বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের সাফল্য - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

বাংলাদেশ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের সাফল্য - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

শুক্রবার সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার না থাকার পক্ষে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সাফাই বরিশালে করোনায় ১৮ মাসে ১৩৭৯ জন রোগীর মৃত্যু ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেকেরও বেশী মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে : স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে শেখ হাসিনা টাকা দিয়ে মানুষের মন কেনা যায় না : আইজিপি দাম কমেছে চাল-চিনির শেবাচিমে শুক্রবার ইনডোর ওয়ার্ডে ডাক্তার থাকে না বাইরে দুই বেলা প্রাইভেট প্রাকটিস প্রবল বেগে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী আমরা এখন ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি : ফখরুল


বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের সাফল্য

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট, ২০২০ ১০:২৩ : পূর্বাহ্ণ

পরীক্ষামূলকভাবে বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষ করে সাফল্য পেয়েছে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্র।

রাহাত খান : পরীক্ষামূলকভাবে বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষ করে সাফল্য পেয়েছে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্র। দক্ষিনাঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়ায় চাষাবাদের উপযোগী বিদেশী জাতের বারি-১ ড্রাগন এখন কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

একবার চারা রোপন করলে টানা ২০ থেকে ৩০ বছর ফলন পাওয়া যায় বারি-১ জাতের ড্রাগনের। পুস্টিগুন সমৃদ্ধ এই ফলের বাজার মূল্যও অনেক। তাই এই ফলের চাষ করলে কৃষক লাভবান হবে আশা আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের।

ড্রাগন দ্রুত বর্ধনশীল ক্যাকটাস প্রজাতির বহুবর্ষী একটি উদ্ভিদ ফসল। ফল উৎপাদন ছাড়াও অনেক দেশে শোভা বর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে এর চাষ হয়। ড্রাগনের অনিন্দ সুন্দর ফুলকে ‘সম্ভ্রান্ত নারী’ আবার ‘রাতের নারী’ নামেও অভিহিত করা হয়। ড্রাগনের উৎপত্তি মেক্সিকো এবং দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়া-আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হয়। ২০১৪ সালে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে ড্রাগনের চারা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাষাবাদের উপযোগীতা পরীক্ষা করে। যে জাতটি বাংলাদেশে সব চেয়ে কার্যকর হয়েছে সেটি বারি-১ নামে জাতীয় বীজ বোর্ড বাংলাদেশে মুক্তায়িত করে। বর্তমানে ঢাকা, সাভার, উত্তরাঞ্চল, চট্টগ্রাম এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে।

দক্ষিনাঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটিতে এই ড্রাগন চাষ উপযোগী করতে দির্ঘদিন ধরে গবেষনা করছেন বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। জেলার রহমতপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তারা।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, বারি-১ জাতের ড্রাগন বরিশালের মাটিতে চাষের উপযোগী। আবহাওয়াও অনুকূলে। তাদের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হয়েছে। এখন কৃষক পর্যায়ে ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন তারা।

গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক সহকারী তপন কুমার দাস জানান, বারি-১ ড্রাগন চাষের শুরুতে রয়েছে কিছু নিয়মকানন। প্রথমে গর্ত তৈরী করে ১৫ থেকে ২০ কেজি শুকনো গোবর সার, ৩০০ গ্রাম টিএসপি ও দেড়শ’ গ্রাম এমপি সার দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। এরপর প্রতিটি বেডে একটি আরসিসি পিলার স্থাপন করে চারপাশে ৪টি চারা রোপন করতে হয়। চারা রোপনের দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ড্রাগন ফল ধরবে। ফলন ধরার এক থেকে দেড় মাসের মাথায় লাল রংয়ের ফল সংগ্রহ করা যায়।

কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের আরেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শর্মীলা দাস সেতু বলেন, একবার ড্রাগনের চারা রোপন করলে টানা ২০ থেকে ৩০ বছর ফলন পাওয়া যায়। মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি বছর ফলন হয়। প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০টি ফল হয়। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৩৫০ গ্রাম থেকে ৪শ’ গ্রাম। এই ফলের পুস্টিগুন অনেক বেশী। ক্যান্সার প্রতিরোধেও ড্রাগন বেশ কার্যকরী। ডায়াবেটিস রোগীরাও অনায়াসে এই ফল খেতে পারবেন বলে তিনি জানান।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম বলেন, ফসলী জমি ছাড়াও বসত বাড়ির আঙ্গিনা এবং আশপাশের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ করা সম্ভব। এই ফলের বাজার মূল্যও অনেক বেশী। বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষ করলে কৃষক অধিক লাভবান হবে। তাই বারি-১ জাতের ড্রাগন চাষ করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান এই কৃষি বিজ্ঞানী।

সূত্র : স্টাফ রিপোর্টর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সকল নিউজ