জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

বাংলাদেশ, ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২

জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:৪৫ : পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক : প্রত্যেক উম্মতের জন্য আল্লাহতায়ালা এমন একটা দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে দিনে তারা একত্রিত হয়ে তাঁর ইবাদত করবে খুশির পর্ব হিসেবে। আখেরি জমানার উম্মতের জন্য সে দিনটি হচ্ছে শুক্রবার। শুক্রবার হচ্ছে ষষ্ঠ দিন, যেদিন আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি কাজকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেন এবং সব মাখলুকের সৃষ্টি সমাপ্ত হয়। আর তিনি তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত নিয়ামত দান করেন। রসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর জুমার নামাজের হুকুম আসার আগে একবার মদিনাবাসী সমবেত হলে আনসাররা বললেন, ইহুদিরা প্রতি সপ্তাহে এক দিন একত্রিত হয় এবং খ্রিস্টানরাও এক দিন সমবেত হয়। সুতরাং আমাদেরও উচিত কোনো একদিন জমা হয়ে আল্লাহর জিকির ও শুকর আদায় করা। এরপর এর জন্য আনসাররা শুক্রবার দিনটিকে ধার্য করে এবং আসআদ ইবনে জুরারার বাড়িতে জমায়েত হয়। তিনি সবাইকে নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ান এবং কিছু ওয়াজ নসিহত করেন। ফলে লোকদের জমায়েত হওয়ার কারণে ওই দিনটির নাম জুমার দিন অর্থাৎ জমায়েতের দিন নামে অভিহিত হয়। বর্ণিত আছে, মুসা (আ.)-এর ভাষায় বনি ইসরাইলের জন্য এ দিনটিকেই নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তারা এদিন থেকে সরে গিয়ে শনিবারকে গ্রহণ করে। তারা শনিবারকে এই হিসেবে গ্রহণ করে যে শুক্রবারে সৃষ্টিকার্য সমাপ্ত হয়েছে। শনিবারে আল্লাহতায়ালা কোনো জিনিস সৃষ্টি করেননি। সুতরাং তাওরাত অবতীর্ণ হলে তাদের জন্য ওই দিনকেই অর্থাৎ শনিবারকেই নির্ধারণ করা হয়। আর তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় তারা যেন দৃঢ়তার সঙ্গে ওই দিনকে ধারণ করে। তবে এ কথা অবশ্যই বলে দেওয়া হয়েছিল, রসুলুল্লাহ (সা.) যখনই আসবেন তখনই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে শুধু তাঁরই অনুসরণ করতে হবে। ওই কথার ওপর তাদের কাছে ওয়াদাও নেওয়া হয়। সুতরাং শনিবারের দিনটি তারা নিজেরাই বেছে নিয়েছিল এবং শুক্রবারকে ছেড়ে দিয়েছিল। ইবনে কাসির। ইসা (আ.)-এর যুগ পর্যন্ত তারা এর ওপরই থাকে। বলা হয়েছে, পরে ইসা (আ.) কয়েকটি মানসুখ হুকুম ছাড়া তাওরাতের শরিয়তকে পরিত্যাগ করেননি এবং শনিবারের হিফাজত তিনি বরাবরই করে এসেছিলেন। যখন তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হয় তখন তার পরে কুসতুনতিন বাদশাহর যুগে শুধু ইহুদিদের হঠকারিতার কারণে ওই বাদশাহ পুব দিককে তাদের কিবলা নির্ধারণ করে এবং শনিবারের পরিবর্তে রবিবারকে ধার্য করে নেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমরা দুনিয়ায় সর্বশেষে আগমনকারী, আর কিয়ামতের দিন আমরা সবারই আগে থাকব। তাদের আল্লাহর কিতাব আমাদের পুবে দেওয়া হয়েছিল এবং এ দিনটিকেও আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর ফরজ করে ছিলেন। কিন্তু তাদের মতবিরোধের কারণে তারা তা নষ্ট করে দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর প্রতি হিদায়াত করেছেন। সুতরাং এসব লোক আমাদের পেছনেই রয়েছে। ইহুদিরা এক দিন পর এবং খ্রিস্টানরা দুই দিন পরে। বুখারি।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সকল নিউজ