মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :

শোককে শক্তিতে পরিনত করে বিএনপির হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের বিপ্লব ঘটাতে হবে। আগামীতে গুঠিয়া ইউনিয়নসহ পুড়ো উজিরপুর- বানারীপাড়া উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে জনসেবা করে যাবো”তাই সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে”উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে বাংলাদেশের ৩ বারের সফল নারী প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানের পূর্বে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

১৮ জানুয়ারী রবিবার আসরবাদ গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গুঠিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লাভলু হোসেন চাপরাশী এর সঞ্চালনায় প্রবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন হাফেজ মোঃ গোলাম রাব্বি এবং উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন খান, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম মিয়া,অত্র কলেজ অধ্যক্ষ এস.এম তাইজুল ইসলাম,বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ইমরান সালেহ প্রিন্স,উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস.এম আলাউদ্দিন,বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ রিয়াজ মৃধা,উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মল্লিক, বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েল, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মঞ্জু খান,উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ ফ ম শামসুদ্দোহা আজাদ, বানারীপাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাব্বির রহমান সুমন, বানারীপাড়া যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ফকির,উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনির মল্লিক, গুঠিয়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক বিমল চন্দ্র হালদার,গুঠিয়া মহেশচন্দ্ৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন । রফিকুর রহমান জগলু, ডহরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুর রহমান জগলু, নারায়নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ বেলায়েত হোসেন, পঞ্চগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন,মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেড.এ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,তানজিলা জান্নাত, মেহেরনিগার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তানজিলা জান্নাত, উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ জিয়া আমিন রাড়ী। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলো বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ। দোয়া মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এদিকে ব্যপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সফল ভাবে এ দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাভলু হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানিয়েছে উপস্থিত অতিথি বৃন্দ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম সম্মানজনক পদক ‘ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জিহাদ।

বাংলাদেশের টেক শিল্পে বিশেষ অবদান এবং দক্ষ জনবল তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে (কর্পোরেট আইকোন সিইও) সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিবি অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের আইটি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও ফ্রীল্যান্সিং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ, এবং টেক টিউবার সোহাগ ৩৬০ এর ফাউন্ডার সোহাগ মিয়া।

২০০৯ সালে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ওয়েব হোস্টিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফার্ম হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক’-এর যাত্রা শুরু করেন জিহাদ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে একটি দক্ষ সাপোর্ট টিম তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে আসছেন।

বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক এর রয়েছে ৪ হাজার এর অধিক গ্রাহক ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটি সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় বিশ্বস্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের আইটি সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা নিয়ে কাজ করছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় জিহাদ বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, বরং পুরো ইঞ্জিনিয়ার বিডি টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা আগামীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশালের শীর্ষ নেতা ও সরকারি ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের সাবেক ভিপি মঈন তুষারকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন তুষার জুলাই আন্দোলনের সময় ১৬ থেকে ১৯ জুলাই সশস্ত্র অবস্থায় শিশু-কিশোরদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র হিরনের সময়কালে মঈন তুষারের উত্থান ঘটে এবং তার প্রভাবেই বি এম কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হাতেম আলী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের একটি অংশের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তার মদদপুষ্ট ছাত্রলীগের কর্মী ডা. সায়েম, ডা. মেহেদী, ডা. সৈকত সহ আর কিছু মাদকাসক্ত ছাত্র বরিশালের রিফিউজি কলোনীর একটি ছেলেকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং তথকালীন বিরোধিদলের নিরীহ ছাত্রদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়। এই সন্ত্রাসি র‍্যাকেটের অন্যতম সদস্য ডা. মাশরেফুল ইসলাম সৈকত এখনো বহাল তবিয়তে বরিশাল কাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী রিফিউজি কলোনীর এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল এবং সে সময় বিরোধী দলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

এছাড়া বি এম কলেজের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে মঈন তুষারের বিরুদ্ধে।

এদিকে, তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় দুই উপজেলার বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অংশটি সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পাশাপাশি সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে কাজ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ডাকা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সঙ্গেই আছি।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “দুই উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কাগজ পেয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছত্তার খান। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল আবেদনও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক ভিডিও বার্তায় আব্দুস সত্তার খান নিজেই এই ঘোষণা দেন। ফলে আসনটিতে নির্বাচনি লড়াইয়ে বিএনপি আর একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

ওই ভিডিও বার্তায় আব্দুস সত্তার খান বলেন, দেশ ও মানুষের সেবার প্রত্যয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ও আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা আমার কাছে সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দলীয় সংহতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

একজন সুশৃঙ্খল দলীয় কর্মী হিসেবে সবসময় তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।
নিজের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করে আব্দুস সত্তার খান বলেন, আগামী দিনে সবাই মিলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

এর আগে বুধবার রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন আব্দুস সত্তার খান।

বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস সত্তার খান।

তিনি মুলাদী পৌর সভার সাবেক মেয়র ও পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ১০ শতাংশ ভোটার তালিকা না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করেন সত্তার খান।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তারেক রহমানের আহ্বানে আব্দুস সত্তার খান নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোয় আসনটিতে বিএনপির নির্বাচনী লড়াই আরও শক্তপোক্ত হলো বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে টেলিভিশন, রেডিও, মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন বরিশাল ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন(বিমজা)এর নতুন সদস্য পদ লাভ করেছেন ২০ সংবাদকর্মী। বুধবার রাতে সংগঠনের নির্বাহী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বরিশাল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমজা সভাপতি মুরাদ আহমেদ।

এসময় সংগঠনের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সাধারন সম্পাদক কাওছার হোসেন,নির্বাহী সদস্য ফিরদাউস সোহাগ, জসিম জিয়া, এম মোফাজ্জেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, সহ সাধারন সম্পাদক শাকিল মাহমুদ, কোষাধ্যক্ষ অমিত হাসান ও প্রচর সম্পাদক আল আমিন জুয়েল প্রমূখ।

আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ২০ জন সংবাদকর্মীকে বিমজার সদস্য পদ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিমজার নতুন সদস্যরা হলেন- নিকুঞ্জ বালা পলাশ(গাজী টিভি),সাঈদ মেমন(বাংলাদেশ প্রতিদিন মাল্টিমিডিয়া), মর্তুজা জুয়েল (দিপ্ত টিভি),শাহিন হাসান (বাংলাভিশন), মিথুন সাহা (বৈশাখী টিভি),পারভেজ রাসেল (মাইটিভি), সাঈদ পান্থ (চ্যানেল আই), নজরুল বিশ্বাস (চ্যানেল এস),মুজিব ফয়সাল (এসএ টিভি),আরিফ উল ইসলাম(আরটিভি),নাহিদ(গ্লোবাল টিভি),কমল পুলক(এনটিভি মাল্টিমিডিয়া), খান রুবেল (কালবেলা মাল্টিমিডিয়া), হৃদয় (যমুনা টিভি ক্যামেরাম্যান), শফিক (দেশটিভি ক্যামেরাম্যান) ,জুয়েল রানা(সমকাল মাল্টিমিডিয়া), জুয়েল (প্রথম বার্তা মাল্টিমিডিয়া) এইচআর হিরা (খবর বরিশাল মাল্টিমিডিয়া),পাভেল ফেরদৌস (বরিশাল টিভি মাল্টিমিডিয়া) ও এইচএম হেলাল (ভয়েস অভ বরিশাল মাল্টিমিডিয়া)।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে গণভোট বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার শেখ হাবিবুর রহমান। বরিশাল সদর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. রাসেল-মনিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক।

এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার, অজিত কুমার দাস, মো. ফজলুর রহমান এবং কবি নজরুল সমাজ কল্যাণ ক্লাব ও পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আ. সেলিমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভায় গণভোটের উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও ভোট প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে কৃষকদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সভায় বক্তারা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটাররা প্রার্থী নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এদিন ভোটারদের দুটি ব্যালট দেওয়া হবে। এর মধ্যে গোলাপি রঙের ব্যালটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদান করা যাবে।

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোট চালু, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটিতে নেতৃত্ব, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মতো প্রস্তাবের পক্ষে মতামত দেওয়া যাবে।

বক্তারা বলেন, গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা। তাই সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে মানবিক সহায়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ। শারীরিকভাবে অক্ষম আনোয়ার মিয়ার চলাচল ও জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে তাকে একটি বিশেষায়িত ভ্যানগাড়ি এবং জীবিকা শুরুর জন্য ২০০টি ডিম প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে চলতি পথে শারীরিকভাবে অক্ষম আনোয়ার মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় স্থানীয়দের। চলাচলের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে রাস্তায় হামাগুড়ি দিয়ে মানুষের সহায়তায় চলতে হতো। ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার জীবন ছিল চরম কষ্টকর ও হৃদয়বিদারক।

এই অসহায় অবস্থায় তার পাশে দাঁড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ। সংগঠনটির উদ্যোগে আনোয়ার মিয়ার চলাচলের সুবিধার্থে একটি বিশেষভাবে প্রস্তুত ভ্যানগাড়ি এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ২০০টি ডিম প্রদান করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সুমন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সহায়তা আনোয়ার মিয়ার হাতে তুলে দেন।

এ সময় বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, এই ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে আনোয়ার মিয়া এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। পাশাপাশি ডিম বিক্রির মাধ্যমে তিনি নিজের পরিবার নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন।

স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহায়তা সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সংগঠনগুলোকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

খবর ডেস্ক :
দীর্ঘ ১৭ বছর পতিত আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য দলগুলো। সেই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনেরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি দলটির নেতাদের। যার ফলশ্রুতিতে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

তবে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যার প্রমাণ মেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামায়।

বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় আসামি হওয়ার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে জামায়াতের তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও বাকিদের নামে আগে-পরে রাজনৈতিক কোনো মামলার তথ্য মেলেনি।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ ৮৪টি মামলা ছিল। তিনি হলেন- জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান। তার বিরুদ্ধে এখনো দুটি মামলা চলমান রয়েছে। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।

এরপর মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন- বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। তিনি ২৫টি মামলার আসামি ছিলেন। মামলাগুলো উচ্চাদালত থেকে বাতিল ও তদন্তে অব্যাহতি পেয়েছেন জয়নুল আবেদীন।

মামলায় আসামি হওয়ার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি ২৩টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

এছাড়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৭টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৬টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। অপর মামলাটিতে জামিনে রয়েছেন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ৬টি মামলার আসামি। তবে সবগুলো মামলাই দুর্নীতি এবং আয়কর ফাঁকির মামলা। এর মধ্যে একটি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এবং অপর পাঁচটি তদন্তনাধীন রয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে আরও ৮টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যেগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া দুইটি মামলার আসামি ছিলেন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন। দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। তবে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামি। এর মধ্যে ছয়টি মামলা বিচারাধীন ও দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

তবে পুরোটাই ব্যতিক্রম চিত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় থাকা দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের হলফনামায়। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একটি অর্থাৎ বরিশাল-৩ ছেড়ে দিয়েছেন সরীক দল এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে।

পাঁচটি আসনে থাকা জামায়াতের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এর মধ্যে বরিশাল-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যার সবগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় ২টি মামলা ছিল। সেই মামলা দুটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান একটি মামলার আসামি ছিলেন। তিনিও মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

তবে বরিশাল-১ আসনে মো. কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং আগে-পরে কোনো মামলার তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি হলফনামায়।

বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া বরিশাল-১ আসনে রাসেল সরদার, বরিশাল-২ আসনে মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, বরিশাল-৩ আসনে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

এর বাইরে বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১১টি এবং বরিশাল সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আখতার রহমানের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। তারা গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন পরবর্তী মামলার আসামি হয়েছেন।

এছাড়া সদর আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং অপরটি উচ্চ আদালতের আদেশে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
সূত্র : দেশকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন উঠে গেছে ট্র্যাকে। এখন এটিকে ট্র্যাকচ্যুত করতে পারে একমাত্র একটি পক্ষ-রাজনীতিবিদ ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা। তারা যদি সদাচরণ করেন, তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি বা শঙ্কা থাকবে না।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ‘জুলাই অভ্যুত্থান: আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি এ সংলাপের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার এমপি হওয়া চাই-এই মানসিকতা থেকে যদি বেরিয়ে আসা যায়, তবে আমরা আশা করতে পারি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, আর আমাদের ট্রেনটি রেলস্টেশনে পৌঁছাবে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো আমাদের নির্বাচনী অঙ্গন অপরিচ্ছন্ন। নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছে।

সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত। যত অন্যায়-অবিচার হয়, তা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় হয়। আর বড় বড় দুর্নীতি হয় বড় বড় আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের যোগসাজশে।

তিনি বলেন, তাই নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিষ্কার করা দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনকেও পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের দুর্বৃত্তদের চালিকাশক্তি হচ্ছে কালো টাকা। এই টাকার প্রভাব দূর করা দরকার। তা দূর করতে হলে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করার জন্য অনেক সংস্কার দরকার, অনেক আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীনভাবে গঠিত হওয়ার কথা, যার দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্টভাবে গঠন করা হয়েছে। তারা আমাদের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত ১৬ বছর আমরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এজন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দরকার, কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে।

সংলাপে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।