খবর ডেস্ক :
বরিশাল নগরীর বহুতল একটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে আরেকটি ভবন। স্থানীয়দের দাবি- তিনদিন আগে ভূমিকম্পের কারণে চারতলা ভবনটি হেলে পড়েছে। যা রবিবার সকালে নজরে আসে।

নগরীর বেলতলা এলাকায় মাহামুদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভবন হেলে পড়ার বিষয়ে দুই ভবনের মালিক একে অপরকে দায়ী করছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের আর্কিটেক (স্থপতি) সাইদুর রহমান লুসান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ বছর পূর্বে বেলতলা মাহমুদিয়া মাদ্রাসার পাশে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে চারতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে সাড়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেন স্থানীয় আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। একই স্থানে গত এক বছর পূর্বে প্লান অনুযায়ী চারতলা ভবন করেন জাহির হাওলাদার নামের আরেকজন। দুটি ভবনেই মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।

প্রতিবেশী মো. দুলাল বলেন, ‘‘সকালে রাস্তায় বের হওয়ার পর হঠাৎ করেই চোখ যায় পাশাপাশি দুটি ভবনের দিকে। দেখতে পাই একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়ে আছে। এরপর আস্তে আস্তে এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।’’

প্রতিবেশী হারিছুর রহমান স্বপন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবন দুটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একসময় সেখানে ডোবা ছিল। মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলত। রবিবার সকালে হঠাৎ করেই দেখতে পাই একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়েছে। এতে পুরোনো ভবনের স্যানিটারির পাইপ ফেটে এক দেয়ালের সঙ্গে আরেক দেয়াল মিশে গেছে।

তারা অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। দুই ভবনের মাঝে আড়াই ফুট জায়গা রাখার বিধান থাকলেও এ দুটি ভবনের ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি। মজবুতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় ভবন হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চারতলা নতুন ভবনের মালিক জহির হাওলাদারের ছেলে মো. ফাকের হাওলাদার বলেন, ‘‘আমাদের ভবন নির্মাণ হয়েছে মাত্র এক বছর আগে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশের ভবনটি ১৪ বছর আগে নির্মাণ করা। ওই ভবনটিই আমাদের ভবনের ওপর হেলে পড়েছে।’’ এটি দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে ‘হাওলাদার ভিলা’র মালিক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘‘সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি আমার ভবনের ওপর নতুন নির্মাণ করা চারতলা ভবনটি হেলে পড়েছে। হতে পারে গত ২২ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের সময় ভবনটি হেলে পড়েছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে তারা এসে ব্যবস্থা নেবেন।’’

ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা এবং প্ল্যান বহিঃর্ভূতভাবে সাড়ে চারতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি আব্দুল মোতালেব।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান বলেন, ‘‘একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়ার খবরটি রবিবার সকালেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখা কাজ করছে। এরই মধ্যে তারা তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলেছে। নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা হবে।’’ তবে মানুষ সচেতন না হলে কোনোভাবেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয় বলেন এই কর্মকর্তা।
সূত্র : দেশকাল

খবর ডেস্ক :
মেট্রোরেলের র‌্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস অনলাইন রিচার্জ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।

বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে অনলাইনে রিচার্জ প্রক্রিয়া উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
সূত্র : বাংলানিউজ

খবর ডেস্ক :

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নগদ টাকার লেনদেন কমাতে পারলে স্বভাবতই দুর্নীতি কমে আসবে। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় ‘ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম’ তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ১৩টি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, মাইক্রোক্রেডিট, ইন্স্যুরেন্স ও এনবিএফআইসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গভর্নর বলেন, আগামী ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এ উদ্যোগ শতভাগ অপারেশনাল হবে। দেশের পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে এই সিস্টেমের আওতায় আনা গেলে অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, কর আদায় বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সব মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস, মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে আন্তঃলেনদেন সম্পূর্ণরূপে সহজ ও তাৎক্ষণিক হয়।

খবর ডেস্ক :
আমেরিকান পপ আইকন ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ভারত মাতিয়ে গেলেন। গত ২২ নভেম্বর তিনি ভারতে আসেন। রাজস্থানের উদয়পুরে অনুষ্ঠিত বিলিয়নিয়ার কন্যা নেত্রা মান্তেনা ও বামসি গাদিরাজুর রাজকীয় বিবাহ অনুষ্ঠানে রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতের লাইভ পারফরম্যান্সে উপস্থিত হয়ে অতিথিদের মুগ্ধ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, জেনিফার ভারতীয় পোশাক পরে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, উদয়পুরের সেই রাজকীয় ভেন্যুতে জেনিফার একে একে পরিবেশন করেন তার জনপ্রিয় গান—”ওয়েটিং ফর টুনাইট”, “গেট অন দ্য ফ্লোর” , “প্লে”, ” সেইফ মি টু নাইট”, ” গেট রাইট”, “এইন্ট ইয়োর মামা ” সহ আরও অনেক হিট গান। লোপেজের এনার্জেটিক পারফরম্যান্সের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পারফরম্যান্সের সময় জেনিফার লোপেজের সাহসী পোশাকও দর্শকদের নজর কাড়ে। তিনি পরেছিলেন কাট-আউট ডিজাইনের ড্রেসের সঙ্গে বডিস্যুট ও জ্যাকেট, পরে ঝলমলে সোনালি বডিস্যুটের সাথে হাঁটু পর্যন্ত বুট। তার নৃত্য ও স্টেজ পারফরম্যান্স যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি পোশাক নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মতবিরোধও ছিল। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না তিনি ৫৬’। আবার কেউ বলেছেন,”জেনিফার সত্যিই বডি গোলস।’ অপর এক মন্তব্য আসে,’সংস্কৃতির সাথে মানানসই পোশাক নয়।’

তবে বিয়ের দিন জেনিফার সম্পূর্ণ ভারতীয় ঐতিহ্যে মুগ্ধ করেন সবাইকে। তিনি পরেন ঝকঝকে এম্বেলিশড শাড়ি ও মিলিয়ে হাতাকাটা ব্লাউজ, সাথে ভারী নেকলেস ও কানের দুল—যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

পারফরম্যান্স শেষ করে অভিনেত্রীকে বিমানবন্দরে দেখা যায় ভারত ত্যাগ করতে। সেখানে তিনি পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হাসিমুখে হাত নেড়ে বিদায় জানান।

তারকাখচিত এই বিয়ের উৎসব শুরু হয় ২১ নভেম্বরের ঝলমলে সংগীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে বলিউড তারকা বরুণ ধাওয়ান, জাহ্নবী কাপুর, রণবীর সিং, শাহিদ কাপুর পারফর্ম করেন। মেহেন্দিতে নাচে মাতেন মাধুরী দীক্ষিত ও নোরা ফতেহি। শেষ দিন ২৩ নভেম্বর, রাজকীয় আয়োজনে নেত্রা ও বামসি গাদিরাজু সাত পাকে বাঁধা পড়েন।

 

খবর ডেস্ক :
কানাডা সরকার দেশের নাগরিকত্ব আইনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। নতুন আইনটি বিল সি-৩ নামে পরিচিত। এটি কার্যকর হলে বিদেশে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার কানাডীয় বংশোদ্ভূত পরিবার ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব এই আইন সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বিল সি-৩ আমাদের নাগরিকত্ব আইনের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবে এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুদের পরিবারের জন্য ন্যায্যতা আনবে। এই সংস্কার পুরোনো আইনের কারণে বাদ পড়া মানুষদের নাগরিকত্ব দেবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট নিয়ম তৈরি করবে যা আধুনিক পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে বিবেচনা করে। এই পরিবর্তন কানাডার নাগরিকত্বকে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করবে।

অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব কানাডা (আইআরসিসি) ব্যাখ্যা করেছে, ২০০৯ সালে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট’ একটি বড় সমস্যা তৈরি করেছিল। এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া কোনো শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কানাডার নাগরিকত্ব পাবে না, যদি তার বাবা-মা কানাডার বাইরে জন্ম নেন বা তাদের দত্তক নেওয়া হয়ে থাকে। তবে বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন যদি কানাডায় জন্মগ্রহণ করে থাকেন বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তখন ওই সন্তান সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে পারে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ফেডারেল সরকার আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং কোনো আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিধিনিষেধের কারণে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়া মানুষ, যারা ভুল করে নিজেদের নাগরিক ভাবতেন, তাদের প্রায়শই ‘হারানো কানাডিয়ান’ নামে উল্লেখ করা হতো।

বিল সি-৩ পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরোনো বিধিনিষেধের শিকার হওয়া ‘হারানো কানাডীয়দের’ নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার নাম ‘সাবস্ট্যানশিয়াল কানেকশন টেস্ট’।

এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কানাডীয় বংশোদ্ভূত অভিভাবক যারা বিদেশে জন্মেছেন বা যাদের দত্তক নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া সন্তান নাগরিকত্ব পাবে। তবে, শর্ত হলো ওই কানাডীয় অভিভাবককে সন্তানের জন্ম বা দত্তক নেওয়ার আগে কানাডায় কমপক্ষে ১ হাজার ৯৫ দিন (মোট তিন বছর) অবস্থান করার প্রমাণ দেখাতে হবে।

এই কঠোরতা বা মানদণ্ডটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের নাগরিকত্ব নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

আইনটি কার্যকর করার জন্য আদালত ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে, যাতে আইআরসিসি প্রস্তুত হতে পারে। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৬ সালের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব আইনের আওতায় অসংখ্য মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছে বা নাগরিকত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০০৯ এবং ২০১৫ সালের সংশোধনীতে বেশির ভাগের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হলেও, ২০০৯ সালের ‘ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট’ বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় বংশোদ্ভূত পিতামাতার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে রেখেছিল। নতুন বিল সি-৩ সেই পুরোনো জটিলতার অবসান ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শাহিন সুমন :
‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে বাণিজ্যিক পরিচালনায় যুক্ত হল প্যাডেল স্টিমার মাহসুদ। দিনের আলোতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের কথা মাথায় রেখে এই ডে সার্ভিস শুরু হচ্ছে।

পর্যটন সার্ভিস হিসেবে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল আজ (শনিবার)। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শতবর্ষী এ প্যাডেল স্টিমার যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীসহ সরকারের একাধিক সিনিয়র সচিব, সচিব ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

স্টিমারটি সপ্তাহে শুক্রবার দিন ঢাকা থেকে বরিশাল যাবে এবং শনিবার বরিশাল থেকে ছাড়বে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

উদ্বোধন আজ হলেও নৌযানটি ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে বাণিজ্যিক পরিচালনায় যুক্ত হচ্ছে ২১ নভেম্বর থেকে।

সিদ্ধান্তনুযায়ী প্রতি শুক্রবার ঢাকা সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে পিএস মাসুদ বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে বরিশালে পৌছবে। আবার প্রতি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় পৌছার কথা রয়েছে।

১৮৭৪ সালে বাষ্পীয় প্যাডেল হুইল জাহাজের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠি খুলনা রুটে যে রকেট স্টিমার সার্ভিস চালু হয়েছিল, ২০২০ সালে তা অনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

সেই ব্রিটিশ শাসনাধীন ১৯২৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে তৈরী মাহসুদ দৈর্ঘ্যে ২৩৫ ফুট, ১৯৮৩ সালে কয়লা থেকে ডিজেন ইঞ্জিন রূপান্তর করা হয়।

প্যাডেল স্টিমার ছিল একসময়ের রাজকীয় বাহন নদীপথের রাজা;আভিজাত্য, নিরাপত্তার প্রতীক, কয়েকযুগ আগেও স্টিমার ছিল গতিতে সবচেয়ে দ্রুতগামী তাই রকেট নামে ডাকা হত।

একসময়ে নদীপথে রাজত্ব করত প্যাডেল স্টিমার গাজী, কিউই, মাহসুদ, অস্ট্রিচ, লেপচা, টার্ন এসব সহ অন্যান্য প্যাডেল স্টিমার।

প্রায় শতবছরের ইতিহাসের সাক্ষী পিএস মাহসুদ ফের চালু হওয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যে তার যাত্রায় সামিল হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে ২১ নভেম্বর থেকে পিএস মাহসুদ বাণিজ্যিক পরিচালনায় আসলেও ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীভাড়া এখনো নির্ধারণ হয়নি।

নৌযানটিতে প্রথম শ্রেণীতে ১২টি কক্ষে ২৪টি শয্যা ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে সাধারণ ২৪টি শয্যা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন শ্রেণিরই ভাড়া নির্ধারণ হয়নি।

তবে সংস্থাটির সূত্র মতে, নৌযানটির পরিচালন ব্যয়ের হিসেবে প্রথম শ্রেণীর একজন যাত্রী প্রতি ব্যয় ৪ হাজার টাকার ওপরে পড়তে পারে।

তবে প্রশ্ন হল সরকারী সত্বাবধানে থাকা এসব জাহাজ বেশী দিন সার্ভিস দিতে পারে না । নানা ধরনের জটিলতা ও লস দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সার্ভিস কতদিন থাকবে সে নিয়েও প্রশ্ন জনসাধারনের মনে।

এসব কিছুর পরেও বিশ্ব ঐতিহ্যের প্যাডেল স্টিমার আবার ফিরছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা থেকে চাঁদপুরের মেঘনা-পদ্মা হয়ে বরিশালের কীর্তনখোলায়। কিন্তু তা সার্বজনীন যাত্রী পরিবহনে না আসায় কিছুটা হতাশা থাকছে বরিশাল বাসীর মনে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের শত বছরের ঐতিহ্য এবং শতবর্ষী জাহাজের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদকে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পর্যটন সার্ভিসে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। এরই অংশ হিসেবে আজ এটির উদ্বোধন হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা ২০২৫ এ সারাদেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বরিশালের কৃতি সন্তান শিশু শিল্পী শৌণক কুন্ড। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিযোগীদের মধ্যে উচ্চাঙ্গ নৃত্য বিভাগে তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃক এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

১৩ই নভেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করবেন। শিশু শিল্পী শৌণক কুণ্ডর এ সাফল্যে আনন্দ বিরাজ করছে বরিশালের সংস্কৃতিক অঙ্গনের সকলের মাঝে। মেধাবী শিশু শিল্পী শৌণক নগরীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডর পুত্র।