নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বরিশাল মহানগরের বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাত ৮টায় নগরীর বরিশাল ক্লাবে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ, খতিব ও ইমাম, জামে এবাদুল্লাহ জামে মসজিদ, চকবাজার, বরিশাল।

এসময় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দোয়া মাহফিলে বরিশাল মহানগরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিবসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াবিদরা।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে আজ বুধবার সকাল ১০টায় নগরীর কবি জীবনানন্দ দাস আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই বিভাগীয় আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবিব।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শাহ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলার উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদার এবং সহকারী উপ-পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ।

এবারের প্রতিযোগিতায় বরিশাল বিভাগের ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। মোট ২২টি ইভেন্টে বিভিন্ন বয়স ও ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ক্রীড়াবিদরা।

আয়োজকরা জানান, নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও দলগত মনোভাব তৈরি করতেই এ আয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মেঘনা নদীতে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের দায়ে আটক তিন জেলের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার বরিশালের হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জরিমানা করেন।

দন্ডিতরা হলেন-হিজলা উপজেলার বাউশিয়া এলাকার জেলে জয়নাল আবেদীন, ধুলখোলা এলাকার শাকিল রাঢ়ি ও একই এলাকার বাসিন্দা লোকমান ঢালী।

হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে বিশেষ কম্বিং অভিযান চলছে। ধারাবাহিকতায় মেঘনা নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের সময় তিন জেলেকে আটক করা হয়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। পরে আটক জেলেদের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তিনজনকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে জেলেরা মুক্ত হয়েছেন। উদ্ধার করা জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রে ধরা পড়া বড় আকৃতির একটি ইলিশ মাছ ৫ হাজার ৪৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল শেষ দিকে কুয়াকাটার ঝাউবন এলাকার জেলে মাসুদ মাঝির জালে ধরা পড়ে এক কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের এই ইলিশ।

জেলে মাসুদ মাঝি জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই বড় আকারের ইলিশটি জালে উঠে আসে। পরে মাছটি স্থানীয় হিসেবে মোনপ্রতি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা দরে, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকা হিসেবে মোট ৫ হাজার ৪৫৬ টাকায় বিক্রি করা হয়।

ইলিশটি কুয়াকাটা পৌর বাজারে ঘরামী ফিস নিয়ে আসলে নিলামের মাধ্যমে ‘মাছের বাড়ি’ নামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. হাসান মাছটি কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন,বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকা থেকে ধরা পড়া এ ধরনের বড় সাইজের ইলিশ এখন খুবই কম পাওয়া যায়। একটু লাভের আশায় মাছটি কিনেছি। সামান্য লাভ পেলেই বিক্রি করে দেব।

জেলে মাসুদ মাঝি বলেন,সাগরে এখন বড় ইলিশের সংখ্যা অনেক কম। তবে আল্লাহর রহমতে আমি যে মাছটি পেয়েছি, সেটি আকারে অনেক বড় ছিল। এ কারণেই ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। খুব বেশি মাছ না পেলেও আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই খুশি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বড় ইলিশ মূলত জেলেদের জন্য সুখবর বয়ে আনে। গভীর সমুদ্রের জেলেদের পাশাপাশি উপকূলের জেলেরাও এখন বড় ইলিশ পাচ্ছেন। পুলিশের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শীত মৌসুমে মাঝেমধ্যে বড় ইলিশ ধরা পড়লেও এ ধরনের ওজনের মাছ এখন বিরল, যা বাজারে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।

খবর ডেস্ক :

দেশে প্রথমবার অমৌসুমি নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, খেজুর রস খাওয়ায় সতর্কতা
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত এবং বিস্তার লাভ করেছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। পাশাপাশি সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

গত বছর নিপা ভাইরাস শনাক্তের চারটি কেসেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে মহাখালী আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার প্রসঙ্গে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ।
প্রবন্ধে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব।

মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিমা আক্তার (২১) চাকুরি করতেন গৌরনদী টরকী বন্দরস্থ একটি থেরাপি সেন্টারে। পরিচয় হয় গৌরনদী বার্থী ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী মোঃ মেহেদী হাসানের সাথে। এক সময় দুই জনের মধ্যে গড়ে উঠে সম্পর্ক। স্ট্যাম্প দেখিয়ে কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে বলে সিমার সাথে শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হন। গর্ভবতী হয়ে যায় সিমা। বর্তমানে গর্ভে ৮ মাসের সন্তান নিয়ে মেহেদীকে স্বামী হিসেবে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি সম্পর্কে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর উপরোক্ত অভিযোগ তুলে ধরে ডাকযোগে গৌরনদী “অফিসার ইনচার্জ” বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সিমা। অন্যদিকে, সিমার গর্ভে সন্তান আসার পরপরই মেহেদী হাসান গৌরনদী বার্থী ইউনিয়ন ভূমি থেকে বদলি হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় চলে যান।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হলেন- গৌরনদী বাটাজোর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মোঃ মোতালেব হোসেন পেদা ও মোসা. জায়েদা খাতুনের সন্তান।

লিখিত অভিযোগে সিমা উল্লেখ করেন, তারা দুই জনই গৌরনদী থানার বাসিন্দা। আসা-যাওয়ার পর মেহেদী হাসান একপর্যায় আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে বিয়েতে রাজি করায়। একটি স্ট্যাম্প এনে আমাকে দেখিয়ে বলেন- তোমার সাথে আমার কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে। পরে শারীরিক মেলা মেশার মধ্যে মেহেদীর ঔরসে আমার গর্ভে সন্তান আসে। বর্তমানে যার বয়স ৮ মাস। আমার পেটের বাচ্চার কথা বললে- মেহেদী সম্পূর্ণ অস্বীকার যায় এবং বলে ঐ বাচ্চা আমার না এবং আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

সিমার চাওয়া পাওয়া হল- মেহেদী হাসানের সাথে সুষ্ঠু সমাধান পূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি তাহার সু-ব্যবস্থা করা।

প্রতিবেদকের প্রশ্ন উত্তরে সিমা বলেন, ডিএনএ টেস্টে করলেও তার পেটের সন্তানের বাবা মেহেদী আসবেন বলে জানান। তাই সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মেহেদী হাসানের ব্যবহৃত পর পর ৩টি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেলেও এই নম্বরে ( ০১৭২৫৪৯৭০৩৮) রিসিভ করেন মোসা. জায়েদা খাতুন। তিনি মেহেদীর মা। তিনি বলেন, সিমার গর্ভে কোন সন্তান নেই। সে মিথ্যা কথা বলে। অর্থ সম্পদ নেয়ার ধান্ধায় রয়েছে। মেয়েটি তার ছেলের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি এলাকার অনেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানে। সিমা মামলা করুক। তা করে না কেন?

এ সব প্রশ্নের জবাবে সিমা জানান- আরো তার জমানো টাকা সহ হাতের মুঠোফোনটিও মেহেদী নিয়ে গেছে। যাতে সম্পর্কের অনেক ডকুমেন্ট ছিল।

খবর ডেস্ক :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ১৪টি বিভাগের (কেন্দ্র) ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে একেএম রাকিব (ছাত্রদল) ১৫০৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াজুল (শিবির) ১৪৪৬ ভোট পেয়েছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জকসু নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে সহ সভাপতি (ভিপি) পদে এগিয়ে আছেন ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব। তিনি পেয়েছেন ১৫০৩ ভোট।

রাকিবের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৪৪৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৫২৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা। তিনি পেয়েছেন ৭৫৬ ভোট।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ১৪২৭ ভোট।

একই পদে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ১২৩৯ ভোট।
নির্বাচন কমিশন জানায়, অন্য বিভাগগুলোর ফলাফল গণনা চলছে। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো- ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।

খবর বিনোদন ডেস্ক :
এতদিন বিয়ে নিয়ে কোনো কথার উত্তর না দিলেও এবার এক নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বিয়ে নিয়ে কথা বললেন শ্রদ্ধা।

২০২৪ সালের শুরুতে মুম্বাইতে একটি ডিনার ডেটে শ্রদ্ধা কাপুর এবং রাহুল মোদীকে একসঙ্গে দেখার পর তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে দুজনেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্পর্ক নিয়ে কিছু জানাননি।

এরমধ্যে তাদের আরও কয়েকবার একসঙ্গে খাবার খেতে দেখা যায় কখনও একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায় বিমানে।

এদিকে তাদের বিয়ের গুঞ্জন শোনা যায় সর্বত্র। কবে তারা বিয়ে করবেন বা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন এমন প্রশ্ন অনুরাগীদের মনে।

এতদিন বিয়ে নিয়ে কোনো কথার উত্তর না দিলেও এবার এক নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বিয়ে নিয়ে কথা বললেন শ্রদ্ধা। মঙ্গলবার অভিনেত্রী নিজের গয়নার ব্র্যান্ডের প্রমোশনাল ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে আগামী ভ্যালেন্টাইন্স ডের বিভিন্ন রকম গয়নার ডিজাইন দেখিয়েছিলেন তিনি।

তবে গয়নার থেকেও শ্রদ্ধার বিয়ে নিয়ে মানুষের বেশি উৎসাহ ছিল। প্রতিবারের মতো এবারেও এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী শ্রদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বিয়ে কবে করবেন? নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি জবাব দিয়ে শ্রদ্ধা লেখেন, করব, অবশ্যই করব।

শ্রদ্ধার এই তাৎক্ষণিক উত্তর সবার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। শ্রদ্ধার কথার উত্তরে একজন লিখেছেন, “কবে করবেন?” কেউ আবার লিখেছেন, “কাকে করবেন?” সবাই শ্রদ্ধার বিয়ের ডেট জানার জন্য ভীষণভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কমেন্ট বক্সে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই শক্তি কাপুরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায় শ্রদ্ধাকে। হাসপাতালের বাইরে ছবি শিকারিদের দেখে ভীষণভাবে বিরক্ত হন শ্রদ্ধা। হাত নাড়িয়ে সবাইকে থামতে বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার ঢাকায় মামলাটি দায়ের করেন বলে সাংবাদিকদের জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদক আইনের ২৬(১) ধারায় সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওযা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬(২) ধারায় ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত’ হয়েছে।

দুদক বলছে, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়া যায়।

এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সাদিক আবদুল্লাহর নামে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়।

নোটিস পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর দুদকের একজন কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরমের মূল কপি বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি সাদিক আবদুল্লাহ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের অনেক এলাকার মত বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আয়শার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ও চাচাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তাররা হলেন— আয়শার বাবা বাবুল প্যাদা (৪৮) ও চাচা রুবেল প্যাদা (৩৫)। একই দিন নিহত আয়শার বড় বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রুবেল প্যাদাকে।

পুলিশ জানায়, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও সম্মান রক্ষার অজুহাতে বাবুল প্যাদার নির্দেশেই আয়শাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে বাবার সহায়তায় রুবেল প্যাদা ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর আয়শাকে নিখোঁজ দেখিয়ে বাবা বাবুল প্যাদা পরদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশের সন্দেহ হলে তদন্তের একপর্যায়ে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুবেল প্যাদা হত্যার কথা স্বীকার করেন। সোমবার বিকেলে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দোলন হাসানের কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বাবুল প্যাদাকেও হুকুমের আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত তদন্ত চালিয়ে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তের বাকি অংশ চলমান রয়েছে।