নিজস্ব প্রতিবেদক :
অপারেশনের প্রস্তুতি ছিল সম্পন্ন। কয়েক মিনিট পরই অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কথা দুই নারী রোগীকে। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগে পরপর মারা যান দুই নারী রোগী। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ৭টায় হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক, কান ও গলা বিভাগে ঘটে এই ঘটনা।
মারা যাওয়া দুই নারী হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা সেফালী বেগম (৬০) এবং বরিশালের কাশিপুর বিমানবন্দর থানার বাসিন্দা হেলেনা বেগম (৪৫)।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সেফালী বেগমের গালে টিউমার জাতীয় সিস্ট এবং হেলেনা বেগমের থাইরয়েডের সমস্যার কারণে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার সকালে তাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।

স্বজনদের দাবি, অপারেশনের আগে দুই রোগীই স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তাদের শারীরিক অবনতি ঘটে। এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ওয়ার্ডে এসে কর্তব্যরত নার্স মলিনা রানী হালদার ও নার্স হেলেনা দুই রোগীর শরীরে একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। স্বজনদের অভিযোগ, ভুলবশত এনেস্থেসিয়ার একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। হাসপাতাল পরিচালক :ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, দুই রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আস্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রেজওয়ান রেজা :

যদি জিজ্ঞেস করা হয় আজকের মার্কিন মুলুকের উত্থান এর অন্যতম নিয়ামক কি? তবে অনেকেই অনেক ফ্যাক্টর বলবেন, কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেই সব নিয়ামকই পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশেও রয়েছে, তবে ঠিক কোন মুভ যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের মাইটি মার্কিন মুলুকে রূপান্তর করেছে?

গত শতকের ত্রিশের দশকে গ্রেট ডিপ্রেশন থেকে বেড় হতে যুক্তরাষ্ট্র গোল্ড বেইজ ডলার এর পরিবর্তে ফ্লোটিং ডলারের নীতিতে শিফট করে, এরফলে ডলার ছাপিয়ে ডিপ্রেসন থেকে বেড় হয়। কিন্তু এর আফটার ইফেক্টে মূল্যস্ফীতি ঘটে এবং জিনিসপত্রে দাম বেড়ে যায়। তবে মাস্টার স্ট্রোকটা ছিল ডলারকে পেট্র ডলারে রূপান্তর, যেটা আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে মোড়লে পরিনত করেছে। ওপেক বিশেষত সৌদি নেতৃত্বাধীন আরবরাষ্ট্রগুলি সত্তরের দশকে এই চুক্তিতে আসে যে আরব তেল বিক্রি হবে কেবল ডলারে, যার ফলে সমস্ত বিশ্বে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় আর যুক্তরাষ্ট্রের কাগজ প্রিন্টারে ঢুকেই হয়ে যায় বিশ্বের সব থেকে দামী বস্তুতে।

 

এই পেট্রডলারকে যারাই চ্যালেঞ্জ করেছে তাদেরই যুক্তরাষ্ট্র নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। গাদ্দাফী আফ্রিকা ভিত্তিক গোল্ড বেইজ মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা করায় পশ্চাদে বেয়নেট চার্জ করে হত্যাকরে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।

 

কিন্তু গত কয়েক শতকে চায়নার রকেট গতিতে উত্থান যুক্তরাষ্ট্র এর স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী এক কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এমনকি ডলারকে পাশ কাটাতে চায়নারনেতৃত্বে ওয়ার্ল ব্যাংক স্টাইলে ব্যাংক ও স্থাপন করা হয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জের ফাইনাল এরেনা হচ্ছে ইরান। ইরান ঘোষনা দিয়েছে হরমুজ থেকে জাহাজ চলতে হলে ইউয়ান এ পে করতে হবে। জায় মার্কিন পেডফাইল গ্রুপ ইরানে হামলা চলানর পর থেকে ইরান যতগুলি মিসাইল ছুড়েছে সব গুলির সম্মিলিত আঘাতের থেকে এটা বড় আঘাত। দেখা যাক কার পাসা চলে যায় কার টেবিলে…..

খবর ডেস্ক :
মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই ও অবৈধ কারেন্ট জালসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরে আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় অর্ধলাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম।

তিনি জানান, ইলিশের অভয়াশ্রম হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে সোমবার (৯) মার্চ ভোরে অভিযান চালায় মৎস্য অধিদপ্তর। অভিযানে ১টি পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই ও ৩০ হাজার অবৈধ কারেন্ট জালসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ার লক্ষ্মীপুর এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন (৪৫), মো. সাইদুল ইসলাম (৩০), মো. জাকির (৪৮), রুবেল মাঝি (৩৮), বাবুগঞ্জ এলাকার মো. রাসেল (৩৫), মো. আরিফ (৩২) ও বাথুয়া এলাকার আল আমিন (৩০)।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরএককরিয়ার উ.দাদপুর এলাকার মো. শাহ-আলম (৪৩) ও হিজলা উপজেলার ধুলখোলা পালপাড়া এলাকার নূর‌ ইসলাম রাঢ়ি (৩৩), মো. আনিচ (৩৭) ও মো. সাকিল মাঝি (৩০)।

নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাটের চরকাশিয়া এলাকার মো. মিরাজ হোসেন (২৩), মো. ইব্রাহীম (২৪) ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ এলাকার মো. সুলাইমান (২৫)।

পরে আটকদের হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার, ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হলে ১০ জনকে ৪ হাজার টাকা করে ও ৪ জনকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া জব্দকৃত চাই ও জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

খবর ডেস্ক :
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বরিশাল ক্লাবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে নিয়ে কথা বলেন

তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। তাই ঈদযাত্রাকে ঘিরে কোনো ধরনের বাড়তি ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশের নদীবন্দরগুলোকে পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন্দর এলাকায় হকারদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এবং অসাধু চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা দুর্বৃত্ত বন্দর এলাকায় প্রবেশ করে যাত্রীদের চুরি-ছিনতাই বা হয়রানির শিকার করতে না পারে।

রাজিব আহসান জানান, রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অতিরিক্ত চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে বছিলা ও কাঞ্চন ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মধ্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা সহজেই নৌপথ ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকরা এতে বেশি সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নদীর নাব্যতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় ড্রেজিং প্রয়োজন সেখানে দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হবে। সরকারের ড্রেজার প্রস্তুত রয়েছে এবং কোথাও নাব্যতা সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে লঞ্চ চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ডা. কে. এম. মুজিবুল হক দোয়েল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. মো. নজরুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি, ড্যাব, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ।

ইফতার মাহফিল উপলক্ষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান এবং দেশের মানুষের প্রতি তার দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। তারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি কামনা করে দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

খবর ডেস্ক :
এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ‘লিঙ্গ’ পাল্টে ‘ছেলে হয়ে গেছে মেয়ে’
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চরম গাফিলতিতে কয়েক হাজার পুরুষ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ (জেন্ডার) পরিবর্তিত হয়ে ‘ফিমেল’ বা নারী চলে এসেছে। ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ এই কার্ডগুলো বিভিন্ন কলেজে বিতরণ করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে হন্যে হয়ে বোর্ডের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। যদিও বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বহু কার্ড সংশোধন করা হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুত ঠিক করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার আগে বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রিন্ট করে পাঠানো হয়। সম্প্রতি ঢাকা থেকে কার্ডগুলো ছাপিয়ে বরিশাল বোর্ডে আনার পর চার জেলার কলেজে বিতরণ করা হয়।

বিতরণের পরই ধরা পড়ে বড় ধরনের এই ত্রুটি।
ঝালকাঠি ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক ছাত্রের কার্ডে লিঙ্গ হিসেবে ‘ফিমেল’ লেখা হয়েছে। বিশেষ করে মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, তার কলেজের ৪২৩ জন ছাত্রের সবার কার্ডেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে ‘ফিমেল’ চলে এসেছে। সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে কার্ডগুলো বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য কারিগরি ত্রুটিকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সার্ভারজনিত সমস্যা এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংসের ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলাম। গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহিদুল ইসলাম আরও জানান, পরীক্ষার আগে ভুলটি ধরা পড়ায় সমাধান করা সহজ হয়েছে।

কোনো ফি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে কার্ডগুলো সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কার্ড সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দীকী জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট পরীক্ষার্থী ৮১ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। প্রায় ৩০ হাজার কার্ডে এই ভুল হয়ে থাকতে পারে। ভুলগুলো নতুন করে কার্ড ছাপিয়ে সংশোধন করা হচ্ছে।

বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানোয় তারা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল। নতুন করে কার্ড ছাপাতে অর্থ ব্যয় হবে, আর সেটি কোনোভাবেই কলেজের ওপর চাপানো যাবে না, বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বানারীপাড়ায় লস্কর বংশের জ্ঞাতি সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মো.রাজু লস্করের উদ্যোগে লস্কর বংশের সকল জেনারেশনের সাথে কানেক্ট হয়ে সম্প্রীতির বন্ধন বৃদ্ধিকরণে এই ব্যাতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লস্কর বংশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সাবেক গ্রামীন ব্যাংকের অডিট অফিসার মো : হানিফ লস্কর।

বানারীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রাজু লস্কর। বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জনাব, আশ্রাব আলী লস্কর। মো. মতিয়ার রহমান লস্কর, মো. হিরন লস্কর,মো. কামাল লস্কর,মো. আনোয়ার লস্কর,মো.গিয়াস লস্কর। মো. উজ্জ্বল লস্কর, মো. মাসুম লস্কর,মো. লিটন লস্কর প্রমূখ। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে লস্কর বংশের এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অনেকেই আবেগ তারিত হয়ে পড়ে পুরোনো স্মৃতিচারণ করেন।

এই রকম একটি উদ্যোগে তাদের মাঝে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। আগামীতে এ রকম সম্মেলন আরো জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

খবর ডেস্ক :
ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে আজ থেকে দুই মাসের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। বরিশাল, ভোলা ও চাঁদপুর জেলার ৬টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

নিষিদ্ধ সময়ে বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই জুনাহার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার নদী অভয়াশ্রমে যৌথ অভিযান চালাবে নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর।

অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলার ১০ উপজেলার ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলেকে ৪০ কেজি করে চার মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৫৭ মেট্রিকটন চাল।

তবে জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং আর্থিক সংকটে ভোগেন। সময়মতো খাদ্য সহায়তার চাল না পেলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামেন।

অনেক প্রকৃত জেলে এখনও চাল ও জেলে কার্ড পাননি বলেও জানান তারা।
সরেজমিনে জেলে পল্লীগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ জেলে অবসর সময় পার করছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা ঠিকঠাক করছেন। তবে তাদের দাবি, প্রকৃত জেলেদের দ্রুত খাদ্য সহায়তা ও জেলে কার্ড নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, জেলায় ১০ উপজেলায় মোট ৭৮ হাজার নিবন্ধিত ইলিশ জেলে রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় জনবহুল একটি খেয়াঘাটে টোল ফ্রি ঘোষণা দিয়েছেন, নৌপথ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাজিব আহসান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মনির হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, উপজেলার পুরাতন হিজলার জনবহুল খেয়াঘাটে আর কোনো টোল নেওয়া হবে না। এই খেয়াঘাট দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। টোল ফ্রি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, জনগণ আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন।

আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। যারা আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন করবেন, তারা জনগণের কাছে যান, তাদের ভালোবাসা অর্জন করুন।
এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অবৈধ বালু উত্তোলন, জুয়া, মাদক ও সালিশি বাণিজ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, খেয়াঘাটের টোল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তি হয়ে উঠবে।

শাহিন সুমন :
বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে কাকে দেখতে চান নগরবাসী? এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা বরিশালে কোনদিন রাজনীতি করে নাই তারা এখন মেয়র চায় এমন প্রশ্নেও অনেকে করছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ কিংবা সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নগরকেন্দ্রিক প্রশাসনিক পদে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে যিনি দীর্ঘদিন নগর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে গতি আনতে সহায়ক হতে পারে।

মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত যিনি আন্দোলনে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং নগরবাসীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর ওপর। দলের জন্য কার কী অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ যারা জাতীয় রাজনীতি করেন। ৫ আগস্টের পর বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন দীর্ঘ দিন রাজনীতিতে থাকলেও মাঠে সক্রিয় ভূমিকায় চোখে পড়েনী নেতা কর্মিদের। কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন কে অনেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে বিবেচনায় রাকছেন, তবে তিনি আশাবাদি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে বরিশাল মহানগরে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন। মিছিল-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, প্রতিবাদ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন হামলা মামলা শিকার হয়েছেন তারা। তারাও আশা করছেন দলের চেয়ারম্যান বিগত দিনগুলোর কথা চিন্তা করে তাদের দিকে সু-দৃষ্টি দেবেন।

এছাড়াও মহানগরের সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন নান্নু, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিনও এ পদটির প্রত্যাশা করছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক ভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্থান পেয়েছে। বাকি সিটি করপোরেশন গুলোতেও এমন ভাবে প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে খবরে শুরু হয়েছে লবিং তদবির। আর এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এসেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা, কে হচ্ছেন নতুন প্রশাসক? স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক বিএনপি নেতার নাম রয়েছে আলোচনায়। রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি তৎপরতা। যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নগর পরিষদ ভেঙে দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ৩০টি ওয়ার্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন। তাদের অনেকেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও জানা গেছে। এছাড়াও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ কে.এম শহিদুল্লাহ, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন নান্নু, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন ও এ পদটির প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির বেশকয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন নিয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে দলের দুর্দিনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।

বরিশালের সচেতন মহল মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ এ পদে দলের দূর সময়ে নেতা কর্মিদের পাশে থেকে তাদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করা ছাড়াও সব সময় নেতা কর্মিদের পাশে থেকেছেন। এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করে স্থানীয় দাবিদারদের হক কেড়ে নেয়ার ব্যপারটিও দেখতে হবে। যাতে তারাও বঞ্চিত না হয়।