নিজস্ব প্রতিবেদক :
পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল বলেছেন, বরিশাল একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল । কৃষি, শিল্প, জ্বালানী, পর্যটন ও রপ্তানীমুখি শিল্পে সব ক্ষেত্রে এখানে বিপুল সম্ভাবনা আছে। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি এই অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও উদ্যোগতাদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসার সিমাবদ্ধ গন্ডি থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক বানিজ্যের জন্য মানুষিক আর্থিক এবং লজিস্টিক প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। আমরা যেই ধরনের ব্যবসায় অভস্ত সেই ধরনের ব্যবসাটাকে আরও একটু বড় পরিসরে চিন্তা করতে হবে আন্তর্জাতিক বানিজ্য যদি আমরা এখান থেকে করতে চাই।

“অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস” এই প্রতিপাদ্যে বরিশালে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের সাউথ গেট কনফারেন্স হলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করে অতৃথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল, এনপিপি, এনডিসি, পিএসসি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার অরুণ কুমার বিশ্বাস ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনার শেখ শামীম বুলবুল, বরিশাল আরআরএফ কমান্ড্যান্ট (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আব্দুস সালাম, বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি এবায়দুল হক চাঁদ।

বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয় অপরিহার্য। এতে করে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও গতিশীল হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধানের শীষের প্রার্থী মুজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন বরিশাল নগরীর কলেজ রো এলাকার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি কলেজ রো এলাকায় আয়োজিত গণসংযোগ ও ক্যাম্পেইনে অংশ নেন কলেজ রো মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, সহ-সভাপতি মো. সেলিম, পলিটেকনিকের সাবেক অধ্যক্ষ দিদারুল আলম, যুবদল নেতা কাইয়ুম রেজওয়ান সাগর, সমাজসেবক রেজওয়ান বাবু, ড্যাব সদস্য ডা. রেজওয়ান রেজাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ সময় এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষের পক্ষে অংশগ্রহণ করে প্রার্থীর প্রতি তাদের সমর্থন জানান।

কলেজ রো নিবাসী মার্গারেট তুলু সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা সবাই উদ্বেলিত। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রচারকালে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ের বিকল্প নেই। তারা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :
“বরিশাল-২ আসন (উজিরপুর-বানারীপাড়া) উপজেলা বিএনপির দুর্গ” ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ প্রতীকের নিশ্চিত বিজয় হবে।

এছাড়া বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এর হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচার প্রচারণা করতে হবে,উজিরপুর পৌরসভায় ও শিকারপুর ইউনিয়নে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ২৭ জানুয়ারি বিকেলে উজিরপুর পৌরসভার বাজার, শিকারপুর ও জয়শ্রী বাজার ব্ন্দর সহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন- সাধারণ সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, পৌর সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান টুলু, শিকারপুর ইউনিয়ন বিএপির সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন, পৌর সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম,মোঃ রাজ্জাক সরদার,ফারুক হাওলাদার, মোঃ গিয়াস উদ্দিন আকন, মামুন সিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা জামান সুমন বালী,উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বিএনপির মিডিয়া ম্যানেজার আ ফ ম সামসুদ্দোহা আজাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ মাহাবুব গোমস্তা,পৌর যুবদলের আহবায়ক মোঃ শাহাবুদ্দিন আকন সাবু,সদস্য সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান প্রিন্স, উপজেলা যুব দলের নেতা মোঃ রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ জিয়া আমিন রাড়ী,সাধারণ সম্পাদক ও উজিরপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদুৎ সরদার কমরেড,উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মোঃ সোলায়মান হোসেন হাইয়ুম খান,বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাফাউল সরদার সম্রাটসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।

খবর ডেস্ক :
আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি নির্বাচনি এলাকায় ৫১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র এবার ঝুঁকি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পক্ষ-প্রতিপক্ষের হিংসা বা প্রতিহিংসার কারণে নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম এলাকার কারণে এসব কেন্দ্রকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সাজানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বরিশাল অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিভাগের মোট দুই হাজার ৭৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬২১টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ আর ৮২৭টি গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড শহরতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানকার দিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে যাতায়াতসহ সব সুবিধা থাকলেও স্কুলটির মূল ভবনটিই ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে তিনটি কক্ষকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কীভাবে এখানে ভোট গ্রহণ করা হবে তা নিয়ে চিন্তিত খোদ শিক্ষকরাই।

এ বিষয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফসানা মুন্নির সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের স্কুলটি অনেক আগে থেকে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ একথা আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভোটের সময় যদি বৃষ্টি বা প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে কী হবে তা জানি না। এছাড়া আমাদের জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা নেই।

এদিকে, জেলার নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারীরা রয়েছেন আরও বিপাকে। তারা জানান, ইতোমধ্যে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকেই মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ বরিশাল বিভাগের ১৩টি উপজেলাকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোট কেন্দ্রকে যাতায়াতেই হিমশিম খেতে হয় পোলিং কর্মকর্তাদের।

বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা জানান, আমরা বিগত দিনে ভোট গ্রহণের জন্য অনেক কেন্দ্রে গিয়েছি। অনেক দুর্গম এলাকায় আমাদের দায়িত্ব ছিল। নারী হবার কারণে সেখানে রাত্রিযাপন করা সম্ভব হয়নি। ভোর রাতে রওনা দিতে হয়েছে। অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবে এখনকার কেন্দ্রগুলো আপডেট হওয়া উচিত। শুনেছি কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এসব ক্যামেরা সচল রাখতে বিদ্যুৎ নির্ভর হলে চলবেনা, জেনারেটরও রাখতে হবে।

এসব বিষয়ের সঙ্গে একমত পুলিশ প্রশাসনও। পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে এসব কেন্দ্রকে সহজতর করা হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। গুরুত্বপূর্ণ, অতি-গুরুত্বপূর্ণসহ তিন ভাগে ভোট কেন্দ্র সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বরিশালের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কারণে অতি-গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অবস্থান, নদী ভাঙন কিংবা চর এলাকায় হলে তাকে গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। ঘনবসতি এলাকাকেও আমরা গুরুত্বের তালিকায় নিয়ে এসেছি। গুরুত্বপূর্ণ কিংবা অতি-গুরুত্বপূর্ণের ক্ষেত্রে আসলে সেখানে ত্রাস বা সন্ত্রাস হবে এমন কোনো বিষয় নেই।

সূত্র : সময়ের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দূর্নীতির অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ এর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিআরটিএ বরিশাল অফিসে দ্বায়িত্বে থাকা অবস্থায় ৩৪৪ টি, বিআরটিএ ঝালকাঠি অফিসে ৯৩৩ টি এবং বিআরটিএ পিরোজপুর অফিসে ১০৮১ টি বাস ও ট্রাকের ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন বরিশাল বিআরটিএ অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ-আলম।

সোমবার (২৬ জানুয়ারী) এ আদেশ দেন দায়রা জজ আদালত। অবৈধ যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন প্রদান কারায় গত বছর একটি মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ বরিশাল অফিসের তৎকালীন সহকারী পরিচালক এমডি শাহ-আলম প্রায় ২ হাজার ৫শ অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন অনুমোদন দিয়েছেন।

গত ৮ বছরে এমডি শাহ-আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল,ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং চট্টগ্রামে বিআরটিএ তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএ এবং ২০১৮-২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসের দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এমডি শাহ-আলম।

এরপূর্বে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রায় ২ হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেই মার্চে ৪টি এপ্রিলে ২টি মে ৫টি জানুয়ারি মাসে ২১টি, জুলাই মাসে ৪৫টি) অক্টোবর মাসে১০টি অর্থাৎ ২২সালের মার্চ হইতে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ ২৫৫টি গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শাহআলমের অর্পকর্মের বিরুদ্ধে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ঢাকা বরাবর গত ২৯ নভেম্বর ২০২২সালে ৩৫, ০৩, ০০০০,০০১,২৭,০২২৭ স্বারক নাম্বারে ৩ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং ১৫ দিনের ভিতর তদন্ত প্রতিবেদক জমা দিতে আদেশে উল্লেখ করেন।

এ দিকে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন সময় তিনি পূনরায় আবার ২২সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর আরও ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন।

যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটি এর আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের বিনিময় এসব রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটি এর দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ-আলম।

উল্লেখ্য- অবৈধভাবে যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন করার অপরাধে দুদকের করা মামলায় এমডি শাহ-আলম এতোদিন উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন। তবে আজ সেই মামলা থেকে স্থায়ী জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

নাহিদ বিন রফিক :
গণভোট নিয়ে কৃষি বিভাগের সাথে কৃষকদের সচেতনতামূলক সভা গতকাল ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নলছিটি উপজেলার ভৈরব পাশা ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার শেখ হাবিবুর রহমান। ভৈরব পাশা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব লাল বিশ্বাস, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জামাল, ইউপি সদস্য মো. নুরুল আলম মানিক প্রমুখ। সভা শেষে কৃষকদের গণভোটের লিফলেট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন ভোটারদের দুইটি ব্যালট দেওয়া হবে। এর মধ্যে গোলাপী রঙের ব্যালটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট প্রদানের সুযোগ থাকবে। তারাই ‘হ্যাঁ ভোট’ দিবেন যারা মনে করেন-তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। আর এগুলো যারা চান না তারা দিবেন ‘না ভোট’। তবে মনে রাখতে হবে, কারো ভুল সিদ্ধান্তে যেন দেশের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত না হই।

 

খবর ডেস্ক :
রাতের অতন্দ্র প্রহরী কুকুর। মানুষ যখন গভীর নিদ্রায় থাকে তখনও রাত জেগে মনিবের সম্পদ পাহারা দেয় এই বোবা প্রাণী। সম্প্রতি বরিশাল নগরজুড়ে কুকুরের একের পর এক মৃত্যু ভাবিয়ে তোলে নাগরিকদের। অবশেষে সামনে এলো কুকুরের মৃত্যুর রহস্য।

মূলত স্বাভাবিকভাবে নয়, নিরীহ এই প্রাণীগুলোকে বিষ খাইয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি বরিশাল নগরীর উত্তর জনপদ কাউনিয়া এলাকায় দুই দিনে ১৬টি কুকুর হত্যার পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা। এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রাণী লাভাররা দোষিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।

আর প্রশাসন বলছে, প্রাণী হত্যা মহাপাপ। লিখিত অভিযোগ পেলে যারাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত- তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ক্লাবরোডে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে মরে পড়ে আছে একের পর এক কুকুর। কোনটি বাচ্চা, আবার কোনটি বয়স্ক কুকুর। কিছু কুকুর রাস্তার পাশে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় থেকে ৬ বছর ধরে দেখভাল এবং খাবার খাওয়াচ্ছেন ক্লাব রোডের বাসিন্দা ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স, প্রাণী প্রেমী লিংকন দত্ত।

তিনি বলেন, “কাউনিয়া ক্লাব রোড এবং পার্শ্ববর্তী কাঠের পোল এলাকায় ৩০টির মত কুকুর রয়েছে। কুকুরগুলোকে গত ছয় বছর ধরে প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে আমিই খাবার দিয়ে আসছি। শীত এবং বর্ষায় ওদের থাকার জন্য আমার বাড়ির মধ্যে একটি টিনের সিড বানিয়ে দিয়েছি। ওদের চিকিৎসাও আমি করি। এগুলো কারোর ক্ষতি করেছেন- এমন অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি।”

লিংকন দত্ত বলেন, “কুকুরগুলো মৃত্যুর ঠিক তিন-চারদিন আগে একজন ব্যক্তি এসে কেক খাইয়ে গেছে। তার কাজে আমি প্রশংসাও করেছি। কিন্তু দুই দিন পর থেকেই দেখছি কুকুরগুলো নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে এবং একে একে মরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকছে। দুই দিনে ক্লাব রোড এবং কাঠের পোল এলাকার দুটি মা কুকুরসহ ১৬টি কুকুর একে একে মারা গেছে। এখনো অন্তত ৮/১০টি কুকুর নিস্তেজ হয়ে ঝিমচ্ছে।”

লিংকন দত্তের ধারনা কেক দেওয়া ব্যক্তিই কেকের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেছে কুকুরগুলোকে। এ বিষয়ে তিনি থানা এবং সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিবেন বলেও জানান।

লিংকন দত্তের মত একই অভিযোগ করেছেন, ক্লাব রোডের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার উপ-পরিচালক বিপ্লবসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিটি কুকুরই শান্ত স্বভাবের ছিল। কাউকে ক্ষতি করতো না। গভীর রাতে চোর বা সন্দেহজনক কাউকে দেখলে ক্ষুব্ধ হতো। সম্প্রতি এক ব্যক্তি কুকুরগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে কুকুরগুলো হত্যার পেছনে সেই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শুধু কাউনিয়া ক্লাব রোড বা কাঠের পোল এলাকায় নয়, নগরীর ভাটিখানা, রূপাতলী এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এলাকাতেও বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে রাস্তার কুকুর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। রাতের ফাঁকা নগরীতে চুরি, ছিনতাই এবং অপরাধ সংগঠিত করতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কুকুরগুলো নির্বিচারে হত্যা করা হতে পারে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কুকুর হত্যার ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ্য করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের ভেটেরেনারি সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তার কুকুর পরিবেশের জন্য অনেক উপকারী। এগুলো না থাকলে মানুষকে অনেক বেগ পেতে হতো। তাছাড়া কুকুর নিধন রোধে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। এজন্য গত বছরের জুনে সিটি করপোরেশন থেকে ৪০ হাজারের বেশি কুকুরকে আমরা ভ্যাকসিন দিয়েছি।

তিনি বলেন, “কুকুরগুলোকে কারা হত্যা করেছে সেটা চিহ্নিত করা দরকার। এই ঘটনায় কুকুরের মালিক বা কারোর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।”

নগরজুড়ে নিরীহ প্রাণী কুকুর হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “প্রাণী হত্যা মহাপাপ। তবে ইতোপূর্বে কুকুর হত্যার অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র : দেশকাল নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে বিজয় করে ১৩ তারিখ থেকে দরজা খোলা রেখে শান্তিতে ঘুমাবেন। আমি নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না, কেউ জুলুমের শিকার হবে না।”

রবিবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সদর রোড এলাকায় হাতপাখার সমর্থনে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এমন দাবি করেন।

পথসভা শেষে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ গঠন করব- যেখানে সকলে তার অধিকার পাবে। জনগণের এক টাকাও চুরি হবে না।”

এসময় ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম আল আমিন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

সকালে বরিশাল নগরীর নূরিয়া স্কুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পরিদর্শন করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে রাতের আঁধারে খাবার হোটেল দখল করে বিএনপির নির্বাচনি অফিস বানানোর অভিযোগ উঠেছে ‘জামায়াত কর্মীর’ বোনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে এলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানার, সাইনবোর্ড সরিয়ে দোকানটি দখলমুক্ত করেন।
শনিবার রাত ১২টার পর বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঅ্যান্ডবি পোল এলাকায় ‘ভাই ভাই খাবার হোটেল’ দখলের ঘটনা ঘটে। পরে রবিবার সকালে দোকানটি দখলমুক্ত হয়।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ অকপটেই স্বীকার করেছেন ‘জামায়াত কর্মীর’ বোন নিলুফা।

ভুক্তভোগী দোকানের ভাড়াটিয়া নাসির হাওলাদার জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি হোটেল বন্ধ করে বাসায় যান। রবিবার সকালে এসে দেখতে পান হোটেলে সাটারের তালা ভাঙা এবং ভেতরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের ছবি সংবলিত একাধিক ব্যানার ও সাইনবোর্ড দিয়ে হোটেলটি দখল করা হয়েছে।

খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে হৈইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। এসময় স্থানীয়দের সামনেই ‘জামায়াত কর্মী’ সুলতান মাহমুদের বোন নিলুফা দোকানের ভাড়াটিয়া নাসির হাওলাদারের কাছে স্বীকার করেন- স্বপ্রণোদিত হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যসচিব তারেক হাফিজ জানান, নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এটি সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমরা চাই, যারাই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রশাসন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন জানান, আসন্ন নির্বাচনে সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিতর্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতেই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করিয়েছে।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া সুলতান মাহমুদ নামে কোনো জামায়াত কর্মী আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে তো অবশ্যই জানতাম।

সূত্র : দেশকাল নিউজ

খবর ডেস্ক :
ইলিশ সম্পদ রক্ষায় দেশব্যাপী চলছে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এই অভিযানের আওতায় জাটকা শিকার, বাজারজাত, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর পরও থেমে নেই জাটকা নিধন এবং বাজারজাত।

প্রতিদিন এবং রাতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে পাচার করা হচ্ছে জাটকা। আর প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিতে এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহন।

সম্প্রতি বরিশালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের পৃথক অভিযানে এমন তথ্য উঠে আসে। গত তিন দিনেই যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে তারা জব্দ করেছেন ছয় হাজার কেজির ওপরে জাটকা ইলিশ। এসব ঘটনায় দু-চারজন আটক হলেও নামমাত্র জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বাস স্টাফরা। আর ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল পাচারকারীরা।

জানা গেছে, বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ।

এসময় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ‘অন্তরা ক্লাসিক’ ও ‘রাজধানী’ নামের দুটি পরিবহনে তল্লাশি করে ৩৯টি ককসিটে রক্ষিত ৩ হাজার কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশাল আদালত চত্বরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ ইসলাম ও মিরাজুল ইসলাম রাসেলের উপস্থিতিতে জব্দ হওয়া জাটকাগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর বান্দরোডে লঞ্চঘাট এলাকা থেকে পাঁচশ কেজি জাটকা জব্দ করে কোতয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ। আটক করা হয় তিনজন জাটকা পাচারকারীকে। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর কাশিপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বরিশাল-ঢাকা-মহাসড়কে বাসে তল্লাশি করে ২ হাজার ৫৬০ কেজি জাটকা জব্দ করে সেনাবাহিনী। এসময় আটক তিনজন বাস স্টাফের কাছ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বা নৌপথে জাটকা পাচাররোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে যাত্রীবাহী বাসে জাটকা পাচার করছে। জাটকা জব্দ করা হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি হবে ভেবে পরিবহনগুলো আটক করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাস মালিক এবং শ্রমিকদের সচেতন হওয়া দরকার। পরিবহন বন্ধ হলে জাটকা শিকারও বন্ধ হবে। আর জাটকা শিকার না হলে বেচাকেনাও চলবে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোতে জাটকা পাচার বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে “অন্তরা ক্লাসিক, রাজধানী, মোল্লা, মোড়ল, চেয়ারম্যান, বাউফল ট্রাভেলস” সহ বেশকিছু লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনে নিয়মিত জাটকা পাচার হয়। এর সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার, চালক এবং হেলপাররাও জড়িত। অন্য মালামালের থেকে জাটকা পরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণের বেশি লাভবান হওয়ার লোভে যাত্রীবাহী বাসে অবৈধ জাটকা পরিবহন করেন তারা।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হামিউজ্জামান বলেন, “ইতোপূর্বে আমরা বেশ কিছু যাত্রীবাহী বাস থেকে জাটকা জব্দ করেছি। এসব বাসের স্টাফদের মাধ্যমে জেনেছি মূলত বাউফল এবং পটুয়াখালী থেকে বেশি জাটকা পাচার হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মূলত ভোলা এবং পটুয়াখালী মূল পয়েন্ট। এছাড়া বরিশালের হিজলা, মুলাদী এবং মেহেন্দিগঞ্জেও নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব নদী থেকে জাটকা শিকার করে এক জায়গায় করে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। নদী বা ট্রাকে জাটকা পরিবহন নিরাপদ না হওয়ায় এখন যাত্রীবাহী বাসে গভীর রাতে জাটকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে আমাদের নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

যাত্রীর সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সড়ক পথে প্রশাসনিক টহল এবং তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
সূত্র : দেশকাল নিউজ