নিজস্ব প্রতিবেদক :
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, সোহাগ খান (২৮), পলাশ (২৫) ও রাব্বি মোল্লা (২৪)। তারা সবাই ডামুড্যা থানাধীন এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ডামুড্যার কেউরভাঙ্গা এলাকায় একটি ওষুধের ফার্মেসি ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে সিএনজিযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই বেপারীবাড়ী মসজিদের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তিন আসামি তার পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে ভিকটিম আসামিদের চিনে ফেলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের ডোবায় ঝাঁপ দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় দস্যুতা ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ছায়া তদন্ত শুরু করে। আসামিদের পলাতক অবস্থার রুট ও কৌশল বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
র্যাব আরও জানায়, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।






