খবর ডেস্ক :

দেশে প্রথমবার অমৌসুমি নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, খেজুর রস খাওয়ায় সতর্কতা
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত এবং বিস্তার লাভ করেছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। পাশাপাশি সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

গত বছর নিপা ভাইরাস শনাক্তের চারটি কেসেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে মহাখালী আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার প্রসঙ্গে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ।
প্রবন্ধে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব।

মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিমা আক্তার (২১) চাকুরি করতেন গৌরনদী টরকী বন্দরস্থ একটি থেরাপি সেন্টারে। পরিচয় হয় গৌরনদী বার্থী ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী মোঃ মেহেদী হাসানের সাথে। এক সময় দুই জনের মধ্যে গড়ে উঠে সম্পর্ক। স্ট্যাম্প দেখিয়ে কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে বলে সিমার সাথে শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হন। গর্ভবতী হয়ে যায় সিমা। বর্তমানে গর্ভে ৮ মাসের সন্তান নিয়ে মেহেদীকে স্বামী হিসেবে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি সম্পর্কে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর উপরোক্ত অভিযোগ তুলে ধরে ডাকযোগে গৌরনদী “অফিসার ইনচার্জ” বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সিমা। অন্যদিকে, সিমার গর্ভে সন্তান আসার পরপরই মেহেদী হাসান গৌরনদী বার্থী ইউনিয়ন ভূমি থেকে বদলি হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় চলে যান।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হলেন- গৌরনদী বাটাজোর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মোঃ মোতালেব হোসেন পেদা ও মোসা. জায়েদা খাতুনের সন্তান।

লিখিত অভিযোগে সিমা উল্লেখ করেন, তারা দুই জনই গৌরনদী থানার বাসিন্দা। আসা-যাওয়ার পর মেহেদী হাসান একপর্যায় আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে বিয়েতে রাজি করায়। একটি স্ট্যাম্প এনে আমাকে দেখিয়ে বলেন- তোমার সাথে আমার কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেছে। পরে শারীরিক মেলা মেশার মধ্যে মেহেদীর ঔরসে আমার গর্ভে সন্তান আসে। বর্তমানে যার বয়স ৮ মাস। আমার পেটের বাচ্চার কথা বললে- মেহেদী সম্পূর্ণ অস্বীকার যায় এবং বলে ঐ বাচ্চা আমার না এবং আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

সিমার চাওয়া পাওয়া হল- মেহেদী হাসানের সাথে সুষ্ঠু সমাধান পূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি তাহার সু-ব্যবস্থা করা।

প্রতিবেদকের প্রশ্ন উত্তরে সিমা বলেন, ডিএনএ টেস্টে করলেও তার পেটের সন্তানের বাবা মেহেদী আসবেন বলে জানান। তাই সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মেহেদী হাসানের ব্যবহৃত পর পর ৩টি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেলেও এই নম্বরে ( ০১৭২৫৪৯৭০৩৮) রিসিভ করেন মোসা. জায়েদা খাতুন। তিনি মেহেদীর মা। তিনি বলেন, সিমার গর্ভে কোন সন্তান নেই। সে মিথ্যা কথা বলে। অর্থ সম্পদ নেয়ার ধান্ধায় রয়েছে। মেয়েটি তার ছেলের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি এলাকার অনেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানে। সিমা মামলা করুক। তা করে না কেন?

এ সব প্রশ্নের জবাবে সিমা জানান- আরো তার জমানো টাকা সহ হাতের মুঠোফোনটিও মেহেদী নিয়ে গেছে। যাতে সম্পর্কের অনেক ডকুমেন্ট ছিল।

খবর ডেস্ক :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ১৪টি বিভাগের (কেন্দ্র) ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে একেএম রাকিব (ছাত্রদল) ১৫০৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াজুল (শিবির) ১৪৪৬ ভোট পেয়েছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জকসু নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে সহ সভাপতি (ভিপি) পদে এগিয়ে আছেন ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব। তিনি পেয়েছেন ১৫০৩ ভোট।

রাকিবের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৪৪৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৫২৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা। তিনি পেয়েছেন ৭৫৬ ভোট।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ১৪২৭ ভোট।

একই পদে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ১২৩৯ ভোট।
নির্বাচন কমিশন জানায়, অন্য বিভাগগুলোর ফলাফল গণনা চলছে। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো- ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।

খবর বিনোদন ডেস্ক :
এতদিন বিয়ে নিয়ে কোনো কথার উত্তর না দিলেও এবার এক নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বিয়ে নিয়ে কথা বললেন শ্রদ্ধা।

২০২৪ সালের শুরুতে মুম্বাইতে একটি ডিনার ডেটে শ্রদ্ধা কাপুর এবং রাহুল মোদীকে একসঙ্গে দেখার পর তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে দুজনেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্পর্ক নিয়ে কিছু জানাননি।

এরমধ্যে তাদের আরও কয়েকবার একসঙ্গে খাবার খেতে দেখা যায় কখনও একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায় বিমানে।

এদিকে তাদের বিয়ের গুঞ্জন শোনা যায় সর্বত্র। কবে তারা বিয়ে করবেন বা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন এমন প্রশ্ন অনুরাগীদের মনে।

এতদিন বিয়ে নিয়ে কোনো কথার উত্তর না দিলেও এবার এক নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বিয়ে নিয়ে কথা বললেন শ্রদ্ধা। মঙ্গলবার অভিনেত্রী নিজের গয়নার ব্র্যান্ডের প্রমোশনাল ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে আগামী ভ্যালেন্টাইন্স ডের বিভিন্ন রকম গয়নার ডিজাইন দেখিয়েছিলেন তিনি।

তবে গয়নার থেকেও শ্রদ্ধার বিয়ে নিয়ে মানুষের বেশি উৎসাহ ছিল। প্রতিবারের মতো এবারেও এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী শ্রদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বিয়ে কবে করবেন? নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি জবাব দিয়ে শ্রদ্ধা লেখেন, করব, অবশ্যই করব।

শ্রদ্ধার এই তাৎক্ষণিক উত্তর সবার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। শ্রদ্ধার কথার উত্তরে একজন লিখেছেন, “কবে করবেন?” কেউ আবার লিখেছেন, “কাকে করবেন?” সবাই শ্রদ্ধার বিয়ের ডেট জানার জন্য ভীষণভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কমেন্ট বক্সে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই শক্তি কাপুরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায় শ্রদ্ধাকে। হাসপাতালের বাইরে ছবি শিকারিদের দেখে ভীষণভাবে বিরক্ত হন শ্রদ্ধা। হাত নাড়িয়ে সবাইকে থামতে বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার ঢাকায় মামলাটি দায়ের করেন বলে সাংবাদিকদের জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদক আইনের ২৬(১) ধারায় সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওযা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬(২) ধারায় ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত’ হয়েছে।

দুদক বলছে, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়া যায়।

এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সাদিক আবদুল্লাহর নামে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়।

নোটিস পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর দুদকের একজন কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরমের মূল কপি বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি সাদিক আবদুল্লাহ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের অনেক এলাকার মত বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আয়শার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ও চাচাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তাররা হলেন— আয়শার বাবা বাবুল প্যাদা (৪৮) ও চাচা রুবেল প্যাদা (৩৫)। একই দিন নিহত আয়শার বড় বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রুবেল প্যাদাকে।

পুলিশ জানায়, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও সম্মান রক্ষার অজুহাতে বাবুল প্যাদার নির্দেশেই আয়শাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে বাবার সহায়তায় রুবেল প্যাদা ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর আয়শাকে নিখোঁজ দেখিয়ে বাবা বাবুল প্যাদা পরদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশের সন্দেহ হলে তদন্তের একপর্যায়ে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুবেল প্যাদা হত্যার কথা স্বীকার করেন। সোমবার বিকেলে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দোলন হাসানের কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বাবুল প্যাদাকেও হুকুমের আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত তদন্ত চালিয়ে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তের বাকি অংশ চলমান রয়েছে।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফিরাত কামনায় কুয়াকাটা পৌর বিএনপির মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া মোনাজাত শেষে ৫ হাজার মানুষের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারী)আসরের নামাজ বাদ কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কুয়াকাটা পৌর শাখার উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আঃ আজিজ মুসুল্লীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য খান  রবিউল ইসলাম রবি,কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন সিকদার,উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু,কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মোঃ ফারুক,মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আঃ জলিল হাওলাদার,সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ, সাংগঠনিক  সম্পাদক  অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন,কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু, জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার আমীর মওলানা শহিদুল ইসলাম,শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মন্ডল,কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল,সাধারণ সম্পাদক, মতিউর রহমান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক,সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন প্রমুখ। এছাড়াও কলাপাড়া, মহিপুর এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন,বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন আপসহীন ছিলেন। ক্ষমতার মোহ নয়, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষাই ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন।
তিনি বলেন,আজ কুয়াকাটার সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন, যা প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়া জনগণের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে অবস্থান করছেন। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দোয়া করছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন,বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপার্সন নন, তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতীক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার আপোষহীন নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তেমনি বেগম জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন,আজকের এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং একই সঙ্গে দেশবাসীর মুক্তি, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।

মিলাদ মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাইতুল আরজ জামে মসজিদে ইমাম আলহাজ্ব কারী মো: নজরুল ইসলাম।

দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ এ সময় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর পৌরসভার পরমানন্দসাহা গ্রামের ৩ সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পুলিশ কনস্টেবল কর্তৃক অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দায়ের করেও বিচার না পেয়ে হতাশা ভুগছে গৃহবধূ। অভিযোগ সুত্রে জানা যায় নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামের মৃত ছালাম মিয়ার মেয়ে মোসাঃ তাসলিমা আক্তার সাথি (২৬)এর সাথে বরিশাল জেলার উজিরপুর পৌরসভার পরমানন্দসাহা গ্রামের আলামিনের সাথে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৩টি পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে ৪/৫ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় ।

কলহের কারনে দুই বছর পূর্বে ভোলা জেলার আলিনগর ইউনিয়নের সাছিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ থানার কনস্টবল মোঃ শাহিন আজাদ(ব্যাচ নং-১১৩৯) মোসাঃ তাসলিমা আক্তার সাথিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্বর্বঃসান্ত করেন । এ ঘটনায় গৃহবধু তাসলিমা আক্তার সাথি সাংবাদিকদের কান্নার কন্ঠে বলেন লম্পট শাহিন আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এবং ঢাকায় যাওয়ার সময় লঞ্চের কেবিন রুমে প্রায়ই শারিরীক সম্পর্ক ও যৌন নিপিড়ন করে থাকে।

এঘটনা আমার স্বামী আলামিন জানতে পেরে আমাকে তালাক প্রদান করে । শাহিনের বিরুদ্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও বিচার পাইনি।

এমনকি আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও তাকে গ্রেফতার করেনি কোতোয়ালি থানা পুলিশ।তার জন্য আমার স্বামীর সংসার ভেঙে গেছে এবং আমি তালাকপ্রাপ্ত হই। অভিযুক্ত পুলিশের মোবাইল ফোনে ফোন করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে পুলিশ কনস্টেবলের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন অসহায় ভুক্তভোগী নারী।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও মানবিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত কুয়াকাটায় বসবাসরত রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুয়াকাটার ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে প্রায় ৭০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আমখলাপাড়া, মিস্ট্রিপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে সরাসরি গিয়ে প্রায় ১০০ জন রাখাইন নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, সিপিপি’র সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছদুল আলমসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন,শীত মৌসুমে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের কষ্ট বেশি বেড়ে যায়। রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের একটি মানবিক দায়িত্ব। এই কার্যক্রম শীতকালজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মানুষ যেন শীতের কারণে কষ্ট না পায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

কম্বল পেয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শীতের এই দুর্যোগময় সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খবর ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই–বাছাই শেষে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বরিশাল জেলার ছয়টি আসন থেকে ৬২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন প্রার্থীরা।

এর মধ্যে থেকে ৪৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। গত ২ ও ৩ জানুয়ারি দুই দফায় যাচাই–বাছাই শেষে রোববার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র ও তার সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪১ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাকি ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বরিশাল–২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ। বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ. সত্তার খান এবং বরিশাল–৫ (সদর) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম ও একই আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তাদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামা, ভোটার তালিকা, প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীর তথ্যসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ত্রুটি ও অসংগতি থাকায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমান জানান, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বোর্ডে আপিল করতে পারবেন। আপিলে বৈধতা পেলে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বরিশাল–১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচজন, বরিশাল–২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে ১০ জন, বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে নয়জন, বরিশাল–৪ আসনে ছয়জন, বরিশাল–৫ (সদর) আসনে ১০ জন এবং বরিশাল–৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।