কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ বিনাধান-২০ চাষে ব্যাপক সাফল্য - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

বাংলাদেশ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১

কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ বিনাধান-২০ চাষে ব্যাপক সাফল্য - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ বিনাধান-২০ চাষে ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর, ২০২১ ২:১১ : অপরাহ্ণ

বরিশালের খবর ডেস্ক : গবেষনায় সাফল্যের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনাধান-২০ চাষ করে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপকেন্দ্র। প্রথমবারের মতো কৃষকের মাঠে নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষ করে অধিক ফলন পাওয়ায় এই ধানে উৎসাহ বাড়ছে সাধারন কৃষকের। জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ এই চালে রয়েছে অধিক পুস্টিগুন। জেলার ধান চাষীদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল এই ধান আবাদের জন্য বিনামূল্যে এই বীজ দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে বরিশাল বিনা উপকেন্দ্র। আগামীতে বিনা-২০ ধান জেলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলেন মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বরিশাল অঞ্চলে বছরের ৯ মাসে দুটি ফসল ফলিয়ে ভর্ষার সময়ে বাকি ৩ মাস অনাবাদী পড়ে থাকতো কৃষকের জমি। দির্ঘ ৫ বছরের গবেষনায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্ষার সময়ে রোপনযোগ্য জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনাধান-২০ উদ্ভাবন করে। এর আগে ক্ষুদ্র পরিসরে নতুন ধানের পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে জেলার গৌরনদীতে ২০ বিঘা জমিতে বিনাধান-২০ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছে কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউট।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল ধান পুস্টিগুনে ভরা। এই ধান মানবদেহের জন্য বিশেষ করে গর্ভবতীদের উপকারী।

এ অঞ্চলের মাটির চাহিদা অনুযায়ী স্বল্পজীবনকালের এই ধান চাষ করে অল্প দিনে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবে। এতে কৃষক লাভবান হবে এবং অন্যান্য ফসল আগাম আবাদ করতে পারবেন। নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের জাত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্র বিনামূল্যে বীজ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানান এই কৃষি বিজ্ঞানী।

বর্ষা মৌসুমে অসময়ে অনাবাদী জমিতে বিনাধান-২০ চাষ করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশী কৃষকরা। বিনাধান-২০ ১২০ দিনে কর্তন হওয়ায় আগাম সরিষা সহ রবিশষ্য চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। এ কারনে নতুন ধানে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

নতুন জাতের ধানের প্রসার ঘটলে আগামীতে খাদ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তার।

বিনাধান-২০ এর চাল দিয়ে মুড়ি, চিড়া, খৈ এবং পিঠা তৈরীর গুড়া ভালো হয় বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সকল নিউজ