নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার বলেছেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে তিনি বাকেরগঞ্জকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি আদর্শ মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি এলাকার দীর্ঘদিনের বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় উপজেলার চরামদ্দি মিয়ারবাড়ি হাট, খান ফজলে রব সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গনে এক নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণসংযোগকালে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’য় ভোট প্রার্থনা করে সাধারণ ভোটার, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন জামায়াত প্রার্থী।

পথসভায় বক্তব্যকালে মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার বলেন, “সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের জীবনকে জিম্মি করে ফেলেছে। মহান আল্লাহ যদি বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামকে বিজয় দান করেন, তবে সমাজ থেকে সকল প্রকার অনাচার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূলে আমি আপসহীন থাকবো।

বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুবকরাই দেশের মূল শক্তি। আমাদের লক্ষ্য শুধু চাকরির পেছনে ছোটা নয়; বরং কারিগরি ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা এবং তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

গণসংযোগকালে প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা অধ্যাপক ফিরোজ আলম, উপজেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক।
এ সময় চরামদ্দী ইউনিয়নের অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামাত ইসলামী সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বার কাউন্সিল বরিশাল, মিয়ার হাট মাদ্রাসা এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। পথসভা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংগঠনে গতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ হাসান মামুনকে বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বরিশাল মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মাসুদ হাসান মামুনকে পুনরায় দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগর যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, স্বপদে বহাল হওয়ার মাধ্যমে মাসুদ হাসান মামুনের নেতৃত্বে বরিশাল মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও গতিশীল হবে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

খবর ডেস্ক :
বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইঙ্গিতে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গুপ্ত হিসেবে পরিচিতরা নিজেদের প্রেসে ভুয়া ব্যালট ছাপাচ্ছে। যাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখের পর থেকে জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিৎ শিক্ষা আপনাদেরকে দিতে হবে।

“বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভাব হয়েছে।

বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে গাড়িবহর নিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বেলস্ পার্ক মাঠে জনসভার মঞ্চে পৌঁছান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল, জনগণ যাদেরকে ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে এই জালেমদের নেতা- দুই দিন আগে নারীদেরকে কলঙ্কিত করেছে। যেই ব্যক্তি বা যেই দলের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই- তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানমূলক কোনো মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।

“বিবি খাদিজা সম্পর্কে আপনারা জানেন। আমাদের প্রিয় নবী করীম (সা.)-এর স্ত্রী। এই বিবি খাদিজা, একজন কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, ওনার নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। যেখানে মহানবী (সা.) নিজেও কাজ করতেন। এরা বলে ইসলামের রাজনীতি করে। অথচ নবীর স্ত্রী নিজে যেখানে কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কেমন করে সেই রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের নারী সমাজকে আবার একটি কলঙ্কিত করল।

কুমিল্লার এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “গুপ্ত দলের আরেক নেতা, যার বাড়ি কুমিল্লায়। সেই নেতা কিছুদিন আগে দলীয় সমাবেশে বলেছে, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন, পরবর্তীতে জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ চিন্তা করেন- এই রকম কথা কে বলতে পারে! এই কথা থেকে প্রমাণিত হয় কী তাদের মেন্টালিটি, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে তারা জনগণকে নিয়ে কতটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কথা তারা বলতে পারে। এইসব লোক যদি নির্বাচিত হয়, এইসব লোক যদি দায়িত্ব পায়- তাহলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিসহ ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, আমি তার উল্টোটা বলি। আমি আমার নেতাদের, আমি আমার কর্মীদেরকে বলি- ১২ তারিখ থেকে না আপনারা ১৩ তারিখ থেকেও আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ আমরা দেখেছি, জনগণের শক্তি যার পেছনে না থাকে, জনগণের সমর্থন যার পেছনে না থাকে- তার পরিণতি কী হতে পারে ৫ আগস্ট দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে।

বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “১৯৯৩ সালে বিএনপি তথা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলন। তারপরে নদীর পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। আমরা এই এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছি, কিন্তু আরও বহু কাজ করা বাকি। যেমন বরিশাল-ভোলা ব্রিজ এই কাজটি আমাদের করতে হবে। এখানকার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য উন্নয়ন করতে হবে। ভোলায় মেডিকেল কলেজের কাজে আমাদের হাত দিতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গ্রামের খেঁটেখাওয়া নারী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী- সবার কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন এবং পুরুষের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “আমরা এরই মধ্যে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে- বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেব।

তরুণ এবং যুবকদের কর্মস্থান পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবায় পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল আছে যেখানের মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিযুক্ত করতে চাই। তাদের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের, শিশুদেরকে ঘরে বসে ছোট-খোট অসুখের চিকিৎসা দেওয়া। যাতে করে মা ও বোনকে আর কষ্ট করে হাসপাতালে না আসতে হয়।

বলেন, আমাদের দেশে তরুণ ছেলে-মেয়েরা আছে যারা খেলাধুলায় ভালো। এমন যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ভালো তাদের আমরা ট্রেনিং দিতে চাই। যাতে করে তারা খেলোয়াড় হিসেবেও নিজেদের তৈরি করতে পারে।”

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বরিশালে আবার খাল খনন শুরু হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১৩ তারিখে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। নিজে বরিশালে এসে খাল খনন করবেন বলে ঘোষণা দেন তারেক রহমান।”

তিনি বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে বন্যার গতিরোধ করা হবে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সমাবেশ শেষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে বিএনপির ধানের শীষ এবং জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, ভাইস-চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদন, মেজর (অব.) হাফিজ ইব্রাহিম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি জোটের প্রার্থী ও বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী রাজিব আহসানসহ বিভাগের ২১টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

দুপুর দেড়টার দিকে জনসভা শেষ করেন তারেক রহমান। এরপর হেলিকপ্টার যোগে ফরিদপুরে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। মহানগর ও দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।

খবর ডেস্ক :
প্রায় দুই দশক পর বরিশালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা শুরু হয়েছে। তার আগমনকে ঘিরে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জেলাজুড়ে।

বুধবার বেলা ১১টায় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা।

সমাবেশে সবার আগে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। মহানগরের সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে সমাবেশ পরিচালনা করছেন।

জনসভা উপলক্ষে সকাল থেকেই বরিশালসহ পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নদী ও সড়ক পথে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা মঞ্চের সামনের সারিতে অবস্থান নেন।

এরই মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দির আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমার পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রিয় নেতাকে দেখতে এরই মধ্যে নদী এবং সড়কপথে জনসভার মাঠে আসতে শুরু করেছেন বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে নারী কর্মী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সকাল থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঞ্চের সামনের দিকে অবস্থান নিচ্ছেন তারা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, বেলা ১১টায় তারেক রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন। বক্তৃতা শেষে দুপুর ১টায় তিনি ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা মঞ্চ

সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিশেষভাবে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা মঞ্চ রাখা হয়েছে।

২০০১ সালে বরিশালের বেলস্ পার্ক মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ বছর পর একই মাঠের একই মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর পর সশরীরে বরিশালে আসছেন তিনি। ২০০৬ সালের ১৪ মে বরিশালে তৃণমূল বিএনপির কর্মিসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

খবর ডেস্ক :
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বরিশাল সফরে আসবেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বিভাগীয় জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।

সমাবেশের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। বেলা ১১টায় শুরু হবে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা। বেলা ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে পৌঁছাবেন। তাই প্রিয় নেতাকে দেখতে এরই মধ্যে জনসমাবেশের মাঠে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে নারী কর্মীরা মঞ্চের সামনের দিকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা সড়ক ও নৌপথে বরিশালে আসছেন। শীতের শিশির ভেজা ভোরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হচ্ছে বেলস পার্ক মাঠ। নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দেশকাল নিউজকে বলেন, “বেলা ১১টায় জনাব তারেক রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। একই সময় বরিশালে সমাবেশ শুরু হবে। বেলা ১১টায় জনাব তারেক রহমান মঞ্চে ওঠবেন। বক্তৃতা দেবেন এবং দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে ফরিদপুরের উদ্দেশে যাবেন।”

২০০১ সালে বরিশালের বেলস্ পার্ক মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ বছর পর একই মাঠের একই মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর পর সশরীরে বরিশালে আসছেন তিনি। ২০০৬ সালের ১৪ মে বরিশালে তৃণমূল বিএনপির কর্মিসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল আদালত পাড়ায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক প্রকল্প পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি ও অপহরণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলো- হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী মো. নাঈম ও বিএম কলেজ শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম।

আদালত সূত্র জানায়, এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক নগরীর করিম কুঠির লাতু চৌধুরী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল হাই আদালত পাড়ায় আসেন। এ সময় শিক্ষার্থী নাঈম ও কামরুল ইসলাম তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোটরসাইকেল দাবি করে। দাবি পূরন না করলে আদালত পাড়া থেকে বের হলে তাকে অপহরণ করার হুমকি দেয়। তখন ওই কর্মকর্তা আদালত পাড়ার পুলিশ সদস্যদের কাছে অবহিত করে। বিষয়টি জানতে পেরে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়তুল্লাহ তিনজনকে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ খবর দিয়ে নাঈম ও কামরুলকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আদালতে দুইজনকে ধরে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. সাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। তাদের কি কারণে আটক করা হয়েছে বিষয়টি জানতে থানায় এসেছিলাম। কিন্তু তারা থানায় নেই। তাই চলে এসেছি।