TT Ads
Spread the love

খবর ডেস্ক :
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঢেলে সাজানো হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্ব-স্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সদস্যরা টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন।

এদিকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে আমরা বদ্ধপরিকর।

ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু এবং ভোটকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন স্ব-স্ব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ভৌগোলিকভাবে নদ-নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগ। এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বড় নদীর সংখ্যা ৯৯টি। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য শাখা নদী ও খাল। নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে এসব নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের দুই হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ৬৯৮টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সাথে রয়েছে নানা অস্থিতিশীলতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও।
বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ভোটকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। এছাড়া পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক উপজেলাও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে তা নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইলেকশনের ম্যাটেরিয়ালস পাঠানো, ইলেকশনের জনবল পাঠানো এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা আসলেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এগুলো বিবেচনা করে আমরা কেন্দ্রগুলো সাজিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, প্রার্থীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া। একটি বিষয় পরিষ্কার, আমাদের ব্যক্তি বা কোনো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আনুগত্য নেই।

বরিশাল রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, রিমোট এলাকাগুলোতেও আমাদের ফোর্সগুলো এমনভাবে থাকবে, ১৫ মিনিট হলো আমার রেসপন্স টাইম। যে কোনো ঘটনা শোনামাত্র যে কোনো ফোর্স যেন যে কোনো জায়গায় যেতে পারে, এভাবে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ। আর পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *