নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংগঠনে গতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ হাসান মামুনকে বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বরিশাল মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মাসুদ হাসান মামুনকে পুনরায় দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগর যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, স্বপদে বহাল হওয়ার মাধ্যমে মাসুদ হাসান মামুনের নেতৃত্বে বরিশাল মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও গতিশীল হবে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

খবর ডেস্ক :
বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইঙ্গিতে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গুপ্ত হিসেবে পরিচিতরা নিজেদের প্রেসে ভুয়া ব্যালট ছাপাচ্ছে। যাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখের পর থেকে জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিৎ শিক্ষা আপনাদেরকে দিতে হবে।

“বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভাব হয়েছে।

বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে গাড়িবহর নিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বেলস্ পার্ক মাঠে জনসভার মঞ্চে পৌঁছান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল, জনগণ যাদেরকে ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে এই জালেমদের নেতা- দুই দিন আগে নারীদেরকে কলঙ্কিত করেছে। যেই ব্যক্তি বা যেই দলের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই- তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানমূলক কোনো মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।

“বিবি খাদিজা সম্পর্কে আপনারা জানেন। আমাদের প্রিয় নবী করীম (সা.)-এর স্ত্রী। এই বিবি খাদিজা, একজন কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, ওনার নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। যেখানে মহানবী (সা.) নিজেও কাজ করতেন। এরা বলে ইসলামের রাজনীতি করে। অথচ নবীর স্ত্রী নিজে যেখানে কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কেমন করে সেই রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের নারী সমাজকে আবার একটি কলঙ্কিত করল।

কুমিল্লার এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “গুপ্ত দলের আরেক নেতা, যার বাড়ি কুমিল্লায়। সেই নেতা কিছুদিন আগে দলীয় সমাবেশে বলেছে, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন, পরবর্তীতে জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ চিন্তা করেন- এই রকম কথা কে বলতে পারে! এই কথা থেকে প্রমাণিত হয় কী তাদের মেন্টালিটি, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে তারা জনগণকে নিয়ে কতটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কথা তারা বলতে পারে। এইসব লোক যদি নির্বাচিত হয়, এইসব লোক যদি দায়িত্ব পায়- তাহলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিসহ ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, আমি তার উল্টোটা বলি। আমি আমার নেতাদের, আমি আমার কর্মীদেরকে বলি- ১২ তারিখ থেকে না আপনারা ১৩ তারিখ থেকেও আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ আমরা দেখেছি, জনগণের শক্তি যার পেছনে না থাকে, জনগণের সমর্থন যার পেছনে না থাকে- তার পরিণতি কী হতে পারে ৫ আগস্ট দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে।

বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “১৯৯৩ সালে বিএনপি তথা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলন। তারপরে নদীর পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। আমরা এই এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছি, কিন্তু আরও বহু কাজ করা বাকি। যেমন বরিশাল-ভোলা ব্রিজ এই কাজটি আমাদের করতে হবে। এখানকার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য উন্নয়ন করতে হবে। ভোলায় মেডিকেল কলেজের কাজে আমাদের হাত দিতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গ্রামের খেঁটেখাওয়া নারী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী- সবার কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন এবং পুরুষের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “আমরা এরই মধ্যে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে- বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেব।

তরুণ এবং যুবকদের কর্মস্থান পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবায় পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল আছে যেখানের মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিযুক্ত করতে চাই। তাদের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের, শিশুদেরকে ঘরে বসে ছোট-খোট অসুখের চিকিৎসা দেওয়া। যাতে করে মা ও বোনকে আর কষ্ট করে হাসপাতালে না আসতে হয়।

বলেন, আমাদের দেশে তরুণ ছেলে-মেয়েরা আছে যারা খেলাধুলায় ভালো। এমন যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ভালো তাদের আমরা ট্রেনিং দিতে চাই। যাতে করে তারা খেলোয়াড় হিসেবেও নিজেদের তৈরি করতে পারে।”

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বরিশালে আবার খাল খনন শুরু হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১৩ তারিখে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। নিজে বরিশালে এসে খাল খনন করবেন বলে ঘোষণা দেন তারেক রহমান।”

তিনি বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে বন্যার গতিরোধ করা হবে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সমাবেশ শেষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে বিএনপির ধানের শীষ এবং জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, ভাইস-চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদন, মেজর (অব.) হাফিজ ইব্রাহিম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি জোটের প্রার্থী ও বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী রাজিব আহসানসহ বিভাগের ২১টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

দুপুর দেড়টার দিকে জনসভা শেষ করেন তারেক রহমান। এরপর হেলিকপ্টার যোগে ফরিদপুরে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। মহানগর ও দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।

খবর ডেস্ক :
প্রায় দুই দশক পর বরিশালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা শুরু হয়েছে। তার আগমনকে ঘিরে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জেলাজুড়ে।

বুধবার বেলা ১১টায় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা।

সমাবেশে সবার আগে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। মহানগরের সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে সমাবেশ পরিচালনা করছেন।

জনসভা উপলক্ষে সকাল থেকেই বরিশালসহ পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নদী ও সড়ক পথে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা মঞ্চের সামনের সারিতে অবস্থান নেন।

এরই মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দির আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমার পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রিয় নেতাকে দেখতে এরই মধ্যে নদী এবং সড়কপথে জনসভার মাঠে আসতে শুরু করেছেন বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে নারী কর্মী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সকাল থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঞ্চের সামনের দিকে অবস্থান নিচ্ছেন তারা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, বেলা ১১টায় তারেক রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন। বক্তৃতা শেষে দুপুর ১টায় তিনি ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা মঞ্চ

সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিশেষভাবে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা মঞ্চ রাখা হয়েছে।

২০০১ সালে বরিশালের বেলস্ পার্ক মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ বছর পর একই মাঠের একই মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর পর সশরীরে বরিশালে আসছেন তিনি। ২০০৬ সালের ১৪ মে বরিশালে তৃণমূল বিএনপির কর্মিসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

খবর ডেস্ক :
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বরিশাল সফরে আসবেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বিভাগীয় জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।

সমাবেশের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। বেলা ১১টায় শুরু হবে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা। বেলা ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে পৌঁছাবেন। তাই প্রিয় নেতাকে দেখতে এরই মধ্যে জনসমাবেশের মাঠে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে নারী কর্মীরা মঞ্চের সামনের দিকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা সড়ক ও নৌপথে বরিশালে আসছেন। শীতের শিশির ভেজা ভোরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হচ্ছে বেলস পার্ক মাঠ। নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দেশকাল নিউজকে বলেন, “বেলা ১১টায় জনাব তারেক রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। একই সময় বরিশালে সমাবেশ শুরু হবে। বেলা ১১টায় জনাব তারেক রহমান মঞ্চে ওঠবেন। বক্তৃতা দেবেন এবং দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে ফরিদপুরের উদ্দেশে যাবেন।”

২০০১ সালে বরিশালের বেলস্ পার্ক মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ বছর পর একই মাঠের একই মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর পর সশরীরে বরিশালে আসছেন তিনি। ২০০৬ সালের ১৪ মে বরিশালে তৃণমূল বিএনপির কর্মিসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল আদালত পাড়ায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক প্রকল্প পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি ও অপহরণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলো- হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী মো. নাঈম ও বিএম কলেজ শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম।

আদালত সূত্র জানায়, এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক নগরীর করিম কুঠির লাতু চৌধুরী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল হাই আদালত পাড়ায় আসেন। এ সময় শিক্ষার্থী নাঈম ও কামরুল ইসলাম তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোটরসাইকেল দাবি করে। দাবি পূরন না করলে আদালত পাড়া থেকে বের হলে তাকে অপহরণ করার হুমকি দেয়। তখন ওই কর্মকর্তা আদালত পাড়ার পুলিশ সদস্যদের কাছে অবহিত করে। বিষয়টি জানতে পেরে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়তুল্লাহ তিনজনকে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ খবর দিয়ে নাঈম ও কামরুলকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আদালতে দুইজনকে ধরে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. সাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। তাদের কি কারণে আটক করা হয়েছে বিষয়টি জানতে থানায় এসেছিলাম। কিন্তু তারা থানায় নেই। তাই চলে এসেছি।

খবর ডেস্ক :
ফ্যামিলি কার্ড প্রদর্শন করলে নারীরা বিনা সুদে ঋণ পাবেন, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি জানান, নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে কুটির শিল্প, হাঁস–মুরগি পালন অথবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে বিনা সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় কোনো দালাল বা অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন হবে না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের মানিককাঠী এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মতো এবার ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা বা ভোট ছিনতাইয়ের ঝুঁকি নেই। জনগণ আরও সচেতন হয়েছে, তাই ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

শিক্ষা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে স্থানীয় এলাকার সব বোনদের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। তারা যেই স্তর পর্যন্ত পড়তে চাইবে, সেই পর্যায়ের ব্যয় সরকার বহন করবে। এমন পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তায় বিএনপি ‘কৃষি কার্ড’ ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিনামূল্যে সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাবেন। বর্তমানে এসব উপকরণ নিতে কৃষি অফিসে ঘুষ বা দালালির অভিযোগ থাকলেও নতুন কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থায় এসব অনিয়ম কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশের কৃষক ও নারীদের কথা বিবেচনা করে কার্ডভিত্তিক এসব সেবা প্রস্তাব করেছেন। এতে দুর্নীতি কমবে, সুবিধাভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

জয়নুল আবেদীনের এসব প্রতিশ্রুতি ঘিরে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এসময় নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১নং সহ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুল আসাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহম্মেদ খান, সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স, জেলা বিএনপির সদস্য ইশরত হোসেন কচি তালুকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

খবর ডেস্ক :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশালে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী সফরে বরিশালে আসার মধ্য দিয়ে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের মাটি স্পর্শ করতে যাচ্ছেন। তার আগমন ঘিরে এরইমধ্যে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের উম্মাদনা বইতে শুরু করেছে।

এদিকে বিএনপির দলীয় এই প্রধানের সফরের ঠিক এক দিন পর, ৬ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সফর করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। যদিও এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় আসছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির (চরমোনাই পীর) সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিন দলের তিন প্রধানের আগমন ঘিরে বরিশালে এখন স্ব-স্ব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বেলস পার্ক মাঠে বিভাগীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

সবশেষ তিনি ২০০৬ সালে বরিশালে এসেছিলেন। এদিকে জামায়াত আমির ৬ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগা ময়দানে জনসভা করবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের বরিশাল আগমন প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরীন জানান, দলীয় চেয়ারম্যান ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশালে আসবেন।

বেলস পার্কে তিনি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বিলকিস জাহান বলেন, ‘বিমানে নেতা আসবেন। আমরা তাকে বরণে প্রস্তুত রয়েছি।’

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন শিকদার বলেন, সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ধারণা তারেক রহমানের জনসমাবেশ বেলস পার্ক ছাপিয়ে যাবে।

বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। কাজেই ২০ বছর পর নেতাকে দেখতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
এদিকে ৬ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মেহেন্দীগঞ্জ সফর নিয়েও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এই সমাবেশে দুই লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য জামায়াতের।

জামায়াতের বরিশাল জেলার নায়েবে আমির ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল ৯টার পর মেহেন্দীগঞ্জের আরসি কলেজ মাঠে ভাষণ দেবেন। তিনি হেলিকপ্টারে সেখানে আসবেন। তার নির্বাচনী জনসভায় দুই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ৫ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ প্রসঙ্গে দলটির মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এবং বরিশাল-৫ আসনের দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, আমিরের বরিশালের জনসভার প্রধান টার্গেট সদর আসন। কারণ এটি তার বাড়ি। এই আসনে জয়লাভ করতে তারা সর্বশক্তি প্রদর্শন করবেন। এ জন্য বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী হয়েছেন আমিরের ভাই সৈয়দ ফয়জুল করীম।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশালে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেছেন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন।

আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ও এর আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালান তিনি। এ সময় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান মাসুদ হাসান মামুন।

প্রচারণাকালে তার সঙ্গে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা লিফলেট বিতরণ, স্লোগান ও গণসংযোগের মাধ্যমে এলাকার জনগণের কাছে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেন।

এ সময় মাসুদ হাসান মামুন বলেন, “দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। মজিবর রহমান সরওয়ার একজন পরীক্ষিত ও জনবান্ধব নেতা।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারই পারে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে টেকসই করতে। তাই ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রচারণা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারসহ প্রভাবশালী ৬ বিএনপি নেতা ও তাদের শতাধিক কর্মি সমর্থকরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার বিকেল ৪ টায় উপজেলার বাইশারী বাজার সংলগ্ন নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার সামনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনের জামাত মনোনীত প্রাথী ও বরিশাল জেলা জামাতের নায়েবে আমীর আব্দুল মান্নান মাস্টার আয়োজিত উঠান বৈঠকে যোগদান করেন তারা।

জামাতে যোগদান করা অন্যান্য নেতারা হলেন, বানারীপাড়া পৌর কৃষকদলের আহবায়ক মো : গফ্ফার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো : সিদ্দিক মল্লিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর তালুকদার, ইলুহার বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুজ্জামান, , উদয়কাঠী ইউনিয়রন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাঞ্চন তালুকদার, বিশারকান্দি ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুস সালামসহ ২ শতাধিক নেতাকর্মি।

সূত্র জানায় বরিশাল (দক্ষিন) জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার ও তার সমর্থকদের সাথে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর মতবিরোধ ছিলো।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু এক বারের জন্যও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারসহ অন্যন্যদের ডাকেন নি। এমনকি স্ব উদ্যোগে তারা কাজ করতে চাইলেও তাদের নিরুৎসাহিত করেন সান্টু।

এ কারনে বিএনপির এসব নেতারা সান্টুর উপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েউপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক আ. গাফফার হোসেন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার জানান, চার দশক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, দলে এখন টাকায় মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং নেতাদের কাছে কর্মীরা প্রতারিত হচ্ছে। যে কারনে দলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

’মাহবুব মাস্টার জানান, তিনি দলের কাছে নিগৃহিত হয়েই শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি উঠান বৈঠকে তিনিসহ তার বিশাল অনুসারীসহ জামায়াতে যোগদান করেছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, পদত্যাগের কথা শুনেছেন তবে জামাতে যোগদান করেছেন এ কথা তার জানা নেই। তিনি বলেন, মাহবুব মাস্টারের অভিমান ভাঙিয়ে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশালে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ারের পক্ষে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনের হাট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন খান, আল আমিন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিনা বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ারের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ের বিকল্প নেই। “দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ারকে নির্বাচিত করবেন। ধানের শীষই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বিপুল ভোটে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ারকে বিজয়ী করে আমরা চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেব। আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উঠান বৈঠকে এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।