নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় দুই উপজেলার বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অংশটি সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পাশাপাশি সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে কাজ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ডাকা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সঙ্গেই আছি।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “দুই উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কাগজ পেয়েছি।






