নিজস্ব প্রতিবেদক :

অপহরণপূর্বক ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ফেরদৌস শেখকে রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ২টার দিকে র‌্যাব-৮, সিপিএসসি বরিশালের নেতৃত্বে এবং র‌্যাব-১০ এর সহায়তায় চুনকুটিয়া বালিকা বিদ্যালয় সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার ফেরদৌস শেখ (পিতা: আলী আক্কাস শেখ) পিরোজপুর সদর উপজেলার টোন গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পলাতক আসামি গ্রেফতার, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেফতারের পর ফেরদৌস শেখকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খবর ডেস্ক :
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সোমবার (২৫ নভেম্বর) শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ হালনাগাদ করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

পূর্বের বিধিমালায় একাধিক সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। সেসব সীমাবদ্ধতা দূর করে নতুন চাহিদা, বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিগত বিবেচনা যুক্ত করে এবারের হালনাগাদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

পূর্বের বিধিমালায় কেবল ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা প্রদান থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। এ জন্য নতুন বিধিমালায় ম্যাজিস্ট্রেটগণের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে ট্রাফিক পুলিশের ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে (ট্রাফিক সার্জেন্টের নিচের পদ নয়)।

এখন যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তার সম্মুখে বিধি ৬ এর উপ-বিধি (২), (৩) বা (৪) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তা হলে উক্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই তাকে জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।

শব্দদূষণের অন্যতম বড় উৎস হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্বের বিধিতে আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রি সংক্রান্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় তদারকিতে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫- এ এ বিষয়ে স্পষ্ট শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনিয়ন্ত্রিত হর্ন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন বিধিমালায় আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যাম্প্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ; প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন নিষিদ্ধ; যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা; নীরব এলাকায় পটকা, আতশবাজি, হর্ন বা অনুরূপ শব্দসৃষ্টিকারী যেকোনো পণ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; রাত্রিকালে নির্মাণকাজ বন্ধ; শিল্পকারখানা ও জেনারেটরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধান সংযোজন; এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দণ্ড নির্ধারণ।

উল্লেখ্য, সরকার অংশীজনদের নিয়ে সভা ও কর্মশালা শেষে খসড়া প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে সকল মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ এবং জনগণের মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া উন্মুক্ত করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের বেস্ট প্র্যাকটিস পর্যালোচনা করে ২০০৬ সালের বিধিমালায় থাকা দূর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয় এবং বাস্তবতার নিরিখে সেগুলো শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সোমবার (২৫ নভেম্বর) শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ হালনাগাদ করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

পূর্বের বিধিমালায় একাধিক সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। সেসব সীমাবদ্ধতা দূর করে নতুন চাহিদা, বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিগত বিবেচনা যুক্ত করে এবারের হালনাগাদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যাম্প্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ; প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন নিষিদ্ধ; যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা; নীরব এলাকায় পটকা, আতশবাজি, হর্ন বা অনুরূপ শব্দসৃষ্টিকারী যেকোনো পণ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; রাত্রিকালে নির্মাণকাজ বন্ধ; শিল্পকারখানা ও জেনারেটরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধান সংযোজন; এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দণ্ড নির্ধারণ।

উল্লেখ্য, সরকার অংশীজনদের নিয়ে সভা ও কর্মশালা শেষে খসড়া প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে সকল মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ এবং জনগণের মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া উন্মুক্ত করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের বেস্ট প্র্যাকটিস পর্যালোচনা করে ২০০৬ সালের বিধিমালায় থাকা দূর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয় এবং বাস্তবতার নিরিখে সেগুলো শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি—প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” স্লোগানকে সামনে রেখে বরিশালে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৫ উদ্বোধন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় চত্বরে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক, বরিশালের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়, যা নবগ্রাম রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অতিথিরা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খামারিদের অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী খামারিদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর নানা দিক ঘুরে দেখেন।

খবর ডেস্ক

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কড়াইল বস্তির আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে অসহায় হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার। রাতের আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়—ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের ঘরের অবশিষ্ট যা আছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কারও হাতে অর্ধদগ্ধ কাপড়, কারও কাছে ভাঙা বাসনপত্রই শেষ সম্বল। চারদিকে পোড়া কাঠ, টিন, কংক্রিট আর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ—যা মনে করিয়ে দিচ্ছে আগুনের দুঃসহ রাতের কথা।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশ ও চরম পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ১৯টি ইউনিট। স্থানীয় বাসিন্দারাও নেভানোর কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পানি সংকট, সংকীর্ণ গলি এবং কাঠ-টিন নির্মিত ঘরের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর ডেস্ক :

স্টিমরোলারের মতো নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপি কখনো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার পরিবারসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হলেও দল এখনও জনগণের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে দেশে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কাউকে আর সম্মান করছে না—এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। কোথাও কোথাও মব ভায়োলেন্স বা তাৎক্ষণিক সহিংসতা সৃষ্টি করে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “এভাবে আইনের শাসন চলতে পারে না। একটি সভ্য রাষ্ট্র কখনো এমন হতে পারে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পার্লামেন্ট নির্বাচন।”

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলা ভিত্তিক কৃষি ও শিল্পকে সমন্বিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য দ্রুত আসবে। তবে জাতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে এখনও ঘাটতি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হবে।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা কখনো রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করিনি। নতুন বাড়ি করিনি। বরং জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি। দেশ ও মানুষের কল্যাণই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
তিনি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব দিক বিবেচনা করে জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীরা এবং জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর প্রতিনিধি :

বরিশালে আগামী ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক মহাসমাবেশকে সফল করতে পিরোজপুরে সমমনা ৮ ইসলামী দলের যৌথ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আমির তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নেতারা আঞ্চলিক মহাসমাবেশ সফল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন—ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি ইয়াহিয়া, খেলাফত মজলিসের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, মুজাহিদ কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন শেখ এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুর রব।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন—খেলাফত মজলিসের সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবী নেতা ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি সোহরাব হোসেন জুয়েল, জামায়াত নেতা রমজান হোসেন খলিফা, জহিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

হত্যা মামলায় জড়িয়ে দলীয় পদ স্থগিত হওয়া বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ওবায়দুল হোসেনকে স্বপদে বহাল করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

সোমবার কেন্দ্রীয় যুবদলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ওবায়দুল হোসেনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় সদস্য সচিবের দায়িত্বে বহাল করা হলো। এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর করেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।

দীর্ঘ ১৫ মাস পর পদ ফিরে পাওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন করেন তার অনুসারীরা। এসময় ফুলের মালা পরিয়ে তাকে বরণ করে নেন স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা।

গত বছরের ১২ আগস্ট বাবুগঞ্জ উপজেলার ঘটকেরচর গ্রামে মাদক ব্যবসার ভাগের টাকা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সুলতান হাওলাদার (৬৫) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ সাদিয়া আফরিন হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ ওঠে—ওই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ওবায়দুল হোসেন। মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন।

তবে স্বপদে বহাল হওয়ার পর ওবায়দুল হোসেন দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাননি। সেই কারণেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের বাবুগঞ্জে ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আমির খানকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আমির খান জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউনিয়নের চর জাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই আমির খান মিরপুরে আত্মগোপনে ছিল। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বরিশালে আনা হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সন্ধ্যায় আগরপুর স্টিল ব্রিজ এলাকায় মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অরকা পল্লীতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে পৌর যুবদলের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আয়োজিত এ ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মুসুল্লী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জাফরুজ্জামান খোকন, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহজাহান পারভেজসহ বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি মোশাররফ হোসেন বলেন, “সংকটময় সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। যুবদলের এই উদ্যোগ মানবিকতার দৃষ্টান্ত।”

সভাপতি ফারুক বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। ভবিষ্যতেও যুবদল মানুষের পাশে থাকবে।”

দিনব্যাপী ক্যাম্পে চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, জ্বর, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সমস্যার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পরে রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।