আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও মানবিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত কুয়াকাটায় বসবাসরত রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুয়াকাটার ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে প্রায় ৭০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আমখলাপাড়া, মিস্ট্রিপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে সরাসরি গিয়ে প্রায় ১০০ জন রাখাইন নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, সিপিপি’র সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছদুল আলমসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন,শীত মৌসুমে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের কষ্ট বেশি বেড়ে যায়। রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের একটি মানবিক দায়িত্ব। এই কার্যক্রম শীতকালজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মানুষ যেন শীতের কারণে কষ্ট না পায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

কম্বল পেয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শীতের এই দুর্যোগময় সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খবর ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই–বাছাই শেষে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বরিশাল জেলার ছয়টি আসন থেকে ৬২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন প্রার্থীরা।

এর মধ্যে থেকে ৪৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। গত ২ ও ৩ জানুয়ারি দুই দফায় যাচাই–বাছাই শেষে রোববার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র ও তার সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪১ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাকি ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বরিশাল–২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ। বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ. সত্তার খান এবং বরিশাল–৫ (সদর) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম ও একই আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তাদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামা, ভোটার তালিকা, প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীর তথ্যসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ত্রুটি ও অসংগতি থাকায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমান জানান, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বোর্ডে আপিল করতে পারবেন। আপিলে বৈধতা পেলে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বরিশাল–১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচজন, বরিশাল–২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে ১০ জন, বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে নয়জন, বরিশাল–৪ আসনে ছয়জন, বরিশাল–৫ (সদর) আসনে ১০ জন এবং বরিশাল–৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

র‍্যাব জানায়, সোহাগ খান (২৮), পলাশ (২৫) ও রাব্বি মোল্লা (২৪)। তারা সবাই ডামুড্যা থানাধীন এলাকার বাসিন্দা।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ডামুড্যার কেউরভাঙ্গা এলাকায় একটি ওষুধের ফার্মেসি ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে সিএনজিযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই বেপারীবাড়ী মসজিদের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তিন আসামি তার পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে।

 

পরবর্তীতে ভিকটিম আসামিদের চিনে ফেলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের ডোবায় ঝাঁপ দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

 

এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় দস্যুতা ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‍্যাব-৮ (বরিশাল) ছায়া তদন্ত শুরু করে। আসামিদের পলাতক অবস্থার রুট ও কৌশল বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ ও র‍্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

 

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‍্যাব আরও জানায়, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শুভ বৈরাগী নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে তার বাড়ি গোপালগঞ্জের বৌলতলী থেকে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত্যুর আগে গত ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ নিজের এবং তার প্রেমিকার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে প্রেমের সম্পর্কের ঘটনা বর্ণনা দেন।

শুভ তার প্রেমিকা ও প্রেমিকার পরিবারকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
ফেসবুক পোস্টে শুভ দাবি করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে গেলে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

শুভর অভিযোগ, এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মিথ্যা ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে সেটার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

এতে তার সামাজিক সম্মান হয় এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন উল্লেখ করেন।
পোস্টে শুভ আরও লেখেন, অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কটি মেনে নেওয়া হয়নি এবং এই অপমান ও সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনাই তাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। তিনি তার মৃত্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও ‘ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থা’-কে দায়ী করেন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়ে আইনি শাস্তির দাবি জানান।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মেষ রায় বলেন, ‘শুভর মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।

কিছুদিন আগেই তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। হঠাৎ এ ধরনের খবর পেয়ে আমাদের মন ভেঙে গিয়েছে।’
শুভ বৈরাগীর সহপাঠীরা জানান, তিনি মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার এমন মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুলকার নাঈম বলেন, ‘শুভ আসলে আত্মহত্যা করেনি, ওকে একপ্রকার খুন করা হয়েছে! ওর খুনের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

খবর ডেস্ক :
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী রাজীব আহসানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে। বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কম মামলা রয়েছে। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বরিশাল-৩ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আ. ছত্তার খানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ৮৪টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে দুইটি মামলা চলমান রয়েছে। বাকি মামলা থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন তিনি।

বরিশাল-৩ আসনের জয়নুল আবেদীন ২৫টি মামলার আসামি ছিলেন। অধিকাংশ উচ্চআদালত থেকে বাতিল ও তদন্তে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। একই আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া বিএনপি নেতা আ. ছত্তার খানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

বরিশাল-৫ আসনের মজিবর রহমান সরোয়ার ২৩টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। অন্য মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী আবুল হোসেন খান সাতটি মামলার আসামি। এর মধ্যে ছয়টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন।

বরিশাল-২ আসনের সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ছয়টি মামলার আসামি। এর মধ্যে একটি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ রয়েছে। অপর পাঁচটি তদন্তনাধীন রয়েছে। দুইটি মামলার আসামি হিসেবে খালাস পেয়েছেন বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সোবহান আটটি মামলার আসামি। এর মধ্যে ৬টি বিচারাধীন ও দুইটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

খবর ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের আর্থিক অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঝালকাঠির-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতু।

 

মিতুর দেওয়া হলফনামার তথ্যে উঠে এসেছে, তার কাছে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা রয়েছে ৫১ হাজার টাকা। সোনা রয়েছে ২০ ভরি। মোট সম্পদের মূল্য ৭৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

 

হলফনামায় তার স্বামীর নগদ টাকা রয়েছে ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৪ টাকা, ব্যাংকে রয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ টাকা, আসবাপত্র ১ লাখ ২০ হাজা টাকার। মোট ৫৩ লাখ ৪২ হাজার ২ শত ৬৮ টাকা রয়েছে তার। তার স্থাবর ও অস্থাবর কোনো সম্পত্তি নেই।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা:

 সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কুয়াকাটায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেছে পৌর বিএনপির ৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা। রবিবার সকালে তার পাঞ্জুপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে বসে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পরে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উপকূলীয় এলাকার শীতার্তদের মানুষের পাশে দাড়ানোয় প্রশংসা কুড়িয়েছে এই বিএনপি নেতা।

 

মোঃ কুদ্দুস মিয়া (উপকারভোগী) বলেন,এই কনকনে শীতে শীতবস্ত্র পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। শীতের কারণে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছিল। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এমন মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের জন্য বড় সহায়তা।

 

মোমেনা বেগম (উপকারভোগী)বলেন,শীতবস্ত্র পেয়ে অনেক স্বস্তি পেয়েছি। শীতের রাতে কষ্ট কমবে। আমাদের মতো অসহায় মানুষের কথা যারা চিন্তা করেছেন, আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার।

 

পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন,বেগম খালেদা জিয়া আজীবন মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি সবসময় দুর্যোগ ও দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

 

তিনি আরও বলেন,আমরা মহান আল্লাহর কাছে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করছি।

 

শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় সচেতন মহলও বিএনপির এ মানবিক উদ্যোগকে প্রশংসা করে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও ১০ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন এ তথ্য জানান।

মনোনয়ন বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিন শনিবার তিনটি আসনের মধ্যে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আট প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে তিনটি আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আরও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।

মনোনয়ন বাইয়ের দ্বিতীয় দিন শনিবার বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে চারজনের মনোয়ন বৈধ ঘোষণা এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান (বিএনপি বিদ্রোহ), বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এবং ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার মেহেদীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানের আয়করবিষয়ক সমস্যা থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে চারজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাতিল হয়েছে একজনের এবং স্থগিত হয়েছে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন। এ আসনে বাসদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নেসার উদ্দিন, রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং খেলাফত মসজিদের মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের মনোনয়নপত্রে দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তা অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকায় স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বিএনপির প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)র আয়কর বিষয় সমস্যা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থী সাহেব আলীর হোল্ডিং ট্যাক্স বিষয় সমস্যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির এম এ জলিলের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল হকের ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ) আসনের চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বাতিল হয়েছে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন, স্থগিত হয়েছে দুইজনের প্রার্থীতা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন এবং এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপসের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা এবং ৩শ টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির ফখরুল আহসানের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপুর জেল হাজতে এবং দ্বৈত নাগরিকতা থাকার অভিযোগের কারণে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাসদ মনোনীত প্রার্থী আজিমুল হাসান জিহাদ ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগের দিন শুক্রবার প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রথম দিন বরিশাল জেলার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্যে বরিশাল-৫ সদর আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম মনোনয়নপত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর করেনি এবং ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনো স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুল ইসলাম ভোটার তালিকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকদের তথ্য সঠিক না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে দুটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হলফনামা নোটারির কাগজে স্বাক্ষর না থাকা এবং অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আয়কর রিটার্ন সনদ না থাকা, ১০ (বি) ফরম সংযুক্ত না করা এবং ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মুসলিম লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। কাগজপত্র সংশোধন করে জমাদানের পর রোববার স্থগিত হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে ফের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন দেবে বলে জানা গেছে।

বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা পুনরায় আপিল করতে পারবেন। আর যাদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে রোববার (৪ জানুয়ারি) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খবর ডেস্ক :
বরিশালের ৬টি আসনের বিপরীতে ৪৮ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। দাখিলকৃত ৪৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে সঙ্গে থাকা প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনে শুধু এনপিপির প্রার্থী স্বশিক্ষিত, আর বাকিরা সবাই কম-বেশি বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করেছেন।

অপরদিকে হলফনামা অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে কারও মামলা চলমান, কেউ আবার খালাস পেয়েছেন।

তবে সব থেকে বেশি মামলা রয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সর্বোচ্চ বাৎসরিক উপার্জনকারী বিএনপির এ প্রার্থীর তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে।
এছাড়া বাৎসরিক আয়ের দিক থেকে একাধিক প্রার্থীর অবস্থান ভালো থাকলেও, সবচেয়ে বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর স্ত্রী।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এলএলবি পাস ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী (ব্যবসা, গৃহ, সম্পত্তি ও কৃষি)।

দায়ের হওয়া ১৪টি মামলা থেকে এরই মধ্যে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, এছাড়া আরও ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ টাকা। তিনি বর্তমানে ৫০ তোলা স্বর্ণসহ ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকার অস্থাবর এবং ৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৬২ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি রাইফেল ও একটি রিভালবার রয়েছে প্রার্থীর।

তবে তিনি হলফনামায় স্ত্রী, সন্তান কিংবা নির্ভরশীলদের আয়ের কথা উল্লেখ করেননি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম কামিল ফিকাহ (এমএ) পাস এবং পেশায় একজন শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মামলা ছিল, তবে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে ২২ বোর একটি রাইফেল, ১০৬০ শতাংশ কৃষি জমি, ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অকৃষি জমিসহ ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকার অস্থাবর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষি জমিসহ ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, প্রার্থীর স্ত্রী মোসা. তাসলিমা আক্তারের ১৮৭ ভরি স্বর্ণসহ বর্তমানে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনের হলফনামায় স্ত্রীর কোনো সম্পদের কথাই উল্লেখ করেননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম। এমন প্রার্থীর নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসেবেও বেশ পরিবর্তন রয়েছে।

বাসদের মনীষা চক্রবর্তী এমবিবিএস পাস এবং পেশায় একজন চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, আর অন্য মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে ৫ ভরি স্বর্ণসহ ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩২ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হলেও স্থাবর কোনো সম্পদ নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এলএলবি ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন আইনজীবী। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৪ টাকা। হলফনামায় তিনি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করলেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় পার্টির আখতার রহমান এসএসসি পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী (কমিশন এজেন্ট)। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ২০ লাখ ৬০ হাজার ২৭৫ টাকার এবং তার স্ত্রীর ৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর একটি টিনশেড, দুইতলা দালান এবং এক ও যৌথ মালিকানায় কৃষি জমি রয়েছে।

এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম এলএলএম পাস এবং পেশায় একজন আইনজীবী। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭০ টাকা। এছাড়া তার ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর উপহার পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণ ব্যতীতও দেড়লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর ১৫ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রী ফ্লোরা তানজিনের ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।

এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার স্বশিক্ষিত এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, সে সঙ্গে তিনি সর্বশেষ অর্থবছরে ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৫ টাকার সম্পদ আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তহিদুল ইসলাম এমবি ডিগ্রিধারী। হলফনামা অনুযায়ী তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ১০ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর ১২ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদও রয়েছে প্রার্থীর নিজের।

বাসদ মার্কসবাদী দলের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান এমএ এলএলবি পাস এবং পেশায় আগে কৃষক থাকলেও বর্তমানে শ্রমিক। যে হিসেবে তিনি প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অকৃষি জমি স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে এ প্রার্থীর।

খেলাফত মজলিশের একেএম মাহবুব আলম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বর্তমানে তার বাৎসরিক আয় ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭০৪ টাকা। এছাড়া তার ২২ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর উপহার পাওয়া ৮ ভরি স্বর্ণ অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে। এছাড়া যৌথ মালিকানায় থাকা ১০ একর কৃষিজমির এক তৃতীয়াংশ প্রার্থীর। যার বর্তমান মূল্য ৩৩ লাখ টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বরিশাল-ঝালকাঠি সড়কে নগরীর রূপাতলী উকিলবাড়ি সড়কের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল ও নবগ্রাম রোডের রুইয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা রাসেল। তারা দুজনে রূপাতলীতে এসিআই এনিমেল হেলথ্ স্টোরে হেলপার পদে কর্মরত ছিলেন।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দুপুরে দুজনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই ট্রাক রেখে চালক ও হেলপার পালিয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতদের সহকর্মী জিহাদ জানান, রাতে অফিসে ডিউটি শেষ করে জুয়েল ও রাসেল নাস্তা করতে মোটরসাইকেল যোগে রূপাতলী বাস টার্মিনালের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে উকিলবাড়ি সড়কের সামনে ঝালকাঠিগামী বেপরোয়া গতির মালবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল প্রাণ হারান। এছাড়া জুয়েলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।