আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা:

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত দা নূর একাডেমি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের আস্থা অর্জন করেছে। শৃঙ্খলা ও অগ্রগতি এই মূলমন্ত্র ধারণ করে ২০২৫ সালে প্রথম দিকে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

এই মহৎ শিক্ষাবাণীকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশন (বিকেপিএসএফ) কর্তৃক আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষা শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মহিপুরে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৃত্তি পরীক্ষার স্থানীয় আয়োজন করে দ্য নূন একাডেমি (THE NOON ACADEMY)।

এ বছর মহিপুর অঞ্চল থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেয় দা নূর একাডেমি, যা স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ছিল মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র এলাকায় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

দা নূর একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাকির হোসেন সোহেল সিকদার বলেন, এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন আরও জোরদার করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই দা নূর একাডেমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও শেখার আগ্রহ বাড়াতে আমরা আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান পরিচালনা করছি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আগামী দিনের আদর্শ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

 

মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, শিক্ষাই মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে পারলেই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষকবৃন্দ, কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট সকলের তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। অভিভাবকরাও এমন শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের জন্য আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।

 

মহিপুর এলাকার অভিভাবক সামিনা রহমান বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে দা নূর একাডেমি প্রথমবারের মতো মানসম্মত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা চালু করেছে, যা আমাদের জন্য আশার আলো। প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

 

সর্বোপরি, মহিপুরে অনুষ্ঠিত বিকেপিএসএফ বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :

পর্যটনের জনপ্রিয় কেন্দ্র কুয়াকাটায় খাদ্যরসিকদের জন্য যুক্ত হলো এক নতুন চমক। বহুদিনের আস্থা অর্জনকারী খাদ্য প্রতিষ্ঠান কাওসার ফিস ফ্রাইয়ে এবার যুক্ত করেছে দেশের প্রথম অ্যাকুরিয়াম লাইভ ইলিশ ফ্রাই সেবা।

 

দোকানের ভেতরে বিশেষ অ্যাকুরিয়ামে জীবিত ইলিশ দেখে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা।

অ্যাকুরিয়ামে থাকা ইলিশটির ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম, আর মূল্য রাখা হয়েছে ৯৫০ টাকা কেজি। জীবিত ইলিশ দেখে বেছে নেওয়ার পরই তা প্রস্তুত করে পরিবেশন করা হয় ভোজনরসিকদের সামনে।

বৃহৎ আয়োজনের নতুন সংযোজন

এখন থেকে কাওসার ফিস ফ্রাই-এ পাওয়া যাবে

জীবিত ইলিশ ফ্রাই টাটকা লবস্টার

গলদা চিংড়ি কোরাল, ভেটকি, বেলে, ইলিশসহ আরও বহু সামুদ্রিক মাছের বিশেষ আইটেম।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাওসার মুসল্লী বলেন

পর্যটকদের যেন এক জায়গা থেকেই সব ধরনের ফ্রেশ সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এই সম্প্রসারণ। প্রতিদিন আমরা সমুদ্র থেকে সরাসরি তাজা মাছ সংগ্রহ করি এবং গুণগত মান বজায় রেখে পরিবেশন করি। বিশেষ করে জীবিত ইলিশ ফ্রাই যুক্ত হওয়ার পর পর্যটকদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন,স্বাদ, মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এই তিনটি বিষয়ে আমরা সবসময় কঠোরভাবে সচেতন। কুয়াকাটায় ভ্রমণকারীদের খাদ্য অভিজ্ঞতাকে বিশেষ করতে চাই।

 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নুসরাত জাহান অ্যাকুরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,জীবিত ইলিশ দেখে নিজেই বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। খাবারের মানও দারুণ। কুয়াকাটায় এসে এমন কিছু দেখবো ভাবিনি।

 

খুলনা থেকে আসা পর্যটক আসিফ হোসেন বলেন,লাইভ ফিশ সিস্টেম প্রথম দেখলাম। এখানে সবকিছুই ফ্রেশ, বিশেষ করে ইলিশটা চোখের সামনে দেখে অর্ডার করা এটা ভীষণ চমৎকার। দামটাও অন্য জায়গার তুলনায় ঠিক আছে।

 

নতুন আকর্ষণ কুয়াকাটায় পর্যটন মৌসুমে কাওসার ফিস ফ্রাই এখন কুয়াকাটার অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। লাইভ ইলিশ ফ্রাইয়ের এই উদ্যোগ শুধু পর্যটকদের আকর্ষণই বাড়ায়নি, বরং স্থানীয় খাদ্য ব্যবসায়ও এনেছে নতুন মাত্রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার উদাহরণ তৈরি করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি অনুযায়ী নিজ হাতে নিজের বিলবোর্ড অপসারণ করেন তিনি।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় বরিশাল জিলা স্কুল মোড়ে থাকা নিজের ছবি সম্বলিত বড় একটি বিলবোর্ড তিনি নিজেই নামিয়ে ফেলেন। এসময় মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শামীম কবিরসহ কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

বিলবোর্ড অপসারণ শেষে সাংবাদিকদের অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারসামগ্রী সরানোর নির্দেশ রয়েছে। তাই আমরা নিজেদের পোস্টার-ফেস্টুন অপসারণের মধ্য দিয়েই কাজ শুরু করেছি। নির্বাচনী আচরণবিধি মানা সবার দায়িত্ব। আমরা নিজেরা না মানলে অন্যকে বলার নৈতিকতা নেই। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আজ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করলাম।”

উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জানানো হয়—তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারসামগ্রী নিজের খরচে অপসারণ করতে হবে।

এ নির্দেশনার আলোকে বরিশালে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর এই উদ্যোগ স্থানীয় নির্বাচন পরিবেশে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বরিশালে মাঠে নেমেছেন বিএনপির নেতারা। তারই অংশ হিসেবে বরিশাল সদর (৫) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার শুক্রবার ২৭ নং ওয়ার্ডের বারোইজ্যার হাট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এসময় সরোয়ার বলেন, বরিশালের মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার জন্য আল্লাহর কৃপা প্রার্থনা করছি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তিনি ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মোঃ কামরুল হোসেনের ছোট ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়া মাহফিলেও অংশ নেন। সেখানে তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

নামাজ ও দোয়া মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির তরুণ নেতৃত্ব, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় কুয়াকাটায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ডিসেম্বর) মাগরিব নামাজ শেষে কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাইতুল আরজ জামে মসজিদে এই দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

মোনাজাত পরিচালনা করেন মহিপুর থানা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোঃমাইনুল ইসলাম মান্নান।

দোয়া মাহফিলে মুসল্লিরা শরীফ ওসমান হাদীর দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

খবর ডেস্ক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদীর মাথার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারে মাথার ভেতরে গুলি পাওয়া যায়নি। আগেই গুলি মাথায় ঢুকে বেরিয়ে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওসমান বিন হাদীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ওসমান বিন হাদীর অস্ত্রোপচার প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় তার মাথায় গুলি পাওয়া যায়নি। সার্জনরা জানিয়েছেন, গুলি মাথা থেকে বের হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে—তাকে চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার কাজ চলমান।

শুক্রবার দুপুরে অস্ত্রধারীরা শরিফ ওসমান বিন হাদীকে গুলি করে। তাকে উদ্ধার করে ২টা ৩৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের (ডিসি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে যতটুক জানা গেছে, দুপুরের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ‍মুখপাত্র ওসমান বিন হাদীসহ তার সঙ্গে আরেকজন রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। তাদের রিকশা কালভার্ট রোড এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে দুইজন এসে ওসমান বিন হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। বিস্তারিত ঘটনা জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকলে তা উন্মোচনের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

খবর ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার মতো পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে আছে। স্বৈরাচারের ১৫ বছরে মানুষ কোনো ভালো নির্বাচন পায়নি, তাই সবাই ভালো একটা নির্বাচন চায়। যারা আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার চেষ্টা করবে কিংবা আইন হাতে তুলে নেবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা অনৈতিক দাবি নিয়ে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফ জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব এ কথা বলেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, যারা পতিত স্বৈরাচারের পার্টি, তারা নিজেরাই নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। পলিটিক্যাল পার্টি হলে আন্দোলন করবে শান্তিপূর্ণভাবে। কিন্তু তারা তা না করে রাইফেল-পিস্তল নিয়ে বাচ্চা ছেলেদের খুন করেছে। তারা ভেবেছিল অনেক মানুষকে হত্যা করলে আরও ১৫ বছর সবাই চুপ থাকবে। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের আউট করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছে। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনে অপপ্রচার বা সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে সদ্য যোগদানকারী বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে মতবিনিময় পর্বে সাংবাদিকরা জেলার সার্বিক সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন চাহিদা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।

বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক তাদের বক্তব্যে বরিশালের উন্নয়ন-অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম জনস্বার্থে একে অপরের পরিপূরক, তাই তথ্যপ্রবাহ ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের সভা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক ও সমন্বয় আরও দৃঢ় করবে এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে।

মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ৩ বারের সফল নারী প্রধানমন্ত্রী, মাদার অব ডেমোক্রেসি, বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মোনাজাত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১২ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজ বাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বরিশাল জেলা বিএনপির যুগ্ম -আহবায়ক, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বরিশাল-২ আসন (উজিরপুর-বানারীপাড়া) উপজেলার ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, গনমানুষের নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু’র উপস্থিতিতে উজিরপুর উপজেলা ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ওটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জামে মসজিদে ইউনিয়ন বিএপির সভাপতি মোঃ জাকির হাওলাদার এর সভাপতিত্বে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন খান, সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, সহ- সভাপতি মোঃ সরোয়ার হোসেন মৃধা, মোঃ আনোয়ার হোসেন মল্লিক, মোঃ সামছুল আলম পান্নু, ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আফম সামসুদ্দোহা আজাদ, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ কাইউম খান ।

 

দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন শিকারপুর বন্দর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জয়নাল আবেদীন ও হেমায়েত উদ্দিন মৃধা । এসময় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি সহ বিভিন্ন শ্রেনির পেশার মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এছাড়া দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা আবেগে আপ্লূত হয়ে পরেন। দোয়া ও মোনাজাত শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল-র নেতৃত্বে ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে আবাসিক হোটেল, দোকানপাটসহ সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

 

এ সময় পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মো. ইসমাইল, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি সৈয়দ মোহাম্মদ আলম, যুবদল নেতা মিলন মিয়া প্রমুখ।

অন্যদিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল-এর নেতৃত্বে পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাড়িগুলোতে দলীয় ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালানো হয়।

এতে অংশ নেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন,পৌর বিএনপি দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক,পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আলি হায়দার শেখ,সদস্য সচিব রেদোয়ান ইসলাম রাশেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

এছাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি আলি হোসেন খন্দকার-এর নেতৃত্বে পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গ্রাম ডাক্তার জিএম গনিসহ স্থানীয় নেতারা।

 

পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসল্লি, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া-র নেতৃত্বেও বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

 

কৃষক দলের সভাপতি আলী হোসেন খন্দকার বলেন, আমরা প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবিএম মোশাররফ হোসেন, তারেক রহমান ও দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছালাম পৌঁছে দিচ্ছি।  আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছি। এতে ব্যাপক সারা মিলেছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাররা বিএনপিকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে আশাবাদী রয়েছি ।

 

পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু বলেন,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে মাঠে নেমেছি। ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতেই আমাদের এই প্রচারণা।

 

পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক বলেন,আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারেক রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনের সালাম পৌঁছে দিচ্ছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসল্লি বলেন,কুয়াকাটার মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ গণতন্ত্র ফেরত চায়। বিএনপির ৩১ দফা জনগণের মুক্তির রূপরেখা। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা সেই দফাগুলো তুলে ধরছি। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা দেখে আমরা আশাবাদী আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে কুয়াকাটাবাসী গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দেবে।