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আগামীতে প্রশাসন কোন দিকে ঝুঁকে যায় কি যায় না সে ব্যাপারে সনদিহান প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ হত্যা বেড়ে গেছে। যারা নিজেদেরকে শক্তিশালী বিরোধীদল দাবি করে তারা হুমকি-ধুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত দেশে অবাক সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক চাতক পাখিরমত তাকিয়ে আছে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। যেখানে নির্বিঘ্নে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারিনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, দুই একটা দলকে নিয়ে বৈঠক করছেন। এর মানে অন্য দলকে অবজ্ঞা করছেন। এটা তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলছে। এজন্য ইসলামী আন্দোলন সঙ্কিত।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিগত দিনে যারা সিইসি ছিল তাদের পরিণতি কি হয়েছে তা সবাই দেখেছে। ভবিষ্যতে কোন সিএসসি এইভাবে মবের আওতাধীন চলে আসুক, তাদের ব্যাপারে মব সৃষ্টি করা হোক সেটা তারা চায়না।

আগামী নির্বাচনে যেন অবশ্যই পেশি শক্তির ব্যবহার করা না হয়, কালো টাকার ছড়াছড়ি না হয়, কেউ কাউকে হুমকি দিতে না পারে এজন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা আশা’র বিভাগীয় পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টায় বরিশাল সদর উপজেলা হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আশা’র চলমান কার্যক্রম, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, আশা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। আশা’র ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আত্মনির্ভর ও স্ব-অর্থায়িত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং অনুদানমুক্ত থেকে নিজস্ব সম্পদের ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত আয়ের একটি অংশ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমে ব্যয় করা হচ্ছে। এছাড়া এশিয়া ও আফ্রিকার ১৩টি দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে আশা।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুয়া মুশাররফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খলিফা।

আশা বরিশাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় আশা’র আর্থিক সেবাসমূহের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ, এমএসএমই ঋণ, কৃষি ঋণ, স্যানিটেশন ঋণ, শিক্ষা ঋণ, সঞ্চয় ও রেমিট্যান্স সেবার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, সারা দেশে প্রায় ৭০ লাখ পরিবার আশা’র সেবার আওতায় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ নারী সদস্য। সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সহায়তা, উচ্চশিক্ষা বৃত্তি, ফিজিওথেরাপি সেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্যানিটেশন কার্যক্রম এবং আশা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা-ম্যাটসের মাধ্যমে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ ছাড়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ২০০টি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৬৬ জনকে ৩ হাজার ৩৩৭ দশমিক ০৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার জনকে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বীমা দাবির বিপরীতে ২ হাজার ২৩৮ জনকে ৯ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা, সদস্য অবসর ভাতা বাবদ ৪৬ জনকে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ৭৭৯ জনকে ২৩ দশমিক ১২ লাখ টাকা এবং মৃত্যুজনিত দাফন-কাফন বাবদ ৬৭৩ জনকে ৩৩ দশমিক ৬৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল বিভাগের ৯৮৩টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৩২ জন শিশুকে পাঠদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগে স্থাপিত ৩টি ফিজিওথেরাপি সেন্টারের মাধ্যমে স্বল্প খরচে ২২ হাজার ৪০০ জনকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশা’র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক দীপক চক্রবর্তী এবং কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সিনিয়র এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ জালাল উদ্দিন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা আশা’র কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যভিত্তিক সভা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।