খবর ডেস্ক :
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া।

আসনটিতে তাকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের দল থেকে কোনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। ধারনা করা হচ্ছে সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা আসাদুজ্জামান ফুয়াদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আইন ব্যবসা, টকশো এবং ফেসবুক, ইউটিউব থেকে তিনি বছরে আয় করেন ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০২ টাকা।

এরমধ্যে আইনজীবী হিসেবে চেম্বার থেকে বছরে সম্মানী পান ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বাকি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা তিনি আয় করেন টিভি টকশো এবং ইউটিউব ফেসবুক থেকে।

ফুয়াদের নিজের নগদ দুই লাখ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদ আছে ৭ লাখ টাকার। এছাড়া তার স্ত্রী রুমা মারজানের ৫০ হাজার এবং ব্যাংকে ১৮ হাজার টাকাসহ অস্থাবর সম্পদের রয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টাকার।

তবে স্থাবর সম্পদ বিবরণীতে নিজের এবং স্ত্রীর উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ থাকলে তা তাদের নামে এখনো বণ্টন হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপের পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন সিনেটর মাইক লি। তিনি বলেন, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর মাইক লি লেখেন, আমি জানতে আগ্রহী যে, যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন ছাড়াই এই পদক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে কীভাবে ন্যায্যতা পায়।

এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ নিরাপত্তার আশঙ্কায় রাস্তায় বেরিয়ে আসে।

সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার বাসার জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী কারাকাসে বিকট শব্দের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে। একই সময় আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আলোঝলমলে শহরের আকাশে একাধিক ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং কিছু এলাকায় আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সিবিএস নিউজ জানায়, কারাকাসে বিস্ফোরণের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যে হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

এ ঘটনার কিছু সময় পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আটক হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘লার্জ স্কেল স্ট্রাইক’ বা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নগরীর বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এ দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের মসজিদগুলোতেও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল নগরীর চাঁমারী জামে মসজিদে আয়োজিত দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরওয়ার। এসময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, কবরের শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া দেশ ও জাতির শান্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য দোয়া করা হয়।

এদিকে বিকেলে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আরেকটি দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

খবর ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা পটুয়াখালীর নিরব হোসেনের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের স্কুল মাঠে নিহত নিরব হোসেনের জানাজার শেষে এ ঘোষণা দেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

জানাজার পূর্বে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, নিরব হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ফোন করে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এ সময় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ উপজেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত নিরব হোসেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পরিবারসহ একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার মেয়ে নাফিজা জাহান নওরিন (১৪) নবম শ্রেণিতে এবং ছেলে তাহসিন আল নাহিয়ান (১৫) দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিরব হোসেন বিএনপির রাজনীতিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং দলের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পদদলিত হন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ ওসমান বিন হাদি’র রুহের মাগফিরাত কামনায় বরিশালে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর বরিশাল প্রেসক্লাব হল রুমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বরিশাল জেলার আয়োজনে এই মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. সাব্বির হোসেন সোহাগের সভাপতিতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কোবির হোসেন সহ অন্যান্যরা।

 

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ ওসমান বিন হাদি’র রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‎বছরের প্রথম দিনেই বরিশালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন বই।

‎আজ বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয় গুলোতে দেখা গেছে নতুন বই নিতে শিক্ষার্থীদের ভিড়।

 

সরকারী বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান তিনদিনের রাষ্ট্রিয় শোক থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই উৎসব করা না হলেও বছরের শুরুতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন বই। নতুন বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা।

বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জব্বার জানান, ‎বরিশাল জেলায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫৮৮ টি বিদ্যালয়ে এ বছর বইয়ের চাহিদা ছিলো ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি। এর মধ্যে প্রাপ্তি ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ নতুন বই। প্রাথমিকের প্রায় শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের বই এসেছে ৭৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। বিভাগে মাধ্যমিক, কারিগরি ট্রেড, দাখিল, ভোকেশনাল সহ অনান্য স্তরের মোট চাহিদা ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৬ টি আর প্রাপ্তি ১ কোটি ১৮ হাজার ৪৭৭ টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের মোট চাহিদা ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টি। এর মধ্যে প্রাপ্তি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৫০৩ টি। আজ বিতরন হবে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ৭২৬টি।

তিনি আরও জানান বাকি যে বইয়ের চাহিদা রয়েছে তা আগামী দুই একদিনের মধ্যেই স্কুলগুলোতে পৌঁছে যাবে।

খবর ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান তার দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

এ সময় কিছুটা দূরত্বে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এর বাইরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে দাঁড়িয়ে দাফন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।

এর আগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে কবরে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এরপর সেখানে নিয়ম মেনে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তারও আগে, বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপি ও বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া চান এবং মায়ের পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

‘গর্ব করে বলতে পারব আমরা খালেদা জিয়ার কর্মী’
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা খালেদা জিয়া গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ নভেম্বর আবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। দেড় মাসের মতো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল তিনি মারা যান।

 

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪৩ বছর দলকে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় ‘আপসহীন নেত্রীর’ উপাধি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানকে হারানোর বেদনা নিয়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সংকটে পড়ে বিএনপি। ঠিক সেই সময় সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়াকে কখনো তার বিরোধীদের আক্রমণ করে কথা বলতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলি না।

খবর ডেস্ক :

মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এ অনুভূতি প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, প্রিয় মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতে তারেক রহমান লেখেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তবে এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের উপস্থিতি তাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেখেন, ‘অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।’

আন্তর্জাতিক মহলের উপস্থিতির কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।’

এছাড়া যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।’

শোকের এই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তারেক রহমান লেখেন, ‘আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও উত্তরাধিকারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন।’ তিনি জানান, ‘আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি।’

একই সঙ্গে তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, ‘একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে।’

সবশেষে তিনি দোয়া কামনা করে লেখেন, ‘আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন,’ এবং তার রেখে যাওয়া ‘অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কুয়াকাটায় শোকসভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আসর নামাজের পর হোটেলের গ্র্যান্ড ইন হলরুমে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্তানবুল হোটেল এমডি এমদাদুল হক,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ঘরামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রে তার ভূমিকা এবং দেশের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শোকসভায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সাগর সৈকত জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মোস্তফা কামাল। দোয়া মোনাজাতে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের কল্যাণ কামনা করা হয়।

শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ বিন সাঈদী বলেন,বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে হারিয়েছে।আরও বলেন, তিনি আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং কখনো তাদের নিয়ে কটূক্তি করেননি।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, মহিপুর প্রেসক্লাব, লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপি, মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও ধুলাসার ইউনিয়ন বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়।