নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বিগত দিনে জামায়াত ইসলামীর আমিরের সম্মানার্থে তার আসনে হাতপাখার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি, আবার তিনিও (জামায়াতের আমির) আমাদের সম্মান করে এখান থেকে প্রার্থী তুলে নিয়েছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। গতকালই আমি বরিশাল-৫(সদর) আসনের জামায়াতের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাহেবকে ফোনকল দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুনভাবে কোনো জোটে যাওয়ার এখন কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি তারা শরিয়াহ ভিত্তিক এবং কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক আইন প্রণয়ন করে এবং সুযোগ হয়, তাহলে অবশ্যই জোটে যাবে ইসলামী আন্দোলন।

আমাদের ‘একবাক্সের’ মূল থিমটা ছিল ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স। কিন্তু যখনই তিনি (জামায়াতের আমির) এক খ্রিস্টান ভদ্র মহিলার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে এবং শরিয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করবো না। তখন তো আর আমাদের এক বাক্স থাকে না। কারণ আমাদের এক বাক্সের নীতিটা ছিল ইসলামের পক্ষে এক বাক্স, এজন্য ইসলামের পক্ষে হাতপাখার বাক্স আছে।

বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের এ প্রার্থী বলেন, প্রশাসনের ঢিলাঢালা অবস্থা দেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জনগণ সন্দেহ প্রকাশ করছে। আমি প্রশাসনকে বলবো, আপনারা কোনো অবস্থাতেই কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না। সেইসঙ্গে নির্বাচনে দখলদারি, জোর এবং কালো টাকার ব্যবহার কোনোভাবেই যেন না হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দেশের উন্নয়নে একটি পরামর্শশালা করা হবে।

যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের নাগরিকরা থাকবেন, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে বরিশালের যা যা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কাজে হাত দেবো।
যারা আসামি নয়, তাদের আসামি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার এক কর্মীকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে কেস ঠুকে দেওয়া হলো, কিন্তু সে আওয়ামী লীগ না প্রমাণ করতে করতে তো নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। তাই আমি প্রশাসনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার জন্য অনুরোধ করছি। প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো অবস্থাতেই যাদের বিরুদ্ধে কেস নেই, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কেস দেওয়া যাবে না। যারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নয়, তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না, সেইসঙ্গে বেনামি-অজ্ঞাত একজন আসামিও গ্রেপ্তার করা যাবে না।

সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চাইলে প্রশাসন কাউকে যেন হয়রানি না করে সেই আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা শুধু সাংবাদিকদের নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবো। কর্মী সম্মেলনে আমি সবাইকে খাদেম হতে বলেছি। রাজনৈতিক কাজটাকে খেদমত মনে করো, এটা ভোগের বা ব্যাবসার কোনো জায়গা মনে করবে না। এতদিন ক্ষুধার্ত ছিলাম এই বক্তব্য ধ্বংসের কারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) পাঁচজনকে, বরিশাল-২ আসনে (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আটজনকে, বরিশাল-৩ আসনে (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) ছয়জনকে, বরিশাল-৪ আসনে (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) পাঁচজনকে, বরিশাল-৫ আসনে (সদর) ছয়জনকে এবং বরিশাল-৬ আসনে (বাকেরগঞ্জ) ছয়জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যেখানে ৩৫ জন প্রার্থী দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন এবং জেলার একমাত্র আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বরিশাল-১ আসনের (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে তার কাঙ্ক্ষিত ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪৩ জন। এরমধ্যে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ৩৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়ে আনন্দিত বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের অনুপ্রেরণাই আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আমি ফুটবল প্রতীক চেয়েছিলাম। আর সেই কাঙ্ক্ষিত ফুটবল প্রতীকই আমি পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি বরিশাল-১ আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী। ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, ভোটাররা যা বলবেন, যেভাবে চাইবেন; আমি সেভাবেই উন্নয়ন করবো।

প্রত্যেক নাগরিকের যানমালের নিরাপত্তা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বরিশাল-১ আসন গড়াই আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার।

অপরদিকে, বরিশালের ছয়টি আসনের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর তাদের কর্মী-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। সবমিলিয়ে পুরো নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বরিশাল জুড়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বরিশালের ছয়টি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল আহসান এবং প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৫ (সদর ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ২৯ ডিসেম্বর বরিশালবাসীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে ১০ দলীয় জোট গঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট গঠনের আগেই সারাদেশের তিনশত আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আমাকে মনোনীত করা হয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের ঐক্য হয়েছে। ফলে জামায়াত ইসলামীসহ দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়ন পুনঃবণ্টনের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি, কল্যাণমুখী রাজনীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে এ দাবি দেশবাসীরও। জামায়াত ইসলামী বড় দল হিসেবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। আমাদের নেতা ড. শফিকুর রহমানের আহ্বানে এই ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে।

তিনি যোগ করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি, এজন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনে চরমোনাইয়ের সমর্থনে ১০ দলীয় জোট এবং জামায়াত ইসলামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর) ব্যতীত বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) থেকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে তিনিসহ চরমোনাই পীরের জন্মস্থান বরিশাল হওয়ায় বরিশাল-৫ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং জামায়াত অন্য (বরিশাল-৬) আসনে তার প্রার্থীতা বহাল রেখেছে।

এদিকে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪১ জন। এদের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র উদ্যোগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।

 

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন ।

 

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, নির্বাচন শুধু একটি ভোটপ্রক্রিয়া নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধ্যায়। এ অধ্যায়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের জ্ঞান দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে রিপোর্টের খুঁটিনাটি বিষয়, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা এবং সাংবাদিকদের শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত ধারণা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, ভুল তথ্য, গুজব কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেন।

অনুষ্ঠানে পিআইবির সমন্বয়ক জিলহাজ উদ্দিন নিপুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হিরা, বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। এ সময় বরিশালের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর সহযোগী সংগঠন জিয়া মঞ্চ বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ উল্লাহ ইব্রাহিমের অনুমোদনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

ঘোষিত কমিটিতে খায়রুল আলম সেলিমকে আহ্বায়ক এবং তারিক মো. মাসুদকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফ হক শওকত, সাইফুল ইসলাম সাগর, সবুজ হাওলাদার, রফিকুল ইসলাম শাহীন, সৈয়দ ইমাম হোসেন রাজু, আনিসুর রহমান আনিস (সিটি), মো. রাশিদ খান, রবিন আহমেদ, লোকমান হোসেন, নাঈম মোল্লা, ইসমাইল হোসেন, মো. আল মামুন চৌধুরী, মো. গোলাম আওয়াল, মো. সিয়াম, সোহেল মাতুব্বর, আনিসুর রহমান ও গাজী মিজানসহ মোট ২১ জন।

 

কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে মো. মেহেদী হাসান ফারুককে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মাহবুবুল আলম মিঠু, মাসুদ হোসেন ও মো. মামুনুর রশিদকে।

 

কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে নবগঠিত এই আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বরিশাল মহানগরের সব ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে বরিশাল মহানগরে জিয়া মঞ্চের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :

শোককে শক্তিতে পরিনত করে বিএনপির হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের বিপ্লব ঘটাতে হবে। আগামীতে গুঠিয়া ইউনিয়নসহ পুড়ো উজিরপুর- বানারীপাড়া উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে জনসেবা করে যাবো”তাই সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে”উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে বাংলাদেশের ৩ বারের সফল নারী প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানের পূর্বে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

১৮ জানুয়ারী রবিবার আসরবাদ গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গুঠিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লাভলু হোসেন চাপরাশী এর সঞ্চালনায় প্রবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন হাফেজ মোঃ গোলাম রাব্বি এবং উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন খান, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম মিয়া,অত্র কলেজ অধ্যক্ষ এস.এম তাইজুল ইসলাম,বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ইমরান সালেহ প্রিন্স,উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস.এম আলাউদ্দিন,বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ রিয়াজ মৃধা,উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মল্লিক, বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েল, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মঞ্জু খান,উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ ফ ম শামসুদ্দোহা আজাদ, বানারীপাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাব্বির রহমান সুমন, বানারীপাড়া যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ফকির,উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনির মল্লিক, গুঠিয়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক বিমল চন্দ্র হালদার,গুঠিয়া মহেশচন্দ্ৰ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন । রফিকুর রহমান জগলু, ডহরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুর রহমান জগলু, নারায়নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ বেলায়েত হোসেন, পঞ্চগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন,মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেড.এ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,তানজিলা জান্নাত, মেহেরনিগার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তানজিলা জান্নাত, উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ জিয়া আমিন রাড়ী। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলো বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ। দোয়া মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এদিকে ব্যপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সফল ভাবে এ দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাভলু হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানিয়েছে উপস্থিত অতিথি বৃন্দ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম সম্মানজনক পদক ‘ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জিহাদ।

বাংলাদেশের টেক শিল্পে বিশেষ অবদান এবং দক্ষ জনবল তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে (কর্পোরেট আইকোন সিইও) সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিবি অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের আইটি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও ফ্রীল্যান্সিং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ, এবং টেক টিউবার সোহাগ ৩৬০ এর ফাউন্ডার সোহাগ মিয়া।

২০০৯ সালে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ওয়েব হোস্টিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফার্ম হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক’-এর যাত্রা শুরু করেন জিহাদ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে একটি দক্ষ সাপোর্ট টিম তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে আসছেন।

বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক এর রয়েছে ৪ হাজার এর অধিক গ্রাহক ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটি সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় বিশ্বস্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের আইটি সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা নিয়ে কাজ করছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় জিহাদ বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, বরং পুরো ইঞ্জিনিয়ার বিডি টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা আগামীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশালের শীর্ষ নেতা ও সরকারি ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের সাবেক ভিপি মঈন তুষারকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন তুষার জুলাই আন্দোলনের সময় ১৬ থেকে ১৯ জুলাই সশস্ত্র অবস্থায় শিশু-কিশোরদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র হিরনের সময়কালে মঈন তুষারের উত্থান ঘটে এবং তার প্রভাবেই বি এম কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হাতেম আলী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের একটি অংশের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তার মদদপুষ্ট ছাত্রলীগের কর্মী ডা. সায়েম, ডা. মেহেদী, ডা. সৈকত সহ আর কিছু মাদকাসক্ত ছাত্র বরিশালের রিফিউজি কলোনীর একটি ছেলেকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং তথকালীন বিরোধিদলের নিরীহ ছাত্রদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়। এই সন্ত্রাসি র‍্যাকেটের অন্যতম সদস্য ডা. মাশরেফুল ইসলাম সৈকত এখনো বহাল তবিয়তে বরিশাল কাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী রিফিউজি কলোনীর এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল এবং সে সময় বিরোধী দলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

এছাড়া বি এম কলেজের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে মঈন তুষারের বিরুদ্ধে।

এদিকে, তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় দুই উপজেলার বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অংশটি সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পাশাপাশি সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে কাজ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ডাকা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সঙ্গেই আছি।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “দুই উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কাগজ পেয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছত্তার খান। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল আবেদনও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক ভিডিও বার্তায় আব্দুস সত্তার খান নিজেই এই ঘোষণা দেন। ফলে আসনটিতে নির্বাচনি লড়াইয়ে বিএনপি আর একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

ওই ভিডিও বার্তায় আব্দুস সত্তার খান বলেন, দেশ ও মানুষের সেবার প্রত্যয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ও আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা আমার কাছে সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দলীয় সংহতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

একজন সুশৃঙ্খল দলীয় কর্মী হিসেবে সবসময় তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।
নিজের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করে আব্দুস সত্তার খান বলেন, আগামী দিনে সবাই মিলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

এর আগে বুধবার রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন আব্দুস সত্তার খান।

বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস সত্তার খান।

তিনি মুলাদী পৌর সভার সাবেক মেয়র ও পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ১০ শতাংশ ভোটার তালিকা না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করেন সত্তার খান।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তারেক রহমানের আহ্বানে আব্দুস সত্তার খান নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোয় আসনটিতে বিএনপির নির্বাচনী লড়াই আরও শক্তপোক্ত হলো বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।