নিজস্ব প্রতিবেদক :
দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে ঋণ নিয়ে স্বামীকে সৌদি আরব পাঠিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ।
রবিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর হাটখোলা স্বরূপ আলী গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ নুপুর বেগম ওই এলাকার সেন্টু বেপারীর স্ত্রী। সংসারে তাদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ছিনথিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন আমানতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল কুদ্দুস জানান, গৃহবধূকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ১৭ বছর আগে স্থানীয় রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে সেন্টু এবং হারুন ফকিরের মেয়ে নুপুরের বিয়ে হয়। সেন্টুর একার সামান্য আয়ে সংসার চলছিল না। এ জন্য গত ১৪ দিন আগে কর্মের তাগিদে সৌদি আরবে গেছেন সেন্টু।
নিহতের বড় মেয়ে ছিনথিয়া জানায়, ঘটনার সময় দুই বোন কোচিংয়ে ছিল। বাসায় ফিরে দেখতে পায় মা ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। দুই বোনের ডাক-চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।
ছিনথিয়া আরও বলেন, সংসারে অভাব দূর করতে মামার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এবং সমিতিসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার নিয়ে গত ১৪ দিন আগে বাবাকে সৌদি আরবে পাঠান মা। বাবাকে সৌদি পাঠিয়ে সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মা।
এ কারণেই আত্মহত্যা কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানায় ছিনথিয়া।
মরদেহ উদ্ধার করা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






