নিজস্ব প্রতিবেদক :

শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ নতুন অভিযাত্রায় মাত্র ২০ যাত্রী নিয়ে প্রথমবারের মতো বরিশাল পৌঁছেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্টিমারটি নগরীর ত্রিশ গোডাউন জেটিতে ভিড়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জসীম উদ্দীন জানান, সকালে ঢাকা সদরঘাট থেকে ৪১ যাত্রী নিয়ে স্টিমারটি যাত্রা শুরু করলেও চাঁদপুরে নেমে গেলে যাত্রী সংখ্যা কমে ২০–এ দাঁড়ায়। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবে।

ঘাটে পৌঁছালে যাত্রীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবীব ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন।

প্রথম যাত্রার যাত্রী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটা শুধু যাত্রা নয়, অনুভূতি। স্টিমারের সঙ্গে আমাদের শিকড়ের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। নদীপ্রেমীদের জন্য এ অভিজ্ঞতা অনন্য।”

তিনি পর্যটন বিকাশে বরিশালের ঐতিহ্য, দর্শনীয় স্থান ও খাবারের ব্র্যান্ডিং করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবীব বলেন, “পদ্মা সেতুর পর নৌপথের জনপ্রিয়তা কমলেও ‘পিএস মাহসুদ’ আবার নদীপথে ভ্রমণের রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনবে। পর্যটনশিল্পেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো. হানিফ জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্টিমারটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আগের তুলনায় গতি ও সুবিধা—দুটোই বেড়েছে। এখন ঘণ্টায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে।

নতুন সূচনা ও নিয়মিত সময়সূচি
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি শুক্রবার স্টিমারটি ঢাকা থেকে বরিশাল এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় চলাচল করবে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন স্টিমারটি নৌবিহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে।

প্রথম শ্রেণির দ্বৈত শয্যা: ২,২৬০ টাকা (ভ্যাট ৩৩০ টাকা); দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা, সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা

শতবর্ষী ‘পিএস মাহসুদ’: সময়ের সাক্ষী

১৯২৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে নির্মিত এ স্টিমারটি ব্রিটিশ আমল থেকে দেশভাগ, পাকিস্তান-পিরিয়ড ও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী।
১৯৮৩ সালে স্টিম ইঞ্জিন বদলে ডিজেল ইঞ্জিন বসানো হয় এবং ২০২২ সালে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নবায়ন করা হয়।

অতীতের গৌরব, নদীর সৌন্দর্য আর ভ্রমণরসিকদের আগ্রহ নিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল ‘পিএস মাহসুদ’।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
কুয়াকাটার স্থানীয় জনসাধারণের জন্য শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কুয়াকাটার হোটেল আল হেরা প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

ক্যাম্পে চক্ষু সেবা দেবেন দুইজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ আহামেদ অন্তর
এমবিবিএস (ঢাকা), ডি.এম.ইউ, পি.জি.টি (চক্ষু) প্রাক্তন আর.এম.ও, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, ফার্মগেট ও ডা. শিহাব শাহরিয়ার খান এমবিবিএস (ঢাকা) মেডিকেল অফিসার, পটুয়াখালী চক্ষু হাসপাতাল।

আল হেরা ফাউন্ডেশন কুয়াকাটার চেয়ারম্যান মাওলানা মাইনুল ইসলাম মান্নান বলেন,চোখ আমাদের জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাদের কথা ভেবেই আমরা এই ফ্রি ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। কুয়াকাটার মানুষের জন্য মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

ডা. ইমতিয়াজ আহামেদ অন্তর বলেন, মানবসেবাই চিকিৎসার মূল লক্ষ্য। আধুনিক মেডিকেল প্রযুক্তির কারণে এখন চোখের অধিকাংশ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। এই ক্যাম্পে রোগীরা সঠিক পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা পাবেন।

ডা. শিহাব শাহরিয়ার খান বলেন,গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ চোখের সাধারণ সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। এতে ছোট সমস্যা থেকেই বড় জটিলতা তৈরি হয়। এই ক্যাম্পে প্রাথমিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং চোখের যত্নে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

ক্যাম্পে আগত রোগীদের জন্য কম খরচে ফ্যাকো অপারেশনসহ সব ধরনের চক্ষু অপারেশন করার সুযোগ থাকবে।

বিশেষত যারা সানি অপারেশন করতে চান, তাদের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সঙ্গে আনতে হবে।

আল হেরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মানবিক সেবা কার্যক্রম কুয়াকাটার সাধারণ মানুষের চোখের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা :
দেশের একমাত্র সূর্য উদয় সূর্য অস্তের দর্শনীয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার পর্যটন খাতে যুক্ত হলো আরেকটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক হোটেল‘হোটেল রয়েল গ্যালাক্সি’। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে রাখাইন মার্কেট রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় হোটেলটির। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি পর্যটন ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তবে মানসম্মত আবাসনের সংখ্যা তুলনামূলক কম। নতুন হোটেলের উদ্বোধন পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

হোটেল রয়েল গ্যালাক্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম শিকদার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রদানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনগন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সেবার মান বজায় রেখে নিরলস কাজ করে যাবো।

তিনি আরও বলেন,পরিবার, দম্পতি, গ্রুপ ট্যুর এবং অফিসিয়াল ট্যুরসব ধরনের অতিথির কথা বিবেচনা করেই আমরা রুম ক্যাটাগরি ও সেবার ব্যবস্থা করেছি। অতিথিদের সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন,কুয়াকাটায় পর্যটক বাড়ছে, কিন্তু মানসম্পন্ন হোটেলের ঘাটতি ছিল। রয়েল গ্যালাক্সির মতো আধুনিক হোটেল চালু হওয়ায় পর্যটন খাত আরও শক্তিশালী হবে।

হোটেল ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, অতিথিদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, আরাম ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ট্যুর গাইড, ট্রান্সপোর্ট সাপোর্টসহ অতিথিদের জন্য থাকছে বাড়তি নানা সুবিধা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে মধু ও আখের স্বাস্থ্যসম্মত দানাদার উৎপাদনের কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ আজ বরিশালের রহমতপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বিএসআরআইর উদ্যোগে এর ক্যাম্পাসে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ।

বরিশাল উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রতন কুমার গনপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া, বরিশালের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কিশোর কুমার মজুমদার, বিএসআরআইর সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মুনির হোসেন, প্রশাসন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নুরে আলম সিদ্দিকী এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএসবিএফ প্রকল্পের প্রকল্প ইন-চার্জ ড. খন্দকার মহিউল আলম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, গৌরনদীর মধু উদ্যোক্তা মো. সবুজ হাওলাদার, নাজিরপুরের গুড় উৎপাদনকারী মো. নাঈমুল ইসলাম প্রমুখ। প্রশিক্ষণে ৩০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, কৃষিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কৃষি হবে সমৃদ্ধ। তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন কাজ নয়। এজন্য পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের দরকার। পাশাপাশি প্রয়োজন সততা। ভোক্তাদের বিশুদ্ধ জিনিস খাওয়াতে পারলে, তারাই খুঁজে নিবে বারবার। অনলাইন কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য চলে যাবে সারাদেশে। এমন হলে চাকরির প্রয়োজন হবে না। বরং অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দল থেকে সদ্য বহিস্কৃত বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম । এবার চাঁদার টাকা না দেওয়ায় প্রাকশ্যে ব্যসায়ীকে মারধর করেছে।

মসজিদের ফান্ডের ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদর রোডে জন সম্মুখে মোশারেফ বিশ্বাস নামক একজনকে মারধরের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যাতেকরে পুরো বাকেরগঞ্জ উপজেলায় আতংক বিরাজ করেছ।

সূত্রে জানাযায় ২০২৩ সাথের ৬ জানুয়ারী উপজেলার উত্তর-পূর্ব কৃষ্ণ কাটি জামে মসজিদের ফান্ডের ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করায় মসজিদ কমিটির সদস্য মোঃ মোশারফ বিশ্বাস থানা সহ বিভিন্ন দপ্তরে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

সেই অভিযোগর ভিত্তিতে এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিদের মদ্ধস্ততায় আপষ মিমাংশা হয় তখন জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়। বাকি টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য সময় নেয়।

কিন্তু গত ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট মোশারফ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে জাহাঙ্গীর ও তার দলবল মসজিদে দেয়া জাহাঙ্গীরের ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জনসম্মুখে ফেরৎ দেয়ার জন্য মোশারফ বিশ্বাসকে দায়ী করে তার কাছে ২,৫০,০০০ টাকার দ্বিগুণ ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেই সূত্র ধরে গতকাল ২৭ নভেম্বর দুপুরে বাকেরগঞ্জ সদর রোডস্থ একটি দোকানের ভিতরে জাহাঙ্গীর আলম, শাফায়েত খা সহ অন্যান্যরা লুকিয়ে থাকে। যখন মোশারফ বিশ্বাস সেই পথ ধরে যাচ্ছিলেন তখনই তাকে ধরে জনসম্মুখে চাঁদার টাকার জন্য মারধর শুরু করে জাহাঙ্গীর সহ তার সঙ্গীয়রা। এসময় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মোশারফ বিশ্বাস জানান, বেপরোয়া চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর আলমের ভয়ে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তার। পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। যদি টাকা না দেয়া হয় গুম করে ফেলার নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অপর দিকে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য : গত ২৩ নভেম্বর (২০২৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাসকে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কৃষকদলের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাংগঠনিক নির্দেশনা অমান্য এবং নীতিভ্রষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে তাকে অব্যাহতি দেয়।


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় বরিশালে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জুম্মার নামাজ শেষে নগরীর চাঁদমারী জামে মসজিদে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এতে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারসহ বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন সাধারণ মুসল্লিরাও।

এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় নগরীর বিভিন্ন মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ প্রার্থনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ নভেম্বর  বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল কর্তৃক বরিশালের কোতোয়ালি থানাধীন চরমোনাই আনন্দ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আজ শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানান।

 

অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি লাইটার ভেসেল তল্লাশি করে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের  ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন  চোরাইকৃত কয়লাসহ ১২ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোংলা হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত একটি বিদেশি জাহাজ থেকে অসদুপায় অবলম্বন করে এসব কয়লা অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল।

 

জব্দকৃত কয়লা, পাচারকাজে ব্যবহৃত লাইটার ভেসেল ও আটককৃত চোরাকারবারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশালের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালের নগর উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BDA)’ গঠনের গেজেট প্রকাশ করেছে। বুধবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের গেজেট অ‌ধ্যাদেশ নং ৬৮/২০২৫–এ বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইনগত কাঠামো, ক্ষমতা ও দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বরিশাল এখন রাজধানী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর মতো নিজস্ব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় এলো। দীর্ঘ তিন দশকের দাবি এবং বরিশালের নাগরিক উন্নয়ন–সংক্রান্ত নানা উদ্যোগের পর অবশেষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তব রূপ পেল।

সরকারি নথি অনুযায়ী, নতুন গঠিত বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শহরের পরিকল্পিত নগরায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক সম্প্রসারণ, পরিবেশ–পরিকল্পনা, আবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরিশাল এক উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ ও সমন্বয়হীন অবকাঠামো—এসব সমস্যা সমাধানে একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। গেজেট প্রকাশের ফলে এখন এসব পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হলো।

সরকারি সূত্র জানায়, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যকর হলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন–সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোসহ বিস্তৃত এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ হবে। এতে নগর উন্নয়ন হবে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং একীভূত কাঠামোয়।

স্থানীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহল গেজেট প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করছে, বরিশালের দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, জলাবদ্ধতা, ভাঙন ও রাস্তার সংকট দূর হবে।

গেজেট প্রকাশের পর এখন প্রশাসনিক নিয়োগ, জনবল কাঠামো ও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বরিশালবাসীর মতে এটি বরিশালের নগর উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা।

নাহিদ বিন রফিক :
বিনাধান-২৬’র মাঠ দিবস আজ বরিশাল সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই বরিশাল জেলার উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম, বরিশালের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার (অ.দা.) শিশির কুমার বড়াল, বরিশাল সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার উত্তম ভৌমিক এবং আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার শেখ হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন। বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সঞ্চালনায় কৃষক মাহবুবুল আলম অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। মাঠ দিবসে অর্ধশতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষকের উদ্দেশ্যে বলেন, উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে আপনাদের বিনাধান-২৬’র প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য কৃষকরা দেখে এ জাত সম্পর্কে জানতে পারে। চিকন চাল হিসেবে এই জাতটি সারাদেশে জনপ্রিয়। এটি আগাম ও স্বল্প জীবনকালীন। এর গাছের উচ্চতা কম এবং শক্ত। তাই বাতাসে হেলে পড়ে না। রোগ সহনশীল। তাই দক্ষিণাঞ্চলে এ জাতটি আমন মৌসুমের জন্য বেশ উপযোগী।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–কাজীরহাট) আসনকে ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান ব্যাপক সাড়া ফেললেও প্রবীণ ভোটাররা ঝুঁকছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বারের দিকে। ফলে আসনটিতে গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরে দলীয় বিভাজন, গ্রুপিং এবং কোন্দলের কারণে ধানের শীষের প্রার্থী কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তবে তরুণ নেতৃত্বের কারণে রাজিব আহসান মাঠের নেতাকর্মীদের নিয়ে এ বিভাজন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের একাধিক ইউনিয়নে অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার ইতিহাস তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আব্দুল জব্বার বহু বছর ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন এবং শিক্ষক–শিক্ষার্থী থেকে কৃষক–শ্রমিক সবার সমস্যার খোঁজ নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। ফলে তাকে অনেকে “শক্ত প্রার্থী” হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের মাঠে শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও এখনো উল্লেখযোগ্য প্রচারণা শুরু করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ইসলামী আন্দোলন যদি জোটবদ্ধ হয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন জানায়, তাহলে এ আসনের ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।

একাধিক ইসলামী আন্দোলন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হলে ইসলামী জোট সহজেই বিজয়ী হতে পারে।

যদিও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বা সমর্থন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে রাজনৈতিক মাঠে আলোচনা চলছেসময়ই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট করবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান দিন-রাত মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। গণসংযোগ, পথসভা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি তরুণ ও নতুন ভোটারদের টার্গেট করে সমর্থন ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনটি এখন পুরো জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে।