খবর ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান তার দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

এ সময় কিছুটা দূরত্বে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এর বাইরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে দাঁড়িয়ে দাফন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।

এর আগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে কবরে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এরপর সেখানে নিয়ম মেনে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তারও আগে, বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপি ও বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া চান এবং মায়ের পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

‘গর্ব করে বলতে পারব আমরা খালেদা জিয়ার কর্মী’
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা খালেদা জিয়া গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ নভেম্বর আবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। দেড় মাসের মতো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল তিনি মারা যান।

 

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪৩ বছর দলকে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় ‘আপসহীন নেত্রীর’ উপাধি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানকে হারানোর বেদনা নিয়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সংকটে পড়ে বিএনপি। ঠিক সেই সময় সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়াকে কখনো তার বিরোধীদের আক্রমণ করে কথা বলতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলি না।

খবর ডেস্ক :

মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এ অনুভূতি প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, প্রিয় মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতে তারেক রহমান লেখেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তবে এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের উপস্থিতি তাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেখেন, ‘অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।’

আন্তর্জাতিক মহলের উপস্থিতির কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।’

এছাড়া যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।’

শোকের এই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তারেক রহমান লেখেন, ‘আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও উত্তরাধিকারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন।’ তিনি জানান, ‘আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি।’

একই সঙ্গে তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, ‘একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে।’

সবশেষে তিনি দোয়া কামনা করে লেখেন, ‘আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন,’ এবং তার রেখে যাওয়া ‘অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কুয়াকাটায় শোকসভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আসর নামাজের পর হোটেলের গ্র্যান্ড ইন হলরুমে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্তানবুল হোটেল এমডি এমদাদুল হক,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ঘরামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রে তার ভূমিকা এবং দেশের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শোকসভায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সাগর সৈকত জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মোস্তফা কামাল। দোয়া মোনাজাতে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের কল্যাণ কামনা করা হয়।

শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ বিন সাঈদী বলেন,বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে হারিয়েছে।আরও বলেন, তিনি আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং কখনো তাদের নিয়ে কটূক্তি করেননি।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, মহিপুর প্রেসক্লাব, লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপি, মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও ধুলাসার ইউনিয়ন বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৩০ শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ ভোর সকাল ৬ টায় এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুতে অত্যান্ত ভারাক্রান্ত  হৃদয়ে শোকাহত হয়ে শোক প্রকাশ করেন বিএনপির মাননীয় চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা এবং বরিশাল সদর ৫ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরওয়ার।

 

অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরওয়ার বরিশাল সদর ৫ আসনের বিএনপি  সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাত দিনের সকল শোকের  কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দান করেছেন।

 

মোহাম্মদ মজিবর রহমান সরওয়ার আপোষহীন  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী রুহের মাগফেরাতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, মহান আল্লাহতালা যেন মরহুমা  বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেন। আমিন।

 

এডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সারওয়ার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শোকাহত  হৃদয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন।

 

 অনলাইন ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে শোকবই খোলা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই শোকবই খোলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এতে শোক প্রকাশ করে সমবেদনা জানানো যাবে।

গণমাধ্যমকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, এই শোক বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাতে পারবেন।

 

শোক বইতে স্বাক্ষরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে-মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ও বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শোক বই খোলা থাকবে।

 

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

খবর ডেস্ক :

আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং শহীদ জিয়ার পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

 

মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ মিটিং শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে।

 

জানাজার পর তাঁকে (বেগম খালেদা জিয়া) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবন এলাকার সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে শহীদ জিয়ার পাশে দাফন করা হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৬০টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে।

 

আজ সোমবার সকাল ১১টা থেকে দিনভর হিজলা উপজেলার হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের সাওড়া সৈয়দখালি মৌজার মেঘনা নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

হাইকোর্টের ২০২৫ সালের রিট পিটিশন নং ১৮৪৪৮ অনুযায়ী, হিজলা উপজেলার ৩৫ নং সাওড়া সৈয়দখালি মৌজার ৩৮৭৮ থেকে ৩৮৮১ নং প্লটে বালু উত্তোলনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে। একই সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দিন-রাত বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা কিছুক্ষণ আগে থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

 

অভিযানস্থল পরিদর্শন শেষে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৬০টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। আমি নিজে কোনো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করিনি, তবে কোস্টগার্ডের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য পেয়েছি। আটককৃত সকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ড্রেজার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘনফুট বালু বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হতো। এছাড়াও বালু বহনকারী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ড্রেজার, বাল্কহেড ও নগদ অর্থ জব্দ করা হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৪৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন।

তিনি জানান, বরিশাল-১ আসনে ৫টি, বরিশাল-২ আসনে ১১টি, বরিশাল-৩ আসনে ১০টি, বরিশাল-৪ আসনে ৬টি, বরিশাল-৫ আসনে ১০টি এবং বরিশাল-৬ আসনে ৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা

বরিশাল-১ আসন (৫ জন):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ কামরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী।

বরিশাল-২ আসন (১১ জন):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান, বাসদ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ই, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, সাহেব আলী, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, এম এ জলিল এবং আব্দুল হক।

বরিশাল-৩ আসন (১০ জন):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদিন, জাতীয় পার্টির মোঃ ইকবাল হোসেন ও ফখরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আ. সত্তার খান, গোলাম কিবরিয়া টিপু, মোঃ আজমুল হাসান জিহাদ এবং ইয়ামিন এইচ এম ফরদিন।

বরিশাল-৪ আসন (৬ জন):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল জব্বার, মোঃ আসাদুজ্জামান ভূইয়া, আব্দুস সালাম খোকন, সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খায়ের এবং আব্দুল জলিল।

বরিশাল-৫ আসন (১০ জন):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মনীষা চক্রবর্ত্তী, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আখতার রহমান, এনপিপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হান্নান সিকদার, এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোঃ তারিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী এ.কে.এম. মাহবুব আলম, বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত প্রার্থী মোঃ সাইদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ তহিদুল ইসলাম।

বরিশাল-৬ আসন (৬ জন):
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ মাহমুদুন্নবী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন খান, গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম খান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইসহ পরবর্তী নির্বাচন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে শুরু হচ্ছে বরিশাল বিভাগীয় বইমেলা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমান।

আজ সোমবার রাত ৮টায় নগরীর সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আহসান হাবিব। প্রেস কনফারেন্সে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নগরীর বেলস্ পার্কে এ বিভাগীয় বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অংশগ্রহণে শতাধিক স্টল থাকবে।

বইমেলাকে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বরিশাল বিভাগের কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেলে কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, বইমেলাটি চলবে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাট) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রিয়াজুর রহমান’র নিকট তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও খেলাফত মজলিসের বরিশাল (পূর্ব) জেলা সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন কামাল, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. সাইফুর রহমান, এ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন ও নুরুল হক সোহরাব, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা আমির অধ্যাপক নুরুল আমিন ও কাজিরহাট থানা আমীর মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন দাখিলের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জব্বার বলেন, দেশে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরী হয়নি। এ ব্যাপারে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাছাড়া এই রিমোট এলাকায় আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ বিরোধী জনতার মাঝে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।