খবর ডেস্ক :
দীর্ঘ ১৭ বছর পতিত আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য দলগুলো। সেই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনেরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি দলটির নেতাদের। যার ফলশ্রুতিতে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

তবে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যার প্রমাণ মেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামায়।

বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় আসামি হওয়ার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে জামায়াতের তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও বাকিদের নামে আগে-পরে রাজনৈতিক কোনো মামলার তথ্য মেলেনি।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ ৮৪টি মামলা ছিল। তিনি হলেন- জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান। তার বিরুদ্ধে এখনো দুটি মামলা চলমান রয়েছে। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।

এরপর মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন- বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। তিনি ২৫টি মামলার আসামি ছিলেন। মামলাগুলো উচ্চাদালত থেকে বাতিল ও তদন্তে অব্যাহতি পেয়েছেন জয়নুল আবেদীন।

মামলায় আসামি হওয়ার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি ২৩টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

এছাড়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৭টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৬টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। অপর মামলাটিতে জামিনে রয়েছেন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ৬টি মামলার আসামি। তবে সবগুলো মামলাই দুর্নীতি এবং আয়কর ফাঁকির মামলা। এর মধ্যে একটি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এবং অপর পাঁচটি তদন্তনাধীন রয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে আরও ৮টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যেগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া দুইটি মামলার আসামি ছিলেন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন। দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। তবে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামি। এর মধ্যে ছয়টি মামলা বিচারাধীন ও দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

তবে পুরোটাই ব্যতিক্রম চিত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় থাকা দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের হলফনামায়। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একটি অর্থাৎ বরিশাল-৩ ছেড়ে দিয়েছেন সরীক দল এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে।

পাঁচটি আসনে থাকা জামায়াতের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এর মধ্যে বরিশাল-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যার সবগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় ২টি মামলা ছিল। সেই মামলা দুটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান একটি মামলার আসামি ছিলেন। তিনিও মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

তবে বরিশাল-১ আসনে মো. কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং আগে-পরে কোনো মামলার তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি হলফনামায়।

বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া বরিশাল-১ আসনে রাসেল সরদার, বরিশাল-২ আসনে মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, বরিশাল-৩ আসনে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

এর বাইরে বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১১টি এবং বরিশাল সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আখতার রহমানের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। তারা গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন পরবর্তী মামলার আসামি হয়েছেন।

এছাড়া সদর আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং অপরটি উচ্চ আদালতের আদেশে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
সূত্র : দেশকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন উঠে গেছে ট্র্যাকে। এখন এটিকে ট্র্যাকচ্যুত করতে পারে একমাত্র একটি পক্ষ-রাজনীতিবিদ ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা। তারা যদি সদাচরণ করেন, তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি বা শঙ্কা থাকবে না।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ‘জুলাই অভ্যুত্থান: আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি এ সংলাপের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার এমপি হওয়া চাই-এই মানসিকতা থেকে যদি বেরিয়ে আসা যায়, তবে আমরা আশা করতে পারি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, আর আমাদের ট্রেনটি রেলস্টেশনে পৌঁছাবে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো আমাদের নির্বাচনী অঙ্গন অপরিচ্ছন্ন। নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছে।

সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত। যত অন্যায়-অবিচার হয়, তা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় হয়। আর বড় বড় দুর্নীতি হয় বড় বড় আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের যোগসাজশে।

তিনি বলেন, তাই নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিষ্কার করা দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনকেও পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের দুর্বৃত্তদের চালিকাশক্তি হচ্ছে কালো টাকা। এই টাকার প্রভাব দূর করা দরকার। তা দূর করতে হলে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করার জন্য অনেক সংস্কার দরকার, অনেক আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীনভাবে গঠিত হওয়ার কথা, যার দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্টভাবে গঠন করা হয়েছে। তারা আমাদের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত ১৬ বছর আমরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এজন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দরকার, কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে।

সংলাপে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি বাংলাদেশে ন্যায়বিচার (ইনসাফ), দুর্নীতিমুক্ত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

তিনি বলেন, এই ঘৃণিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শ্বশুর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সুলতান আহমেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার সময় জয়নুল আবেদীন এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন একজন সৎ, সাহসী ও আদর্শবান মানুষ। সমাজ ও সংগঠনের জন্য তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কোনো বিদেশি আধিপত্য থাকবে না।

এ সময় মরহুমের শ্বশুর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার জামাই একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। তার মতো মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ তায়ালা যেন তার সব গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল চন্দ্র সাহা, বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান খোকন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দিতেই এবারের গণভোট। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার পথরেখা তৈরি হবে।

রোববার বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের ইমামদের নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। গণভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে, আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দেশ কীভাবে পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রমাণ করেছে—এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সাধারণ নির্বাচনে আমরা যার যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। গণভোট নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনের মতোই গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। এ লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে গণভোটে অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল নিজামী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম।

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচির প্রথম দিনে আয়োজিত এ সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় বারো শতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বী শতাধিক মানুষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম। তারা নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নবাগতদের একজন, কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজিত ঘরামী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান, শৃঙ্খলাবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আমাদের আকৃষ্ট করেছে। এসব কারণেই আমরা স্বেচ্ছায় এই দলে যুক্ত হয়েছি।

জেলা আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে।

আমাদের ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের গৌরনদীতে মঞ্জু বেপারী (৫০) নামের এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার নয় নম্বর পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে ভ্যানচালক মঞ্জু এক যাত্রীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত পৌনে ১১টার দিকে পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকার ইয়াসিন খানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ভ্যানের ওপর শুইয়ে রাখে।

স্থানীয়রা তার গোঙানির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. টিপু সুলতান জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তির শরীরে কমপক্ষে ১০-১২টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করা হলেও বাঁচানো যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ক প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌঁড়ে শক্ত অবস্থানে ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

অল্প সময়ের মধ্যে আবু নাসের বরিশাল মহানগরীসহ সদর উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও মনোনয়ন পেয়ে যান স্থানীয় বিএনপির সর্বোচ্চ এবং বর্ষীয়ান নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার।

কিন্তু মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচনি মাঠে দুই নেতার দূরত্ব চিন্তায় ফেলে দেয় তাদের কর্মী-সমর্থকদের। অবশেষে সেই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে উঠলো দুই নেতার ঐক্য।

শনিবার বিকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে মজিবর রহমান সরোয়ার ও আবু নাসের রহমাতুল্লাহ’র ঐক্যবদ্ধভাবে বরিশাল সদর আসনে নির্বাচনি বৈতরণী পার করার অঙ্গীকার করেন।

এসময় মজিবর রহমান সরোয়ারের গাঁয়ে ধানের শীষের ছবি সম্বলিত চাঁদর জড়িয়ে দেন আবু নাসের রহমাতুল্লাহ। এমন দৃশ্য দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছে। দুই নেতার ঐক্য বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে শনিবার বিকালে নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় একে স্কুল মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় স্মরণসভা ও দোয়া-মাহফিল আয়োজন করেন আবু নাসের রহমাতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ত্রাণকর্তা ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে তিনি গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছেন। বরিশালের প্রতিটি উন্নয়নের সাথে বেগম জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সবসময় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন। কারাগারে যাওয়ার আগেও তিনি ঐক্যের কথা বলেছেন, মুক্তির পরও রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের মানুষ ও দলের জন্য তিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে তার প্রতি অবমাননা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়া বরিশালের আরও দুই নেতাকে দলে নিয়েছে বিএনপি।

লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে সিটি নির্বাচনের সময় বহিষ্কার ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো।

নতুন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া দু’জন হলেন- বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউল হক মাসুম ও বরিশাল জেলা তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. সাহিন।

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন ওই দুইজনসহ বিএনপির ১৯ নেতা। এ কারণে ‘বেইমান এবং ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে একই বছরের ৪ জুন ১৯ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সেই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ জানুয়ারি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি কামরুল আহসান রুপন, মো. ফিরোজ আহমেদ, মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, মহিলা দল নেত্রী জাহানারা বেগম ও সেলিনা বেগম, রাশিদা পারভীন, জেসমিন সামাদ শিল্পী, যুবদলের সিদ্দিকুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জাবের আব্দুল্লাহ সাদী এবং তার আগে গত ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ শনিবার বাদ মাগরিব সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এ সময় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

 

অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

 শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বরিশাল নগরীর অশ্বিনীকুমার টাউন অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিশাল-৫ আসনের টিম ও মহানগর ছাত্রদল।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরিন উর্মি ও সহ সাধারণ সম্পাদক এরফান খান নিবিড়।

কর্মশালায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত আগামী বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সিনিয়র সহ সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরেক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তাসনিম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তানজিল কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রিয়াজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আল মুরাদ রনি, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের রাশেদুল ইসলাম আপন, বেসরকারি মেডিকেল ছাত্রদলের হাসিবুল হাসান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাজী ইসতাফ আলভীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরিন উর্মি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি মানবিক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ। বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, দেশ গঠনে শিক্ষিত ও সচেতন ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।