খবর ডেস্ক :
দীর্ঘ ১৭ বছর পতিত আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য দলগুলো। সেই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনেরও ভূমিকা ছিল বলে দাবি দলটির নেতাদের। যার ফলশ্রুতিতে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
তবে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যার প্রমাণ মেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামায়।
বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় আসামি হওয়ার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে জামায়াতের তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও বাকিদের নামে আগে-পরে রাজনৈতিক কোনো মামলার তথ্য মেলেনি।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ ৮৪টি মামলা ছিল। তিনি হলেন- জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান। তার বিরুদ্ধে এখনো দুটি মামলা চলমান রয়েছে। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।
এরপর মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন- বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। তিনি ২৫টি মামলার আসামি ছিলেন। মামলাগুলো উচ্চাদালত থেকে বাতিল ও তদন্তে অব্যাহতি পেয়েছেন জয়নুল আবেদীন।
মামলায় আসামি হওয়ার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি ২৩টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
এছাড়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৭টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৬টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। অপর মামলাটিতে জামিনে রয়েছেন।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ৬টি মামলার আসামি। তবে সবগুলো মামলাই দুর্নীতি এবং আয়কর ফাঁকির মামলা। এর মধ্যে একটি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এবং অপর পাঁচটি তদন্তনাধীন রয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে আরও ৮টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যেগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।
এছাড়া দুইটি মামলার আসামি ছিলেন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন। দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। তবে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামি। এর মধ্যে ছয়টি মামলা বিচারাধীন ও দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।
তবে পুরোটাই ব্যতিক্রম চিত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় থাকা দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের হলফনামায়। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একটি অর্থাৎ বরিশাল-৩ ছেড়ে দিয়েছেন সরীক দল এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে।
পাঁচটি আসনে থাকা জামায়াতের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এর মধ্যে বরিশাল-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। যার সবগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।
এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় ২টি মামলা ছিল। সেই মামলা দুটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান একটি মামলার আসামি ছিলেন। তিনিও মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
তবে বরিশাল-১ আসনে মো. কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং আগে-পরে কোনো মামলার তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি হলফনামায়।
বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া বরিশাল-১ আসনে রাসেল সরদার, বরিশাল-২ আসনে মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, বরিশাল-৩ আসনে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
এর বাইরে বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১১টি এবং বরিশাল সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আখতার রহমানের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। তারা গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন পরবর্তী মামলার আসামি হয়েছেন।
এছাড়া সদর আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং অপরটি উচ্চ আদালতের আদেশে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
সূত্র : দেশকাল






