নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের মুলাদী পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তৃণমূল ও পৌরবাসীর দাবি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা রফিকুল ইসলাম ঢালী কে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ঢালী ২০০২ সালে মুলাদী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে ২০০৪ সালে মুলাদী পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বৃহত্তর বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
পাশাপাশি তিনি মুলাদী উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রফিকুল ইসলাম ঢালী। ২০০৯ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়।
২০১৪ সালে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় মাস কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও মামলায় জড়িত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সর্বমোট একাধিক মামলায় তিনি ১০১ দিনের বেশি কারাভোগ করেছেন। ৭ই ডিসেম্বর ২০২২ ঢাকা বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে গুলির মুখে পড়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান।
ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার মুখেও পড়েন বলে জানা গেছে। একই বছর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় আদর্শকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সহযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তার নেতৃত্বে মুলাদীতে ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী গড়ে উঠেছেন, যাদের কেউ কেউ বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি
রফিকুল ইসলাম ঢালীর পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা মরহুম আলহাজ্ব আলম ঢালী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ইউপি সদস্য ছিলেন এবং বিএনপির আদর্শে অনড় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তৃণমূলের প্রত্যাশা
মুলাদী পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্দোলনে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, রফিকুল ইসলাম ঢালী দায়িত্ব পেলে পৌরসভার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি দলীয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। দলীয় অবদান, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






