খবর ডেস্ক :
রাতের অতন্দ্র প্রহরী কুকুর। মানুষ যখন গভীর নিদ্রায় থাকে তখনও রাত জেগে মনিবের সম্পদ পাহারা দেয় এই বোবা প্রাণী। সম্প্রতি বরিশাল নগরজুড়ে কুকুরের একের পর এক মৃত্যু ভাবিয়ে তোলে নাগরিকদের। অবশেষে সামনে এলো কুকুরের মৃত্যুর রহস্য।

মূলত স্বাভাবিকভাবে নয়, নিরীহ এই প্রাণীগুলোকে বিষ খাইয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি বরিশাল নগরীর উত্তর জনপদ কাউনিয়া এলাকায় দুই দিনে ১৬টি কুকুর হত্যার পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা। এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রাণী লাভাররা দোষিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।

আর প্রশাসন বলছে, প্রাণী হত্যা মহাপাপ। লিখিত অভিযোগ পেলে যারাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত- তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ক্লাবরোডে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে মরে পড়ে আছে একের পর এক কুকুর। কোনটি বাচ্চা, আবার কোনটি বয়স্ক কুকুর। কিছু কুকুর রাস্তার পাশে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় থেকে ৬ বছর ধরে দেখভাল এবং খাবার খাওয়াচ্ছেন ক্লাব রোডের বাসিন্দা ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স, প্রাণী প্রেমী লিংকন দত্ত।

তিনি বলেন, “কাউনিয়া ক্লাব রোড এবং পার্শ্ববর্তী কাঠের পোল এলাকায় ৩০টির মত কুকুর রয়েছে। কুকুরগুলোকে গত ছয় বছর ধরে প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে আমিই খাবার দিয়ে আসছি। শীত এবং বর্ষায় ওদের থাকার জন্য আমার বাড়ির মধ্যে একটি টিনের সিড বানিয়ে দিয়েছি। ওদের চিকিৎসাও আমি করি। এগুলো কারোর ক্ষতি করেছেন- এমন অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি।”

লিংকন দত্ত বলেন, “কুকুরগুলো মৃত্যুর ঠিক তিন-চারদিন আগে একজন ব্যক্তি এসে কেক খাইয়ে গেছে। তার কাজে আমি প্রশংসাও করেছি। কিন্তু দুই দিন পর থেকেই দেখছি কুকুরগুলো নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে এবং একে একে মরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকছে। দুই দিনে ক্লাব রোড এবং কাঠের পোল এলাকার দুটি মা কুকুরসহ ১৬টি কুকুর একে একে মারা গেছে। এখনো অন্তত ৮/১০টি কুকুর নিস্তেজ হয়ে ঝিমচ্ছে।”

লিংকন দত্তের ধারনা কেক দেওয়া ব্যক্তিই কেকের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেছে কুকুরগুলোকে। এ বিষয়ে তিনি থানা এবং সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিবেন বলেও জানান।

লিংকন দত্তের মত একই অভিযোগ করেছেন, ক্লাব রোডের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার উপ-পরিচালক বিপ্লবসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিটি কুকুরই শান্ত স্বভাবের ছিল। কাউকে ক্ষতি করতো না। গভীর রাতে চোর বা সন্দেহজনক কাউকে দেখলে ক্ষুব্ধ হতো। সম্প্রতি এক ব্যক্তি কুকুরগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে কুকুরগুলো হত্যার পেছনে সেই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শুধু কাউনিয়া ক্লাব রোড বা কাঠের পোল এলাকায় নয়, নগরীর ভাটিখানা, রূপাতলী এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এলাকাতেও বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে রাস্তার কুকুর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। রাতের ফাঁকা নগরীতে চুরি, ছিনতাই এবং অপরাধ সংগঠিত করতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কুকুরগুলো নির্বিচারে হত্যা করা হতে পারে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কুকুর হত্যার ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ্য করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের ভেটেরেনারি সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তার কুকুর পরিবেশের জন্য অনেক উপকারী। এগুলো না থাকলে মানুষকে অনেক বেগ পেতে হতো। তাছাড়া কুকুর নিধন রোধে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। এজন্য গত বছরের জুনে সিটি করপোরেশন থেকে ৪০ হাজারের বেশি কুকুরকে আমরা ভ্যাকসিন দিয়েছি।

তিনি বলেন, “কুকুরগুলোকে কারা হত্যা করেছে সেটা চিহ্নিত করা দরকার। এই ঘটনায় কুকুরের মালিক বা কারোর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।”

নগরজুড়ে নিরীহ প্রাণী কুকুর হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “প্রাণী হত্যা মহাপাপ। তবে ইতোপূর্বে কুকুর হত্যার অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র : দেশকাল নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে বিজয় করে ১৩ তারিখ থেকে দরজা খোলা রেখে শান্তিতে ঘুমাবেন। আমি নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না, কেউ জুলুমের শিকার হবে না।”

রবিবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সদর রোড এলাকায় হাতপাখার সমর্থনে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এমন দাবি করেন।

পথসভা শেষে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ গঠন করব- যেখানে সকলে তার অধিকার পাবে। জনগণের এক টাকাও চুরি হবে না।”

এসময় ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম আল আমিন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

সকালে বরিশাল নগরীর নূরিয়া স্কুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পরিদর্শন করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে রাতের আঁধারে খাবার হোটেল দখল করে বিএনপির নির্বাচনি অফিস বানানোর অভিযোগ উঠেছে ‘জামায়াত কর্মীর’ বোনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে এলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানার, সাইনবোর্ড সরিয়ে দোকানটি দখলমুক্ত করেন।
শনিবার রাত ১২টার পর বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঅ্যান্ডবি পোল এলাকায় ‘ভাই ভাই খাবার হোটেল’ দখলের ঘটনা ঘটে। পরে রবিবার সকালে দোকানটি দখলমুক্ত হয়।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ অকপটেই স্বীকার করেছেন ‘জামায়াত কর্মীর’ বোন নিলুফা।

ভুক্তভোগী দোকানের ভাড়াটিয়া নাসির হাওলাদার জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি হোটেল বন্ধ করে বাসায় যান। রবিবার সকালে এসে দেখতে পান হোটেলে সাটারের তালা ভাঙা এবং ভেতরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের ছবি সংবলিত একাধিক ব্যানার ও সাইনবোর্ড দিয়ে হোটেলটি দখল করা হয়েছে।

খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে হৈইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। এসময় স্থানীয়দের সামনেই ‘জামায়াত কর্মী’ সুলতান মাহমুদের বোন নিলুফা দোকানের ভাড়াটিয়া নাসির হাওলাদারের কাছে স্বীকার করেন- স্বপ্রণোদিত হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যসচিব তারেক হাফিজ জানান, নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এটি সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমরা চাই, যারাই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রশাসন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন জানান, আসন্ন নির্বাচনে সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিতর্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতেই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করিয়েছে।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া সুলতান মাহমুদ নামে কোনো জামায়াত কর্মী আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে তো অবশ্যই জানতাম।

সূত্র : দেশকাল নিউজ

খবর ডেস্ক :
ইলিশ সম্পদ রক্ষায় দেশব্যাপী চলছে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এই অভিযানের আওতায় জাটকা শিকার, বাজারজাত, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর পরও থেমে নেই জাটকা নিধন এবং বাজারজাত।

প্রতিদিন এবং রাতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে পাচার করা হচ্ছে জাটকা। আর প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিতে এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহন।

সম্প্রতি বরিশালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের পৃথক অভিযানে এমন তথ্য উঠে আসে। গত তিন দিনেই যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে তারা জব্দ করেছেন ছয় হাজার কেজির ওপরে জাটকা ইলিশ। এসব ঘটনায় দু-চারজন আটক হলেও নামমাত্র জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বাস স্টাফরা। আর ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল পাচারকারীরা।

জানা গেছে, বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ।

এসময় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ‘অন্তরা ক্লাসিক’ ও ‘রাজধানী’ নামের দুটি পরিবহনে তল্লাশি করে ৩৯টি ককসিটে রক্ষিত ৩ হাজার কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশাল আদালত চত্বরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ ইসলাম ও মিরাজুল ইসলাম রাসেলের উপস্থিতিতে জব্দ হওয়া জাটকাগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর বান্দরোডে লঞ্চঘাট এলাকা থেকে পাঁচশ কেজি জাটকা জব্দ করে কোতয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ। আটক করা হয় তিনজন জাটকা পাচারকারীকে। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর কাশিপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বরিশাল-ঢাকা-মহাসড়কে বাসে তল্লাশি করে ২ হাজার ৫৬০ কেজি জাটকা জব্দ করে সেনাবাহিনী। এসময় আটক তিনজন বাস স্টাফের কাছ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বা নৌপথে জাটকা পাচাররোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে যাত্রীবাহী বাসে জাটকা পাচার করছে। জাটকা জব্দ করা হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি হবে ভেবে পরিবহনগুলো আটক করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাস মালিক এবং শ্রমিকদের সচেতন হওয়া দরকার। পরিবহন বন্ধ হলে জাটকা শিকারও বন্ধ হবে। আর জাটকা শিকার না হলে বেচাকেনাও চলবে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোতে জাটকা পাচার বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে “অন্তরা ক্লাসিক, রাজধানী, মোল্লা, মোড়ল, চেয়ারম্যান, বাউফল ট্রাভেলস” সহ বেশকিছু লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহনে নিয়মিত জাটকা পাচার হয়। এর সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার, চালক এবং হেলপাররাও জড়িত। অন্য মালামালের থেকে জাটকা পরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণের বেশি লাভবান হওয়ার লোভে যাত্রীবাহী বাসে অবৈধ জাটকা পরিবহন করেন তারা।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হামিউজ্জামান বলেন, “ইতোপূর্বে আমরা বেশ কিছু যাত্রীবাহী বাস থেকে জাটকা জব্দ করেছি। এসব বাসের স্টাফদের মাধ্যমে জেনেছি মূলত বাউফল এবং পটুয়াখালী থেকে বেশি জাটকা পাচার হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মূলত ভোলা এবং পটুয়াখালী মূল পয়েন্ট। এছাড়া বরিশালের হিজলা, মুলাদী এবং মেহেন্দিগঞ্জেও নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব নদী থেকে জাটকা শিকার করে এক জায়গায় করে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। নদী বা ট্রাকে জাটকা পরিবহন নিরাপদ না হওয়ায় এখন যাত্রীবাহী বাসে গভীর রাতে জাটকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে আমাদের নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

যাত্রীর সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সড়ক পথে প্রশাসনিক টহল এবং তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
সূত্র : দেশকাল নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১টায় রায়পাশা-কড়াপুরে নিসর্গ পার্কে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন।

প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- খুলনা মোট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম।

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হীরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করণের পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংবাদিকতার মনোন্নয়নসহ নানা বিষয় উঠে আসে অতিথিবৃন্দের আলোচনায়।

এদিকে সভার একাংশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফিন তুষারের রুহের মাগফেরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পরে বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিগত দুই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হীরা। এছাড়া আয়-ব্যায়ের হিসাব উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ মাসুদ তালুকদর।

সাধারণ সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি নির্বাচিত করা হয়। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার খান রুবেল, নির্বাচন কমিশনার শাহিন হাওলাদার ও ফাহিম ফিরোজের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সদস্যদের কন্ঠ ভোটে বর্তমান কমিটিকে আরও দুই বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এদিকে দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজন ঘিরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেন জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আব্দুস সোবহানের নির্বাচনি প্রচারে দুই দফায় বাধা দেওয়ার অভিযাগ উঠেছে। এসময় তার দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রতিপক্ষের কর্মীদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পিঙ্গলাকাঠী বাজার ও সরিকল বন্দরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকের প্রচারণার সময় এই ঘটনা ঘটে।

আহত দুই কর্মী হলেন- গৌরনদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম ফকির ও অপরজন বিএনপি কর্মী কামাল খান।

দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবহান অভিযোগ করে বলেন, “সকালে পিঙ্গলকাঠী বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথম দফায় আমার নির্বাচনি প্রচারে বাধা দিয়েছে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরিকল বন্দরে নির্বাচনি প্রচার চালাতে গেলে সেখানেও বাধার কারণে প্রচারে চালাতে পারিনি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “সরকার তথা নির্বাচন কমিশন যদি বলে দেয় যে, একদল ছাড়া কোনো প্রচার করা যাবে না; তাহলে আমরা প্রচার চালাব না। কিন্তু সরকার তথা নির্বাচন কমিশন তো তা বলেনি। আর আমি তো কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। তাহলে আমার প্রচারে বাধা কেন?”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে ভয় বা বাঁধা দিয়ে আটকানো যাবে না। ভয়হীন ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে আমার এই যাত্রা। আমার এই যাত্রায় জনগণই বিজয়ী হবে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, “বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। উপজেলাজুড়ে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বরিশালের সংসদীয় ৬ টি আসনে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনা শুরু করেছে প্রার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার প্রচার প্রচারনা শুরু করেন। এসময় তার সাথে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ফেরাতে যে কোন ব্যবস্থা নেয়া দরকার ভোটের জন্য। অবৈধ্য অস্ত্র উদ্ধার করা ভালো তবে এই অবৈধ্য অস্ত্রের কারনে নির্বাচনি পরিবেশ খারাপ হবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। এবারের নির্বাচন হবে ঈদের সমারহে।

এর আগে সকাল থেকেই ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ও বাসদ মনোনীত মই মার্কার প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী বরিশাল নগরীর সদর রোড সহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারনা চালনান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি সংসদীয় আসনে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল সদর ৫ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৬১৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৭৭ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বিগত দিনে জামায়াত ইসলামীর আমিরের সম্মানার্থে তার আসনে হাতপাখার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি, আবার তিনিও (জামায়াতের আমির) আমাদের সম্মান করে এখান থেকে প্রার্থী তুলে নিয়েছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। গতকালই আমি বরিশাল-৫(সদর) আসনের জামায়াতের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাহেবকে ফোনকল দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুনভাবে কোনো জোটে যাওয়ার এখন কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি তারা শরিয়াহ ভিত্তিক এবং কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক আইন প্রণয়ন করে এবং সুযোগ হয়, তাহলে অবশ্যই জোটে যাবে ইসলামী আন্দোলন।

আমাদের ‘একবাক্সের’ মূল থিমটা ছিল ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স। কিন্তু যখনই তিনি (জামায়াতের আমির) এক খ্রিস্টান ভদ্র মহিলার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে এবং শরিয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করবো না। তখন তো আর আমাদের এক বাক্স থাকে না। কারণ আমাদের এক বাক্সের নীতিটা ছিল ইসলামের পক্ষে এক বাক্স, এজন্য ইসলামের পক্ষে হাতপাখার বাক্স আছে।

বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের এ প্রার্থী বলেন, প্রশাসনের ঢিলাঢালা অবস্থা দেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জনগণ সন্দেহ প্রকাশ করছে। আমি প্রশাসনকে বলবো, আপনারা কোনো অবস্থাতেই কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না। সেইসঙ্গে নির্বাচনে দখলদারি, জোর এবং কালো টাকার ব্যবহার কোনোভাবেই যেন না হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দেশের উন্নয়নে একটি পরামর্শশালা করা হবে।

যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের নাগরিকরা থাকবেন, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে বরিশালের যা যা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কাজে হাত দেবো।
যারা আসামি নয়, তাদের আসামি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার এক কর্মীকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে কেস ঠুকে দেওয়া হলো, কিন্তু সে আওয়ামী লীগ না প্রমাণ করতে করতে তো নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। তাই আমি প্রশাসনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার জন্য অনুরোধ করছি। প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো অবস্থাতেই যাদের বিরুদ্ধে কেস নেই, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কেস দেওয়া যাবে না। যারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নয়, তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না, সেইসঙ্গে বেনামি-অজ্ঞাত একজন আসামিও গ্রেপ্তার করা যাবে না।

সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চাইলে প্রশাসন কাউকে যেন হয়রানি না করে সেই আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা শুধু সাংবাদিকদের নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবো। কর্মী সম্মেলনে আমি সবাইকে খাদেম হতে বলেছি। রাজনৈতিক কাজটাকে খেদমত মনে করো, এটা ভোগের বা ব্যাবসার কোনো জায়গা মনে করবে না। এতদিন ক্ষুধার্ত ছিলাম এই বক্তব্য ধ্বংসের কারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) পাঁচজনকে, বরিশাল-২ আসনে (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আটজনকে, বরিশাল-৩ আসনে (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) ছয়জনকে, বরিশাল-৪ আসনে (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) পাঁচজনকে, বরিশাল-৫ আসনে (সদর) ছয়জনকে এবং বরিশাল-৬ আসনে (বাকেরগঞ্জ) ছয়জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যেখানে ৩৫ জন প্রার্থী দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন এবং জেলার একমাত্র আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বরিশাল-১ আসনের (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে তার কাঙ্ক্ষিত ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪৩ জন। এরমধ্যে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ৩৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়ে আনন্দিত বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের অনুপ্রেরণাই আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আমি ফুটবল প্রতীক চেয়েছিলাম। আর সেই কাঙ্ক্ষিত ফুটবল প্রতীকই আমি পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি বরিশাল-১ আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী। ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, ভোটাররা যা বলবেন, যেভাবে চাইবেন; আমি সেভাবেই উন্নয়ন করবো।

প্রত্যেক নাগরিকের যানমালের নিরাপত্তা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বরিশাল-১ আসন গড়াই আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার।

অপরদিকে, বরিশালের ছয়টি আসনের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর তাদের কর্মী-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। সবমিলিয়ে পুরো নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বরিশাল জুড়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বরিশালের ছয়টি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল আহসান এবং প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৫ (সদর ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ২৯ ডিসেম্বর বরিশালবাসীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে ১০ দলীয় জোট গঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট গঠনের আগেই সারাদেশের তিনশত আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আমাকে মনোনীত করা হয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের ঐক্য হয়েছে। ফলে জামায়াত ইসলামীসহ দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়ন পুনঃবণ্টনের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি, কল্যাণমুখী রাজনীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে এ দাবি দেশবাসীরও। জামায়াত ইসলামী বড় দল হিসেবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। আমাদের নেতা ড. শফিকুর রহমানের আহ্বানে এই ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে।

তিনি যোগ করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি, এজন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনে চরমোনাইয়ের সমর্থনে ১০ দলীয় জোট এবং জামায়াত ইসলামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর) ব্যতীত বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) থেকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে তিনিসহ চরমোনাই পীরের জন্মস্থান বরিশাল হওয়ায় বরিশাল-৫ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং জামায়াত অন্য (বরিশাল-৬) আসনে তার প্রার্থীতা বহাল রেখেছে।

এদিকে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪১ জন। এদের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।