নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় জনবহুল একটি খেয়াঘাটে টোল ফ্রি ঘোষণা দিয়েছেন, নৌপথ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাজিব আহসান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মনির হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, উপজেলার পুরাতন হিজলার জনবহুল খেয়াঘাটে আর কোনো টোল নেওয়া হবে না। এই খেয়াঘাট দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। টোল ফ্রি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, জনগণ আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন।

আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। যারা আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন করবেন, তারা জনগণের কাছে যান, তাদের ভালোবাসা অর্জন করুন।
এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অবৈধ বালু উত্তোলন, জুয়া, মাদক ও সালিশি বাণিজ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, খেয়াঘাটের টোল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তি হয়ে উঠবে।

শাহিন সুমন :
বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে কাকে দেখতে চান নগরবাসী? এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা বরিশালে কোনদিন রাজনীতি করে নাই তারা এখন মেয়র চায় এমন প্রশ্নেও অনেকে করছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ কিংবা সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নগরকেন্দ্রিক প্রশাসনিক পদে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে যিনি দীর্ঘদিন নগর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে গতি আনতে সহায়ক হতে পারে।

মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত যিনি আন্দোলনে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং নগরবাসীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর ওপর। দলের জন্য কার কী অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ যারা জাতীয় রাজনীতি করেন। ৫ আগস্টের পর বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন দীর্ঘ দিন রাজনীতিতে থাকলেও মাঠে সক্রিয় ভূমিকায় চোখে পড়েনী নেতা কর্মিদের। কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন কে অনেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে বিবেচনায় রাকছেন, তবে তিনি আশাবাদি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে বরিশাল মহানগরে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন। মিছিল-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, প্রতিবাদ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন হামলা মামলা শিকার হয়েছেন তারা। তারাও আশা করছেন দলের চেয়ারম্যান বিগত দিনগুলোর কথা চিন্তা করে তাদের দিকে সু-দৃষ্টি দেবেন।

এছাড়াও মহানগরের সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন নান্নু, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিনও এ পদটির প্রত্যাশা করছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক ভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্থান পেয়েছে। বাকি সিটি করপোরেশন গুলোতেও এমন ভাবে প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে খবরে শুরু হয়েছে লবিং তদবির। আর এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এসেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা, কে হচ্ছেন নতুন প্রশাসক? স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক বিএনপি নেতার নাম রয়েছে আলোচনায়। রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি তৎপরতা। যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নগর পরিষদ ভেঙে দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ৩০টি ওয়ার্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন। তাদের অনেকেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও জানা গেছে। এছাড়াও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ কে.এম শহিদুল্লাহ, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন নান্নু, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন ও এ পদটির প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির বেশকয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন নিয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে দলের দুর্দিনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।

বরিশালের সচেতন মহল মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ এ পদে দলের দূর সময়ে নেতা কর্মিদের পাশে থেকে তাদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করা ছাড়াও সব সময় নেতা কর্মিদের পাশে থেকেছেন। এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করে স্থানীয় দাবিদারদের হক কেড়ে নেয়ার ব্যপারটিও দেখতে হবে। যাতে তারাও বঞ্চিত না হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গতকাল আসরের সময়ও আছিয়া বেগম চিন্তায় ছিলেন, ইফতারে কী দিয়ে রোজা ভাঙবেন। ঘরে তেমন কোনো খাদ্যসামগ্রী ছিল না, শেষ কয়েক মাসে মুরগির মাংস তো দূরের কথা, নিয়মিত বাজার করাও ছিল তার কাছে স্বপ্নের মতো।

কিন্তু একদিনের ব্যবধানে বদলে গেল সেই দৃশ্য। আজ আসর নামাজের পরই তার ঘরে পৌঁছে যায় পুরো এক মাসের বাজারসামগ্রী। চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু-পেঁয়াজের পাশাপাশি রয়েছে মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য। দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ মাস পর নিজের ঘরে মাছ-মাংস দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আছিয়া বেগম।

জানা গেছে, অসহায় এ নারীর সংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার এর। এরপর তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেই তার বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, “রাজনীতি মানুষের জন্য। সমাজের অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব।

আছিয়া বেগম সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সহায়তা তার পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে, বিশেষ করে রমজানের সময়ে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলেন, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বার কাউন্সিলের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন পাঠান মহানগর দায়রা জজ।

এর আগে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন বরিশাল মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন।

তারা তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগর দায়রা জজের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পাশাপাশি ঘটনায় সঙ্গে জড়িত বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগরের পিপিসহ জড়িত ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিল করতে বার কাউন্সিলের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর সুপারিশ করেন মহানগর দায়রা জজ।

অপরদিকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন। আদালত অবমাননার ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

একইসাথে তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।

রুল জারি হওয়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নয় সদস্য হলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন, সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর পিপি নাজিমুদ্দিন আহম্মেদ পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু।

এর আগে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট করা, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিচার কাজে বাঁধা এবং এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা, সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।

পরে সাদিকুর রহমান লিংকনকে বুধবার গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১৫-২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

এরপর দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে আইনজীবীকে শুনানি করতে নিষেধ করেন। তবে আইনজীবী বিপ্লব শুনানি চালিয়ে যেতে থাকলে উপস্থিত আইনজীবীদের বারের সভাপতি এজলাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বারের সভাপতি একজন আইনজীবীকে এজলাসেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে থাকা আইনজীবীরা জিআরও শম্ভু এবং কোর্ট ইন্সপেক্টর তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাঙচুর করেন। এজলাসে থাকা কজলিস্ট, মামলা দায়ের রেজিস্ট্রার ছিঁড়ে নষ্ট করে আদালত এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন।

বারের সভাপতি এজলাসে থাকা টেবিল ভেঙে ফেলেন, বসার টুল ছুড়ে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের কোর্ট থেকে বের করে দেন। এমনকি বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমার লিংকনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে মানব পাচার আইনে দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন- বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জঙ্গু বেপারীর ছেলে শামীম বেপারী (৩৩) ও রুবেল বেপারী (২৭)।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিতরা পলাতক ছিলেন।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা বলেন, ২০২৩ সালে ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা নাছরিন বেগম। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন তার ছেলেকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে কেনিয়া নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময় আসামিরা সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলা আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে গৌরনদী মডেল থানার এসআই মজিবর রহমান ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।

বিচারক সাতজনের সাক্ষ্য নিয়ে রায় দিয়েছেন। রায়ে করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে এক বিএনপি নেতাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থি নানা আচরণের কারণে বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ্ আলম মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থি নানা আচরণের কারণে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মিরাজের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। সব নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজ এখনো হাতে পাইনি।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনকে আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালত চলাকালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হট্টগোলের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনজীবী সমিতির এনেক্স ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে সেখান থেকে তাকে আদালতের পুলিশি হেফাজতখানায় নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় সভাপতির মুক্তির দাবিতে জেলা জজ আদালত ভবনের নিচে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও আইনজীবী সমিতি বিক্ষোভ করেছে। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা সভাপতির মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলাকালে সেখানে ঢুকে হট্টগোল করেন কয়েকজন আইনজীবী। এসময় বেঞ্চ ওলটপালট করা হয়। বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

তখন এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক।
এ ঘটনার জেরে আজ আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা জানান, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বেআইনিভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে সোমবার জামিন দিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছিলেন আইনজীবীরা।

এদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

খবর ডেস্ক :
আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যে তাকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। সেখানে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে মহানগর হাকিমের দ্রুত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

শুনানি শেষে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন দিয়েছেন।

আইনজীবী মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, তারা সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু আদালত অনুমতি দেয়নি। আদেশের পর একটি প্রিজন ভ্যানে করে আইনজীবী লিংকনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন।

পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন, অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন।

মামলায় বলা হয়, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আসামিরাসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তারা বিচারকদের উদ্দেশে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তারা হট্টগোল করেন।

এতে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা ইউনিয়নের বেজহার গ্রামে ব্র্যাকের স্বপ্নসারথি কিশোরীদের জীবন দক্ষতা বিষয়ক সেশন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) BRAC-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেলপ) আওতায় “ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং: পর্ব-০১” শীর্ষক জীবন দক্ষতা সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া কিশোরীরা নিজেদের স্বপ্ন, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায় তা ব্যাখ্যা করে।

সেশনটি পরিদর্শন করেন গৌরনদী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম। তিনি কিশোরীদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি মনোযোগী থাকা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের বরিশাল জেলার ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রিসান রেজা মোঃ সাহেদ, জেলা ব্যবস্থাপক (সেলপ) মোঃ নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সেশনটি পরিচালনা করেন মোসাঃ আছমা আক্তার, অফিসার (সেলপ)। সার্বিক সহযোগিতা করেন ফাহানা সরদার, সি.ও (সেলপ)।

আয়োজকরা জানান, কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন পরিকল্পনায় সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।