নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। এতে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রার্থী ঘোষণায় দেরি হওয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমও দৃশ্যমান নয় বিএনপির পক্ষ থেকে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১০ মাস আগে থেকেই এ আসনে বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বাবরের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং নানা সামাজিক বিষয় ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। তার সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে স্থবিরতা দেখা দিলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম ইতোমধ্যে প্রচারণা জোরদার করেছেন। একইভাবে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পক্ষেও নিয়মিত প্রচারণা চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে জানা যায়, বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করায় অন্যান্য দল—বিশেষত জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এবি পার্টি—আসনটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সুযোগ পাচ্ছে। তবে বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী নিয়ে আসলে প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে যেতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি বলেন, “জহির উদ্দিন বাবরের মার্জিত আচরণ, সাদাসিধে জীবনযাপন ও সততা তাকে এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সম্মানিত ব্যক্তিরাও তার সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন। বাবুগঞ্জ–মুলাদীর অনেকেই তাকে জনসেবামূলক মনোভাবের কারণে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চাঁদকাঠি গ্রামে একসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সোমবার তাদের বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুদের মা লামিয়া আক্তার জানান, তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এবং বাকি দুইজনের রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, “এক সন্তানের খরচ জোগানোই কঠিন, সেখানে পাঁচ সন্তানের চিকিৎসা ও লালন-পালনে পাঁচগুণ ব্যয়। স্বামী ছোট ব্যবসা করে, তাই সহযোগিতা পেলে উপকার হবে।”

শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মারুফ বলেন, জন্মের সময় পাঁচ শিশু কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেও তাদের বয়স কম হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও দুর্বল। তিনি জানান, শিশুদের বয়স এক মাসের একটু বেশি হওয়ায় তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ছয় মাস বয়স হলে সামগ্রিক ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

তিনি আরও জানান, দরিদ্র পরিবারের এই পাঁচ নবজাতকের পরিচর্যার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। চিকিৎসকরাও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার এবং সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ হাসপাতালে এসে শিশুদের জন্য চিকিৎসার ওষুধ, দুধ, প্যাম্পার্সসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দেন।

সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “শিশুদের পাশে আমরা সবসময় আছি। ‘৮৪ ইভেন্ট’-এর পক্ষ থেকেও একটি গরু উপহার দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আবার সহায়তা নিয়ে এসেছি। তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে—এ ব্যাপারে আমাদের নজর থাকবে।”

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বাউফলের চাঁদকাঠি গ্রামের মুদিদোকানি সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী লামিয়া আক্তার স্বাভাবিকভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর বরিশালের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর শিশুদের শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়।

বরগুনা প্রতিনিধ :
শীতের শুরুতেই বরগুনা জেলাজুড়ে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও তীব্র ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সংকট তৈরি হওয়ায় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জ্বর-কাশি থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণ দ্রুত নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে রূপ নিচ্ছে। ৫০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন যেখানে সর্বোচ্চ ৫০–৬০ রোগী থাকার কথা, সেখানে এখন দেড় শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। শয্যার তিন গুণ বেশি রোগী থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে সাত শতাধিক শিশু এবং ভর্তি হয়েছে চার শতাধিকেরও বেশি। এসব পরিসংখ্যান জেলার স্বাস্থ্যসেবার সংকটকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিউমোনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানোলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন জরুরি সরঞ্জাম হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে শুধু নাপা সিরাপই সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলোও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করাতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজওয়ানুর আলম বলেন, ওষুধ ও সরঞ্জাম সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মাহমুদ মুর্শিদ শুভ অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, “বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগতে দেওয়া যাবে না। সামান্য সমস্যা দেখা দিলেই শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিউমোনিয়া জটিল আকার ধারণ করে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বরিশালে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ‘সম্মিলিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পর্ষদ বরিশাল’-এর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নারী ও কন্যার প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এতে বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও কন্যাদের ওপর সহিংসতা এখনও উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। ঘরে-বাইরে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অপমান, হুমকি, স্ট্যালকিংসহ বিভিন্ন সহিংসতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে নারীদের। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেবল আইনি ব্যবস্থা নয়, পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত প্রচারণা জরুরি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা। বক্তব্য দেন উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ, পিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রনজিত দত্ত, উন্নয়ন কর্মী হাসিনা বেগম নিলা এবং আইসিডিএ’র নির্বাহী পরিচালক কাজী নওশাত। বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সভ্য সমাজের পরিচয় এবং ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে নারী সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, এনজিও প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশ শেষে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
হিজলা উপজেলার দীর্ঘদিনের অবহেলা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন–মৌজা কেটে নেওয়া, ভূমি দস্যু ও বালুমহল সিন্ডিকেটের দখল–লুটপাট, এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হিজলা উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট মাহাবুবুল আলম দুলাল।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বরিশালের হোটেল কিংফিশারে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন—১৯৯২ ও ২০০৪ সালে রাজনৈতিক স্বার্থে হিজলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ও মৌজা অন্য জেলায় কেটে দেওয়া হয়।

২০০৮ সালের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমি দস্যুরা হাজার হাজার একর জমি দখল করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর গৌরবদী ও দুলখোলায় ব্যাপক লুটপাট, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাস ঘটে।

সরকারি বালুমহলকে কেন্দ্র করে আন্তজেলা অপরাধী সিন্ডিকেট কোটি টাকার বখরা বাণিজ্যে লিপ্ত থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালুমহলের উপবিডার জাকির শিকদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় ১৫–২০ শ্রমিক আহত হলেও মামলার অগ্রগতি নেই।

হিজলা সদরে এখন প্রকাশ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য চলছে। তিনি জানান, ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।

দুলাল বলেন, “হিজলার মানুষ আজও ভয়াবহ নদীভাঙন ও সন্ত্রাসের মাঝে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। হিজলাকে রক্ষা করতে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বরিশালে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিনের উদ্যোগে সোমবার (২৫ নভেম্বর) গভীর রাতে নগরীর নদী বন্দর এলাকায় এ মানবিক সহায়তা করা হয়।

রাত বাড়লেও শীতের প্রকোপে কাঁপছিল নদী বন্দর এলাকায় থাকা অসহায় মানুষজন। তাদের হাতেই পর্যায়ক্রমে কম্বল তুলে দেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন। একেকজন কম্বল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন, “তারেক রহমান সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার বার্তা দেন। শীতের রাতে অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই আমাদের এই আয়োজন। বিএনপি মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব মনে করে।

কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খবর ডেস্ক :
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব তিনি।

বরিশালের আলোচিত মুখ ডা. মনীষা বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব।

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এই নেত্রী। তবে বরিশালে তার আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা।

সে সময় অবৈধ এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার পক্ষ নেওয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান ছিল সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও বাসদ নেত্রী মনীষার। বিভিন্ন সময়ে থ্রি হুইলার চালকদের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়াও বরিশালের সমসাময়িক বিষয়ে আন্দোলন করে খ্যাতি পাওয়া ডা. মনীষা সদর আসনে প্রার্থী হলে বাম ধারার ভোটার ও রিকশা চালকরা তার পক্ষে থাকবেন বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে এই নেত্রী বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার সাধারণ মানুষদের জন্য সবসময় আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।

এর আগে বরিশাল সদর পাঁচ আসনে সংসদ-সদস্য প্রার্থী ঘোষণা করেন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু।

বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহর নিয়ে সদর পাঁচ আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচনে বরিশাল সদর পাঁচ আসনে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটারের বিপরীতে লড়াই করবেন এই পাঁচ প্রার্থী।

শাহিন সুমন :
শীতের সকালের মৃদু আলোয় বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড দিয়ে হেঁটে গেলে শহরটা যেন তার পুরোনো দিনের গল্প বলার চেষ্টা করে। রিকশার ঘণ্টা, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ব্যস্ত মানুষের চলাফেরার মধ্যে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক আলোচনা ঢুকে পড়ে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে একটি নাম মজিবর রহমান সরোয়ার।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁকে ঘিরে এখন আগের চেয়েও বেশি কৌতূহল দেখা গেছে। একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে জনপ্রিয়তা; আবার আছে মানুষের প্রত্যাশা সবকিছু মিলিয়ে সরোয়ারকে ঘিরে শহরে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক আলোড়ন।

শহরের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও বেশি কিছু অবস্থান করে। সরোয়ারকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তারা বলেন “রাজনীতি নয়, মানুষই তাঁর সবচেয়ে বড় পুঁজি। মেয়র থাকাকালে দিনে-রাতে নগরীর রাস্তায় তাঁকে দেখা যেত নাগরীক সমস্যায় কোথাও পাইপলাইন ভেঙেছে, কোথাও ড্রেন আটকে গেছে কিংবা কোথাও খাল দখল নিয়ে জনরোষ, কোথাও জলাবদ্ধতাসহ যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে যেতেন। বরিশালের দৈনন্দিন সমস্যায় তাঁর উপস্থিতি অনেকের কাছে এখনও স্মরণীয়।

সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে ঘুরে নানা সমস্যার কথা শুনেছেন, তার সমাধানও তিনি করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা উন্নয়ন মূলক কাজে সদর উপজেলার মানুষ তাকে স্বরন করে আজও। এই সম্পর্কই তাঁকে অন্য প্রার্থীর চেয়ে আলাদা করে।

এক প্রবীণ ভোটার আবদুল জব্বার বললেন, “শহরে সমস্যা অনেক। কিন্তু যাকে চিনি, তার কাজে বিশ্বাস করতে সুবিধা হয়। সরোয়ার সেই চেনা মানুষ। বিগত বছর গুলোতে যা এই এলাকায় হওয়ার কথা ছিল তা হয়নী। বড় বড় কাজের কথা বলেছে শুধু কিন্তু হয়নি। আশা করি আগামিতে যে নির্বাচিত হবে তার মাধ্যমে আমাদের কাজ গুলো করে দেবে।

একজন তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বললেন, “আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু নেতৃত্ব এমন হতে হবে যার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আছে। মজিবর রহমান সরওয়ার সেদিক থেকে আলাদা। তার দক্ষতা অনেক বেশী। যার কারেন শিক্ষা সহ উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো সে বেশী করতে পারবে। যাতে করে এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো দূর হবে। মজিবর রহমান সরওয়ার কে ওয়ার্ডের দোকানদার, রিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী প্রায় সবাই তাকে চেনেন। আর চেনা পরিচয় ভোটের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

তাঁর জনপ্রিয়তা কীভাবে গড়ে উঠেছে?
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় মজিবর রহমান সরওয়ার।
সংসদ সদস্য, মেয়র এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্বে সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা তাঁকে গভীর প্রভাবশালী করেছে।

সংগঠনী শক্তির কেন্দ্রবিন্দু
বরিশাল নগর বিএনপিতে তিনি বহু বছর ধরে অন্যতম প্রধান মুখ। তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, ঘনিষ্ঠতা এবং মাঠে উপস্থিতি দলকে গতিশীল করেছে যা জনপ্রিয়তার আরেক স্তম্ভ।

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক
বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি বরিশালে থেকে দলীয় কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ সম্পর্ক জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ভোটের যাত্রার ভেতর দিয়ে দেখা যায় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। এই জনপ্রিয়তা তার কাজে আসবে আগামী নির্বাচনে।

শহরের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার মধ্য দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা অন্যরকম
কখনো পুরোনো ব্যস্ত বাজার, কখনো নদীর ঘাট, আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে চায়ের স্টল সবখানেই দুটি বিষয় স্পষ্ট: মজিবর রহমান সরওয়ারকে ঘিরে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু মানুষ এবার প্রত্যাশা তথ্যভিত্তিক, বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা।

এক তরুণ নারী ভোটার বলেন, “জনপ্রিয়তা ঠিক আছে, কিন্তু নগরীর সমস্যা অনেক জটিল। খাল, সড়ক, ড্রেনেজ—এসবের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ দরকার।

বরিশাল-৫ সদর আসন রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এ আসনে বিএনপির পুরোনো ভোটব্যাংক আছে, আবার এ নির্বাচনে জামায়াত সহ অন্য দলেরও শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই সরোয়ারের জনপ্রিয়তা তাঁকে এগিয়ে রাখলেও ফলাফল নির্ভর করবে দলের নেতা কর্মিদের কর্মযজ্ঞের উপর। তারা কতটা দলের হয়ে কাজ করবে। কারন গ্রুপিং রাজনীতি এখনও বন্ধ হয়নী বরিশাল মহানগর বিএনপিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “মজিবর রহমান সরওয়ার মাঠে উপস্থিত, দল গোছাতে জানেন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন এগুলো তাঁকে প্রভাবশালী করে। কিন্তু ঘর গোছাতে না পারলে এ সবের ব্যার্থ চেষ্টা করা হবে।

নগরীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যস্ত সড়ক
যেখানেই কথাবার্তা শোনা যায়, সেখানে সরোয়ারকে কেন্দ্র করে আলোচনা স্পষ্ট। মানুষ তাঁকে চেনে, তাঁর কাজ তারা মনে রাখে, এবং তাঁর কাছ থেকে আরও বড় কিছু প্রত্যাশা করে।

এ শহর এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোনো এক নেতাকে নতুন চোখে দেখছে।
তাঁর জনপ্রিয়তা বাস্তবে কতটা ভোটে পরিণত হবে সেটা নির্ধারণ করবে বরিশালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

খবর ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী গ্রামে–মসজিদে গিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে “বেহেশতের টিকিট” বিক্রি করে জনগণের সমর্থন পেতে পারবে না।

তিনি বলেন, ৫৫ বছর পর জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ এসেছে—এ সুযোগ সৎভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং অতীত, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ভুলগুলো স্বীকার করা উচিত।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় ফারুক অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নানা অজুহাতে আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং সে নির্বাচনের মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা যাচাই হবে।

ফারুক আরও বলেন, এ সরকার জনগণের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত, তাই নির্বাচন পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। তিনি ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার তোলার আহ্বান জানান এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেন—তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অটুট থাকবে।

খবর ডেস্ক :
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আসাদুজ্জামান আলমকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল র‌্যাব-৮। ছবি: বাসস
বরিশাল, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আসাদুজ্জামান আলমকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান আলম পিরোজপুর জেলার মাথা বেড়া এলাকার মৃত মফিজুর রহমান শেখের ছেলে।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে র‌্যাব-৩ এর সহযোগিতায় পল্টন থানাধীন পুরানা পল্টন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টায় বরিশাল র‌্যাব ৮ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসাদুজ্জামান আলমকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে র‌্যাব-৩ এর সহযোগিতায় পল্টন থানাধীন পুরানা পল্টন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরের হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

এবিষয়ে পিরোজপুর থানার উপ পরিদর্শক আনিচুর রহমান জানান, আসামি মো. আসাদুজ্জামান আলমের বিরুদ্ধে পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ ঝিনাইদাহে একটি হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

তিনি বলেন, এছাড়া পিরোজপুরে আরো একটি হত্যা মামলা চলমানসহ তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান আলমকে পিরোজপুর আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।