আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানাতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে পর্যটন নগরী  কুয়াকাটায়।

তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এ স্বাগত মিছিলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলটি কুয়াকাটার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাহে রমাদানের পবিত্রতা রক্ষা করুন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখুন, সংযম ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করুন এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহিপুর থানা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম মন্নান বলেন,রমাদান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও মানবিকতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে অন্যায়, অসৎ উপার্জন ও মজুতদারি পরিহার করে সমাজে ন্যায় ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাগর সৈকত জামে মসজিদের খতিব  মুফতি মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন,রমাদানের পবিত্রতা রক্ষায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের কষ্টকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জন করলে বরকত নষ্ট হয়ে যায়। হালাল ব্যবসাই প্রকৃত সফলতার পথ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা সাগর সৈকত জামে মসজিদের ইমাম মুফতি  মোঃ মোস্তফা কামাল, কুয়াকাটা কুরআন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রুমান ইমতিয়াজ তুষার, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ফজলুল হক খানসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

মিছিল শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

খবর ডেস্ক :
বরিশাল বিভাগ থেকে পাঁচজন সংসদ সদস্য এবার স্থান পেয়েছেন জাতীয় মন্ত্রিসভায়। তাদের মধ্যে দু’জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন এ অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে বরিশালে বইছে আশাবাদের হাওয়া। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে— এমন প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

মঙ্গলবার (১৭, ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন দু’জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী।

যেখানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ- বীর বিক্রম। এছাড়া বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. রাজিব আহসানকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মনজুরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু বলেন, এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর।

এই জনপদের দিকে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের সুদৃষ্টি আছে বলেই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ থেকে তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করেছেন। আমরা আশা করছি বরিশাল আর অবহেলিত থাকবে না।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশাল জেলার সদস্য কবি হেনরী স্বপন বলেন, ‘বরিশাল থেকে এবার যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রিত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। তার মধ্যে থেকে পাঁচজনকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে।

যদিও বরিশালবাসীর প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল।

বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। কৃষকরা চান ন্যায্যমূল্য ও সংরক্ষণ সুবিধা। ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ও নতুন বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিভাগ থেকে একাধিক মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে শুধু প্রতিনিধিত্ব নয়, কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

খবর ডেস্ক :
বরিশালে সাবেক এমপিসহ তিন আওয়ামী লীগ নেতার জামিন জেবুন্নেছা আফরোজ।

গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দুইজনকে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।

এর আগে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল–১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে পূর্ণ মন্ত্রী ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসনের সংসদ সদস্য রাজীব আহসানকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রী হিসেবে দুইজনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পুরো বরিশাল জেলাবাসী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারা। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান।

মঙ্গলবার সকালেই মন্ত্রীসভার শপথে যাওয়ার ফোন পান এ দুই নেতা। এরপরই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে ব্যবহারকারীদের।

এদিকে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন নতুন সরকারের তথ্য,সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রথমবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজীব আহসান। নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, যা পেয়েছি আলহামদুল্লিহ। তারপরও চাওয়ার তো কোন শেষ নেই বরিশাল বাসীর। আরও চাওয়া আছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। আশা করি তিনি বরিশাল বাসীর সব চাওয়া পূরণ করবেন।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :

উপকূলীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ট্যুর অপারেটরস্ এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সমুদ্র তীরবর্তী দ্বীপ চরহেয়ার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পর্যটন বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পায়রা বন্দর, পর্যটন শিল্প ও মৎস্যখাতের সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি। আর এ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে উপকূলের অভিজ্ঞ ও জননন্দিত প্রতিনিধি হিসেবে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কেএম জহিরুল ইসলাম খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুম আল বেলাল ও ডিরেক্টর গাজী মোহাম্মদ হানিফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপরা’র সদস্য সচিব কেএম বাচ্চুসহ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, পায়রা পোর্টকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর-সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। এজন্য উপকূলের বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণাসম্পন্ন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে টোয়াক ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায় উপকূলবাসীর এ দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা’ জানানোয় দুই শ্রমিক বরখাস্ত, প্রতিবাদে কর্মবিরতি।
বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকার সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে মৌখিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা।

সোমবার সকাল থেকে নগরীর রূপাতলীর দপদপিয়া এলাকায় টেক্সটাইল মিলের সামনে তারা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলের লাইনম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, “গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কারখানা কর্তৃপক্ষ সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুকুমনিকে মৌখিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়েছে।

মোশারফ হোসেন সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে ৩০ বছর চাকরি করেন এবং খুকুমনি এই মিলে ১৪ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং কোনোভাবেই ন্যায়সংগত বা আইনসংগত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগ করে হাবিবুর রহমান বলেন, “দুই শ্রমিক নেতার কোনো অপরাধ নেই। তাদের অপরাধ শুধু বিজয় দিবসের দিন শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মিল মালিকদের কাছে ছুটি চাওয়া হয়েছিল। ছুটি না পেয়ে শ্রম অধিদপ্তরে অভিযোগ দেন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা। সেই ঘটনার জের ধরে তাদের দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অবিলম্বে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।”

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, “দুই শ্রমিক নেতাকে অকারণে বরখাস্ত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিক ইউনিয়নকে অকার্যকর করা। শ্রমিকেরা যাতে ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে দাবি আদায়ে সংগঠিত না হতে পারে, এ উদ্দেশ্যেই মালিক এই ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে চাকরিচ্যুত করে ট্রেড ইউনিয়নকে নেতৃত্বশূন্য ও অকার্যকর করতে চাচ্ছে।”
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক সংগঠনের মাসুম গাজী, ইমরান হোসেন, মো. জসীম হাওলাদার, হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে রোববার রাতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধের পর অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকেরা।

খবর ডেস্ক :
সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও একটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

এখন কথা উঠেছে, তিনটি আসন বিএনপির হাতছাড়া হলো কেন? জামায়াতের ভোট ব্যাপকভাবে বাড়ল কেন? কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের অবর্তমানে নিজের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে জামায়াত। আবার কেউ বলছেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে সুবিধাজনক জায়গায় থাকতে না পারলেও জামায়াত গোপনে তাদের রাজনীতি চালিয়ে গেছে।

ফলে সাংগঠনিকভাবে তাদের দুর্বলতা ছিল না। সেই সঙ্গে ধর্মীয় আদর্শ ও আবেগ কাজে লাগিয়েছে জামায়াত।
অতীতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই—১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর-১ আসনে জিতেছিলেন জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এর আগে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বরিশালে জামায়াতের কোনো আসন ছিল না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের কাছে। পরের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আসনটি পতিত আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
এবার আসনটি আবারও জামায়াতের হাতে চলে গেল। এ আসনে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাঈদী-পুত্র মাসুদ সাঈদী।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ১০৫ ভোট।
আশ্চর্যজনকভাবে বরিশাল বিভাগে আরও একটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। বাউফল উপজেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পটুয়াখালী-২ সংসদীয় আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে ধরা হয়। কারণ ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে মাত্র দুইবার বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, পক্ষান্তরে ৬ বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ. স. ম. ফিরোজ নির্বাচিত হয়েছেন।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট।
এদিকে মাত্র দুটি আসনে বিজয়ী হলেও বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত বরিশাল বিভাগের প্রায় প্রতিটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জয়-পরাজয়ের ভোটের ব্যবধান কমেছে। এমনকি বিগত সময়ের তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরও ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে বিভাগজুড়ে। ভোট বৃদ্ধির এ খেলায় বরিশাল বিভাগে একটি আসনও বাগিয়ে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলটির মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ। তিনি ধানের শীষের নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ৪ হাজার ১৭৫ ভোটে হারিয়েছেন।

বরিশাল জেলার ৫টি আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। জামায়াতের কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। জামায়াতের আবদুল মন্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়েছেন বিএনপির জয়নুল আবেদীন। জামায়াত জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়েছেন বিএনপির আবুল হোসেন খান। জামায়াতের মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।

অন্যদিকে পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-জিয়ানগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট। জামায়াত–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট।

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও তালতলী) আসনে বিএনপির মো. নূরুল ইসলাম মণি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট। জামায়াতের ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট।

ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল ৬২ হাজার ১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের ড. ফয়জুল হক পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০ ভোট।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। জামায়াতের এস. এম. নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।

বিএনপির ঘাঁটি বরিশাল বিভাগে তিনটি আসন হাতছাড়া হওয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষের নির্বাচিত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ফলাফল প্রকাশের পরপরই গণমাধ্যমকে বলেন, চল্লিশ বছর ধরে এলাকায় কাজ করে নির্বাচনের ফলাফলে খুশি হতে পারিনি। কারণ আমি আশ্চর্য হয়েছি, আমার এলাকায় জামায়াতের এত ভোট কোথা থেকে এলো।

অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী আর বলব, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমরা বিজয়ী হয়েছি। জেলার সব সিট আমরা পেয়েছি।

বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হীরা বলেন, বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও জোটের সমর্থিত ১৮টি আসনে জয়লাভ বড় বিষয়। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাঝে ধানের শীষের সমর্থন বেশি, ফলে বিগত দিনেও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল ভোট পেতে দেখা গেছে এ অঞ্চলে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মতো বড় দল আসতে পারেনি, ফলে তাদের সমর্থকরা এখানে বড় একটি ফ্যাক্টর ছিল। একাত্তরের চেতনাবিরোধীদের বাদ দিলে বিএনপি ছাড়া স্বাধীনতার সপক্ষের আর কোনো শক্তি এ নির্বাচনে মাঠে ছিল না, সেই হিসাবেও আওয়ামী ভোটাররা বিএনপিকে পছন্দ করেছে। আবার সংখ্যালঘু ভোটাররাও নিজেদের নিরাপদ রাখতে সরাসরি ইসলামিক দলগুলোকে সমর্থন না দিয়ে সার্বজনীন অবস্থানের কথা বিবেচনা করে বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অর্থাৎ চরমোনাইপন্থীদের ভোট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এক বাক্স নীতিতে একত্রে থাকলে বিএনপির কিছু আসনে জয় পেতে আরও বেগ পেতে হতো। যদিও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টির পরিবর্তন হয়েছে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ দেশ গড়ার যে প্রত্যয় তারেক রহমান ব্যক্ত করেছেন, তাতে জেন-জি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিএনপি।

জামায়াতের ভোট বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের জোট গড়া-ভাঙাই মূল কারণ। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর সারা দেশে জামায়াত প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করতে পারেনি, গুপ্ত অবস্থায় থেকে বিএনপি জোটের ওপর ভর করে রাজনীতি করেছে। ফলে এবারে আলাদা হয়ে নির্বাচনে যাওয়ায় সেখানকার বেশ কিছু ভোট জামায়াতের পক্ষে চলে গেছে। একইভাবে সারা দেশে জামায়াত আলাদা হয়ে যাওয়ায় বর্তমান বিএনপি জোটের ভোট কমেছে।

জামায়াতের ভোট বেড়ে যাওয়ার পেছনে আরও দুটি কারণ তিনি উল্লেখ করেন। একটি হলো ৫ আগস্টের পর জামায়াত সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছে। অন্যটি হলো—বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি কিছু নেতার দুষ্কর্মের কারণে বিএনপির ভোট কমেছে।

তিনি মনে করেন, জামায়াতের কিছু কর্মকাণ্ড সমালোচিত না হলে ভোট হয়তো আরও বেড়ে যেত। যেমন—নির্বাচনের আগে জামায়াত টাকা-পয়সা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে সারা দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছে। আবার সরকারে তাদের লোক ঢুকিয়ে কিছু মেকানিজম করার অপচেষ্টা করেছে। ভোট সেন্টার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভোট কেনার বিষয়েও চেষ্টা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায় বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি সেইভাবে ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারেনি। সে কারণে তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও জয়ী হওয়ার প্রবল চেষ্টা ছিল। দলীয় প্রধানের নির্দেশনায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলোও যুগোপযোগী ছিল। দল যাকে প্রার্থী করেছে, তার পক্ষেই সবাই জোটবদ্ধ হয়ে কাজও করেছে। এসব কারণেই বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয় পেয়েছে।

জামায়াতের ভোটের পরিসংখ্যান বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, মূলত বিএনপি-আওয়ামী লীগ—এরাই একে অপরের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বিভক্ত। সত্যি কথা বলতে, ভোটের প্যাটার্নে বিএনপির প্রধান বিরোধী দল না থাকলেও জামায়াত সেই জায়গা অর্জন করতে পেরেছে। জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তারা (জামায়াত) বার্তা দিতে পেরেছে, নিজেদের নতুন হিসেবে তুলে ধরেছে। এছাড়া ধর্মীয় আদর্শের কথা বলতে পেরেছে, যা মানুষ গ্রহণও করেছে।

তিনি বলেন, এর বাইরে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ও জামায়াতের জন্য ভালো হয়েছে। জামায়াত বিগত দিনে প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে রাজনীতি চালিয়ে গেছে, যার প্রমাণ ভোটের মাঠে রেখেছে।

আর দক্ষিণাঞ্চলের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক দল। সবাই মিলে যদি এক বাক্সে ভোট আনতে পারত, তাহলে বিভাগে দুটি নয়, ৬-৭টি আসনে তাদের প্রার্থী বেরিয়ে যেত—বলে মত এই অধ্যাপকের।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় উপলক্ষে কোনো ধরনের উৎসব বা আনন্দ মিছিল নয়, বরং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করেছে বরিশাল মহানগর বিএনপি। একইসঙ্গে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনাও করা হয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বরিশাল নগরীর সদর রোডের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে এ শুকরানা দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় কোথাও কোনো উৎসব বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়; বরং সকলের সহাবস্থানের মাধ্যমে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মহানগর বিএনপি দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করেছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের উন্নয়নে দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

খবর ডেস্ক :
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঢেলে সাজানো হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্ব-স্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সদস্যরা টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন।

এদিকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে আমরা বদ্ধপরিকর।

ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু এবং ভোটকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন স্ব-স্ব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ভৌগোলিকভাবে নদ-নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগ। এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বড় নদীর সংখ্যা ৯৯টি। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য শাখা নদী ও খাল। নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে এসব নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের দুই হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ৬৯৮টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সাথে রয়েছে নানা অস্থিতিশীলতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও।
বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ভোটকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। এছাড়া পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক উপজেলাও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে তা নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইলেকশনের ম্যাটেরিয়ালস পাঠানো, ইলেকশনের জনবল পাঠানো এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা আসলেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এগুলো বিবেচনা করে আমরা কেন্দ্রগুলো সাজিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, প্রার্থীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া। একটি বিষয় পরিষ্কার, আমাদের ব্যক্তি বা কোনো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আনুগত্য নেই।

বরিশাল রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, রিমোট এলাকাগুলোতেও আমাদের ফোর্সগুলো এমনভাবে থাকবে, ১৫ মিনিট হলো আমার রেসপন্স টাইম। যে কোনো ঘটনা শোনামাত্র যে কোনো ফোর্স যেন যে কোনো জায়গায় যেতে পারে, এভাবে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ। আর পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোহাম্মদ শহিদউল্লাহ ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন-উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুবুল ইসলাম, সদস্য রাশেদুল ইসলাম টিটন ও গৈলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক কাজী সেলিমুল ইসলাম সেলিম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তিন নেতাকে স্ব-স্ব পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা বশীর আহম্মেদ পান্না বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত রাখার স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবহানের পক্ষে কাজ করছেন। এই জন্য তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।