নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের মুলাদী পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীসহ পৌর এলাকার সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা রফিকুল ইসলাম ঢালীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ঢালী ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০২ সালে মুলাদী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে মুলাদী পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বৃহত্তর বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

এছাড়াও তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি মুলাদী উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৯ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়। ২০১৪ সালে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় মাস কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতেও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলীর হাত থেকে প্রানে রক্ষা পাওয়া রফিকুল ইসলাম ঢালী ১০১ দিনের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সহযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার নেতৃত্বে মুলাদীতে ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী গড়ে উঠেছে, যাদের কেউ কেউ বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার পারিবারিক পটভূমিও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা মরহুম আলহাজ্ব আলম ঢালী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির আদর্শে অনড় ছিলেন।

মুলাদী পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন মেয়র প্রার্থী চান যিনি আন্দোলনে পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। তাদের মতে, রফিকুল ইসলাম ঢালী মেয়র প্রার্থী হলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং জনসেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে ঋণ নিয়ে স্বামীকে সৌদি আরব পাঠিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ।

রবিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর হাটখোলা স্বরূপ আলী গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ নুপুর বেগম ওই এলাকার সেন্টু বেপারীর স্ত্রী। সংসারে তাদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ছিনথিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন আমানতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আব্দুল কুদ্দুস জানান, গৃহবধূকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ১৭ বছর আগে স্থানীয় রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে সেন্টু এবং হারুন ফকিরের মেয়ে নুপুরের বিয়ে হয়। সেন্টুর একার সামান্য আয়ে সংসার চলছিল না। এ জন্য গত ১৪ দিন আগে কর্মের তাগিদে সৌদি আরবে গেছেন সেন্টু।

নিহতের বড় মেয়ে ছিনথিয়া জানায়, ঘটনার সময় দুই বোন কোচিংয়ে ছিল। বাসায় ফিরে দেখতে পায় মা ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। দুই বোনের ডাক-চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

ছিনথিয়া আরও বলেন, সংসারে অভাব দূর করতে মামার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এবং সমিতিসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার নিয়ে গত ১৪ দিন আগে বাবাকে সৌদি আরবে পাঠান মা। বাবাকে সৌদি পাঠিয়ে সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মা।

এ কারণেই আত্মহত্যা কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানায় ছিনথিয়া।

মরদেহ উদ্ধার করা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরগুনা প্রতিনিধি :

বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বিশখালী নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে বড় আকৃতির একটি ‘রাজা’ ইলিশ। ১ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি স্থানীয় বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার সকালে পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে নিলামে প্রতি মণ ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হিসাবে মাছটি ৭ হাজার ৯২০ টাকায় ক্রয় করেন পাইকার মো. জাকির হোসেন।

শুক্রবার রাতে বিশখালী নদীতে মাছ ধরার সময় জেলে মো. রাসেলের জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে শনিবার সকালে মাছটি বিক্রির জন্য মেসার্স মনিরা আড়তে নিয়ে আসা হলে নিলামের মাধ্যমে পাইকার জাকির হোসেন মাছটি কিনে নেন।

পাইকার জাকির হোসেন জানান, বড় আকারের হওয়ায় মাছটি ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাছের আড়তে পাঠানো হবে। সেখানে আরও বেশি দামে বিক্রির আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদাররা বলেন, বর্তমানে বিশখালী-বলেশ্বর নদীতে মাছের সংকট চলছে। জেলেদের অনেক সময় খরচই উঠছে না। ধরা পড়া ইলিশের বেশিরভাগই ছোট হওয়ায় হতাশা ছিল। হঠাৎ বড় ইলিশ পাওয়ায় জেলেদের মুখে হাসি ফিরেছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, শীত মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ইলিশ উপকূলের দিকে আসতে শুরু করে। এ ধরনের বড় আকারের ইলিশকে স্থানীয়ভাবে ‘রাজা ইলিশ’ বলা হয়। বর্ষা মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের নিউভাটিখানা এলাকার শাহজাহান মিয়া গলির ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেনটি ময়লা-আবর্জনায় সম্পূর্ণভাবে ভরে গিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি জমে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ এবং আশপাশের পরিবেশ হয়ে উঠছে বসবাসের অযোগ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জমে থাকা নোংরা পানির কারণে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে করে মা-বোন ও ছোট ছোট শিশুসহ এলাকাবাসী নিয়মিত মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দিন দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বরিশালের নতুন প্রশাসকের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে ড্রেনটি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হোক এবং মশা নিধনের কার্যক্রম জোরদার করা হোক।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ ৫৯৯ দিন পর বরিশালের বাবুগঞ্জে মুখ ঢেকে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন নেতাকর্মী বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেটে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ব্যানার টাঙান তারা।

স্বাধীনতা দিবস পালনের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা ৫ থেকে ছয়জন নেতাকর্মী তড়িঘড়ি করে পরিত্যাক্ত দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করছে। দুজন ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করে কর্মসূচি শেষ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা জানান, ভবিষ্যতে দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন বা ব্যানার টানানোর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বর্তমানে ওই কার্যালয়ে কোনো পতাকা দেখা যায়নি এবং এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি পুরাতন কোনো ঘটনা হতে পারে।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে জনতা। এরপর দীর্ঘ সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে দলীয় কার্যালয়টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মুলাদী পৌর যুবদলের উদ্যোগে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ঢালীর আয়োজনে ডাক বাংলোর সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুলাদী প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তারা দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃষ্টিস্নাত ভোরে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে বরিশাল নগরের প্রধান ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন সবাই।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে সব মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা হয় এবং মানবসেবায় আরও বেশি আত্মনিয়োগের তৌফিক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

তবে বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের নামাজে অংশ নিতে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অনেক স্থানে ঈদগাহে জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করে মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

অপরদিকে বরিশাল নগরসহ জেলা ও বিভাগজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালের মুলাদী পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তৃণমূল ও পৌরবাসীর দাবি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা রফিকুল ইসলাম ঢালী কে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ঢালী ২০০২ সালে মুলাদী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে ২০০৪ সালে মুলাদী পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বৃহত্তর বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

পাশাপাশি তিনি মুলাদী উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

 

আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রফিকুল ইসলাম ঢালী। ২০০৯ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়।

২০১৪ সালে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় মাস কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও মামলায় জড়িত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সর্বমোট একাধিক মামলায় তিনি ১০১ দিনের বেশি কারাভোগ করেছেন। ৭ই ডিসেম্বর ২০২২ ঢাকা বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে গুলির মুখে পড়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান।

ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার মুখেও পড়েন বলে জানা গেছে। একই বছর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

 

ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় আদর্শকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সহযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তার নেতৃত্বে মুলাদীতে ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী গড়ে উঠেছেন, যাদের কেউ কেউ বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করছেন।

 

পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি

রফিকুল ইসলাম ঢালীর পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা মরহুম আলহাজ্ব আলম ঢালী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ইউপি সদস্য ছিলেন এবং বিএনপির আদর্শে অনড় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

 

তৃণমূলের প্রত্যাশা

মুলাদী পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্দোলনে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, রফিকুল ইসলাম ঢালী দায়িত্ব পেলে পৌরসভার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি দলীয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। দলীয় অবদান, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রথম নারী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

সোমবার দুপুরে নগর ভবনে বিদায়ী প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর সদর রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন নবনিযুক্ত এই প্রশাসক।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিরীন বলেন, “আমি প্রশাসক নই, জনগণের সেবক হতে চাই। সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে একটি সুন্দর তিলোত্তমা নগরী গড়তে চাই। এ জন্য নগরবাসীকে আন্তরিকভাবে পাশে থাকতে হবে।”

এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহারের কথা উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নগর ভবনে পৌঁছালে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক কাউন্সিলররা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পরে নবনিযুক্ত প্রশাসক বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বিসিসির সচিব রুম্পা সিকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও এবায়দুল হক চাঁন।

এ ছাড়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অপারেশনের প্রস্তুতি ছিল সম্পন্ন। কয়েক মিনিট পরই অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কথা দুই নারী রোগীকে। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগে পরপর মারা যান দুই নারী রোগী। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ৭টায় হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক, কান ও গলা বিভাগে ঘটে এই ঘটনা।
মারা যাওয়া দুই নারী হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা সেফালী বেগম (৬০) এবং বরিশালের কাশিপুর বিমানবন্দর থানার বাসিন্দা হেলেনা বেগম (৪৫)।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সেফালী বেগমের গালে টিউমার জাতীয় সিস্ট এবং হেলেনা বেগমের থাইরয়েডের সমস্যার কারণে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার সকালে তাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।

স্বজনদের দাবি, অপারেশনের আগে দুই রোগীই স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তাদের শারীরিক অবনতি ঘটে। এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ওয়ার্ডে এসে কর্তব্যরত নার্স মলিনা রানী হালদার ও নার্স হেলেনা দুই রোগীর শরীরে একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। স্বজনদের অভিযোগ, ভুলবশত এনেস্থেসিয়ার একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। হাসপাতাল পরিচালক :ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, দুই রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আস্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।