বৃষ্টিতে ভিজে, গান গেয়ে ও স্লোগান দিয়েই কোটা বাতিলের দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সময় অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন।
বৃষ্টিতে ভিজে, গান গেয়ে ও স্লোগান দিয়েই কোটা বাতিলের দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সময় অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৃষ্টিতে ভিজে, গান গেয়ে ও স্লোগান দিয়েই কোটা বাতিলের দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে আন্দোলনস্থলের দু’পাশে ফাঁকা মহাসড়কে ফুটবল খেলায় মগ্ন হন শিক্ষার্থীরা। সড়কের দু’পাশে যানবাহনের জটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সময় অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন।
রোববার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রথমে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় এক শিক্ষার্থীকে কাফনের কাপড় পড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, আন্দোলন শুরুর ঘণ্টাখানেক পরে মুষলধারে বৃষ্টি নামলে, সেই বৃষ্টিতে ভিজেই আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। আর মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে কয়েক দল শিক্ষার্থী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটবল খেলায় মগ্ন হন। খেলার ফাঁকে ফাঁকে তাদেরও কোটা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে এবং সব চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন নিতে বাধ্য হবেন তারা।
এদিকে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সড়কের দু’পাশে যানবাহনের জটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সময় অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটাতে দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফারিয়া সুলতানা লিজা বলেন, ২০১৮ সালে আমাদের অধিকার ফিরে পেয়েছিলাম অথচ তা আবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কোটা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকবো। আমাদের কোটার প্রয়োজন নেই। কোটা আমাদের দেশের মেধাকে শূন্য করে দিচ্ছে। এটা শুধু আমাদের দাবি না, পুরো দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি। তাই শিগগিরই কোটা বাতিল করা হোক।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর মুকুল বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় সজাগ আছে। যানবাহন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি যাতে তারা দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দেয়।
সূত্র : বাংলানিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা বিরোধী আন্দোলন পন্ড করেছে ছাত্রলীগ।
আজ বিকাল ৫ টায় আন্দোলন চলাকালে দপদপিয়া সেতুর দক্ষিণ ঢালে মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়ার অভিযোগ এনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়।
এসময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের অন্যান্য কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ করে রাখা যানবাহন ছেড়ে দেয়। এসময় ভিডিও করতে গেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্য ও বরিশাল পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আবু উবায়দাকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তার ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে ফোন ফিরিয়ে দেয়।
তবে এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাস চলাচল চালুর প্রতিবাদ জানায় এবং পুনরায় অবরোধের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তা আর সফল হয় না। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এবিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোনা মন্তব্য করতে রাজী হননি।
ছাত্রলীগের কর্মীরা দাবী করেন গাড়িতে ধাক্কা দেয়ায় সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে সংঘর্ষ ঘটেছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মুকুল জনান, শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে কেউ কোনো অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর: বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
৩ জুলাই বুধবার উজিরপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারী, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি হাসনাত জাহান খান,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ শওকত আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম শিপন মোল্লা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদা পারভীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর জামান,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্রাম হোসেন, উজিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ তৌহিদুজ্জামান সোহাগ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাখাওয়াত হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ শওকত আলী তামাকের কূ-ফল নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কর্মকর্তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের ব্যানারে যে কোন ধরণের কর্মসূচী পালন
কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (০২ জুলাই) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফয়সল মাহমুদ প্রেরিত এক নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম সাক্ষরিত ওই নোটিসে বলা হয়েছে- “এতদ্বারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য ০২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে কর্মকর্তাদের মধ্যে সংগঠিত অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের ব্যানারে যে কোন ধরণের কর্মসূচী পালন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাময়িক স্থগিত করা হল।
উল্লেখ্য যে, প্রক্টর অফিসের পূর্বানুমতি ব্যতীত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের ব্যানারে কোন ধরণের কর্মসূচী পালন করা যাবে না।”
আর এ নোটিসের অনুলিপি অফিস নথিতে সংরক্ষন করাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, উপাচার্যর একান্ত সচিবসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েসন, ১১-১৬ গ্রেড ও ১৭-২০ গ্রেড পরিষদের সভাপতি/সম্পাদককে প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দীন গোলাপ বলেন, নোটিস হাতে পেয়েছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বাকি তিনটি সংগঠন ও আমাদের সংগঠনের বাকী নেতাকর্মীদের সাথে কথা না বলে এ বিষয়ে এ মুহুর্তে কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
এদিকে কর্মচারী পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন, যা ঘটেছে তা কর্মকর্তাদের মাঝে, এ নিয়ে তাদের কর্মসূচি পালনে প্রভাব পড়তে পারে। তবে কর্মচারীদের কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত অন্য সংগঠনগুলোকে একইভাবে নোটিস দেয়া উচিত ছিল। এখানে বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
উল্লেখ্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোতে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শিশুদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার স্থাপন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ জুন) বেলা ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল -এর ২৪ তম ব্যাচের বরিশাল তরুণ ফেলোদের ফেলোশিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি এর তিন তরুণ নেতৃবৃন্দ শিশুদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার স্থাপনের জন্য এডভোকেসি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ২৪ তম ব্যাচের ইয়ং লিডার ফেলো ও ছাত্র সমাজের বরিশাল জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক তারিকুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য মাসরূফ আল নাফিজ এবং ছাত্রদলের বরিশাল জেলা শাখার ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মহুয়া মান্নান আইভী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জনবহুল বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শিশুদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পানের স্থান জরুরী। এখানে প্রতিদিন ৫হাজারের অধিক নারী ও শিশুদের যাতায়াত রয়েছে। এখানে যাতায়াত কালীন সময়ে নারী এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। বাস টার্মিনালে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকেন, তাই এই সময়ে মাতৃদুগ্ধপানকারী শিশুদের খাদ্যচাহিদা পূরণে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার জরুরী। কিন্তু তা না থাকায় মায়েরা তাদের নবজাতক শিশুদের সময়মত খাওয়াতে পারছেন না যার ফলে শিশুরা খাদ্যাভাবে নানা রকম জটিলতায় ভোগে।
৫০০ এর অধিক জনসাধারনের গণস্বাক্ষর নিয়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণারের জন্য একটি পিটিশন কেন্দ্রীয় বাস মালিক সভাপতি অসীম দেওয়ান বরাবর দাখিল করা হয়। সভাপতি দ্রুতই মাতৃ দুগ্ধ পান কেন্দ্র স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থান নির্ধারণ করে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিশুদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার স্থাপন করা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তরুণ ফেলোরা আরও বলেন, আমরা তিন জন তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও জনগণের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে একই সাথে অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা রাজনৈতিক নেতারা যদি মতাদর্শের পার্থক্যকে রাজনৈতিক গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে জনগণের কল্যাণে একত্রিত হয়ে কাজ করি তাহলে অনেক নাগরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। সেভাবে একটি সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘ দিনের নাগরিক সমস্যার সমাধান হওয়ার বিষয়টি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মিজানুর রহমান, মিলন ভূইয়া, শাহনাজ পারভিন মিতা, বিএনপির মাহমুদ হোসেইন আল মামুন, হাফিজ আহমেদ বাবলু, মারিয়া মুন্নি এবং জাতীয় পার্টি থেকে এ,কে,এম মোস্তফা, মাসুমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর ডেপুটি ডিরেক্টর দিপু হাফিজুর রহমান ।
উল্লেখ্য , ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর এইএসএআইডি-এর অর্থায়নে এসপিএল প্রকল্পের আওতায় তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফেলোশীপ প্রদান করা হয় ৷
উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া :
লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বাতাসের তীব্রতা অনেকটা বেড়েছে।
নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যে কোন সময় ঝড়ো হাওয়া ঝড়ো যেতে পারে। তাই পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী সাংবাদিকদের জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে ও বায়ুচাপ তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।
তাই উপকূলীয় এলাকায় অতিভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঝড়ো বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
কলাপাড়া প্রতিনিধি :
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও খাল, বিল, জলাশয় দখল মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কলাপাড়া নাগরিক উদ্যোগ। এতে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ অংশগ্রন করেন।
শনিবার বেলা ১১ টায় পৌর শহরের শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সড়কের মনোহরী পট্টিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া নাগরিক উদ্যোগের আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো.ফজলুর রহমান সানু সিকদার, প্রবীন শিক্ষক অমল কর্মকার, শিক্ষক জিসান হায়দার আলমগীর,সন্মিলিত নাগরিক অধিকার জোট কলাপাড়ার সাধারন সম্পাদক গৌতম চন্দ্র হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.রাশেল মীর সহ বাংলাদেশ উদিচি শিল্পী গোষ্ঠী কলাপাড়া শাখার সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, এক মাসের বেশী সময় ধরে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুত থাকছে না। এছাড়া পৌরশহরের চিংগড়িয়া, এতিমখানা, রহমতপুর এলাকায় ঐতিহ্যবাহি জ্বীন খালটি কতিপয় দূর্বৃত্তরা দখল করে আছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাঁগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে খালটি তার নিজস্বতা হারাচ্ছে। অবিলম্বে তারা খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন।
মো: এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থী, ভয়ে ২ দিন ধরে নিখোঁজ শিক্ষার্থী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুন্ড গ্রামে এ.আর.তালুকদার কমপ্লেক্স মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা শাহিন হাফেজি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র মাহিম মল্লিক(১৩) কে ২৬ জুন দুপুরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। হুমকির মুখে আতঙ্কে ওই শিশু মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
এদিকে সন্তানের খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পরে বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন। এরপর অনেক খোজাখুজির পরে ঘটনার দুই দিন পরে ২৮ জুন শুক্রবার সকালে শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়।
সুত্রে জানা যায়,মাহিম তার নানা খোলনা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মজিবর রহমান খানের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে। মাহিম জল্লা ইউনিয়নের মুন্সিরতালুক গ্রামের সৌদি প্রবাসী আরিফ মল্লিকের ছেলে।
হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী মাহিম মল্লিক সাংবাদিকদের কান্না করে বলে, শাহিন হুজুর আমাকে মাদ্রাসা থেকে নানা বাড়িতে যাওয়ার অপরাধে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে ৪০/৫০ টি আঘাত করে এবং পরবর্তীতে পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। তাই ভয়ে আমি নানা বাড়িতে না গিয়ে হেটে অনেক দুরে চলে যাই। আমাকে কয়েকজন লোক খাবার ও চিকিৎসা করায় এবং ঘুমাতে দেয়। শিক্ষার্থীর নানা সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মজিবর রহমান খান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবী জানান এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা শাহিন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ক্ষমা করুন ভবিষ্যতে আর কোন শিক্ষার্থীকে পিটাবো না। মুহতামিম মাওলানা নুরুল আলম জানান,মাহিম আমাদের কাউকে কিছু না বলে বাড়িতে চলে যাওয়ায় তার মায়ের সামনেই তাকে পিটিয়েছে শিক্ষক শাহিন। এতে সমস্যা কোথায়।
তিনি নিখোঁজের বিষয়টি অস্বীকার করেন। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার বলেন,কোন শিক্ষার্থীকে মারধর করা আইনসম্মত নয়। আমি অসুস্থ ঢাকায় আছি, সুস্থ হয়ে বাড়িতে এসে বিষয়টি মিমাংসা করবো।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ জানান,বিষয়টি জানা নেই, ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্স পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম জাহিদ হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান,বিষয়টি জানা নেই,তবে খতিয়ে দেখা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।
অপরদিকে হামলার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম ও অভিযুক্ত শিক্ষক। এদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে অচিরেই গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও এলাকাবাসী।