বরিশালের খবর ডেস্ক :
আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে বরিশাল নগরে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের উপর এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্‌যাপিত হবে।

রোববার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নগর ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পল্লবী সুলতানা বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকা সংযোগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আর ইতোমধ্যেই ঢাকা বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভায় এইচপিভি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই ধারাবাহিকতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এ এইচপিভি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৩০ টি ওয়ার্ডে ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের জন্য ৩২০ টি স্কুল, মাদ্রাসা ও ১০৩ টি কমিনিটি কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৮ দিনে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আর বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতায় ২১ হাজার ৭০৩ জন কিশোরী রয়েছে যাদেরকে এ টিকা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, ১৮ দিনের ক্যাম্পেইনের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০ দিন ৩২০ টি স্কুল ও মাদ্রাসার ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের এবং বাকি ৮ দিন ১০ থেকে১৪ বছর বয়সী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের ১০৩ টি কমিনিটি কেন্দ্রের মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সার টিকা (এইচপিভি)টিকা দেওয়া হবে।

সিটি কর্পোরেশনের জনস্বাস্থ্য বিভাগ, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প, বিভিন্ন বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সদর হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি সহ এই বৃহৎ টিকা কার্যক্রমে মোট টিকাদান কর্মী ২৪০ জন। পাশাপাশি ভ্যাকসিন পোর্টার ৬০ জন এবং স্বেচ্ছাসেবক ৭২০জন পর্যায়ক্রমে ১৮ দিন এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন কাজ করবেন।

উল্লেখ্য বরিশাল সদর হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৮ দিনই এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

ডা. পল্লবী সুলতানা বলেন, ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্র সকাল সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে এই ক্যাম্পেইনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ি-বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে না ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার এক ডোজই যথেষ্ট। এইচপিভি টিকা জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত,নিরাপদ ও কার্যকর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে এই টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে কিশোরীদের অভিভাবকবৃন্দ এইচপিভি টিকার উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত হবেন এবং কিশোরীদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইমাম শুভ্র, মেডিক্যাল অফিসার ডা.সজল পান্ডেসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কলাপাড়া প্রতিনিধি
জোয়ারের স্রােতে কুয়াকাটার সৈকতে ভেসে এলো তিনটি জীবিত মহিষ। স্থানীয় এক কৃষক মহিষ তিনটিকে উদ্ধার করেন। সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পয়েছে। সেবা যত্ন নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়েছে।

শনিবার রাত ৩ টার দিকে কুয়াকাটা হুইচানপাড়া এলাকা মহিষ গুলো দেখতে পায় ওই কৃষক। স্থানীয়দের ধারনা পূর্ণিমার জো’য়ের প্রভাবে সাগারের উত্তাল ঢেউয়ের তোরে পার্শ্ববর্তী সোনারচর, চড় তুফানিয়া বা ফাতরার বন থেকে সাগরের ঢেউয়ে মহিষ তিনটি কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে।

তবে প্রকৃত পেলে মহিষ তিটিকে ফেরত দিবেন বলে আশ্বাস করেছেন কৃষক বাবুল আকন। তিনি বলেন, মহিষের শিংয়ে রঙ মাখা রয়েছে।এছাড়া চোখ দিয়ে পানি পরছে।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি জেনেছি এবং আমার দুইজন পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে বর্নানা রেকর্ড রেখেছি। বর্তমানে বাবুল আকন মহিষটি লালন পালন করার দ্বায়িত্ব দিয়েছি। প্রকৃত মালিক পেলে মহিষ তিনটি হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিশুদের সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক শিশু দশ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে এ সাতার প্রতিযোগিতা অংশগ্রহন করেছে।

রবিবার বেলা ১১ টায় উপজেলার মম্বিপাড়া গ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর আয়োজন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ওইসব শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রজেক্টের সেইভ সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, শিশু লামিয়া, সুয়াইয়, রিপা, রবিউল, আব্দুল্লাহ, হাসান সহ অনেকেই সাঁতার শিখে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, আমরা সাঁতার জানতাম না, দশ দিন প্রশিক্ষণ শেষে সাঁতার শিখতে পেরেছি। প্রথমে পানি দেখে ভয় পেতাম। এখন সাঁতার কাটতে পারি। ভয় কেটে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা উপকূলের মানুষ। ঝড়,বন্যা,জলোচ্ছ্বাস প্রতিনিয়ত আমাদের মোকাবেলা করতে হয়। তাই আমাদের বাচ্চাদের সাঁতার জানাটা খুবই জরুরী। যে প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগ নিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুরা এখন পুরোদমে সাঁতার কাটতে পারে।
সিআইপিআরবি ভাসা প্রজেক্টের সেইভ সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন বলেন, কলাপাড়া উপজেলার সবকটা ইউনিয়নে শিশুদের এ সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। এ বছর এ উপজেলায় পাঁচ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানোর টার্গেট নেয়া হয়েছে।

বিনোদন ডেস্ক :
২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখেন মডেল ও অভিনেত্রী জেসিয়া ইসলাম। তারপর নানা ঘটনায় অনেকবারই আলোচনায় এসেছেন জেসিয়া।

প্রেম থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন কোনো কিছুই বাদ যায়নি। এরমধ্যে অভিনয় মডেলিং ও করেছেন সমান তালে।

এবার সেই জেসিয়া লড়ছেন নতুন একটি প্রতিযোগিতায়। কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠেয় মিস গ্রান্ড ২০২৪ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে লড়ছেন তিনি। এরইমধ্যে সেখানে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন নানা আয়োজনে। সেখান থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে ভোট চাইলেন সবার কাছে।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী পেজে ফলো বাটনে ক্লিক করে তারপর জেসিয়ার ছবিতে লাইক বা শেয়ার করতে হবে। লাইক করলে ১০ পয়েন্ট ও শেয়ার করলে ৫ পয়েন্ট যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন জেসিয়া।

তিনি সবার কাছে ভোট চেয়ে বলেন, ‘আমি সবার কাছে ভোট চাইছি। সবার সহযোগিতায় আমি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি।

জানা গেছে আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০।

উল্লেখ্য এই প্রতিযোগিতা চারটি বিষয় লক্ষ রাখা হয় বলে ওয়েব সাইট সূত্রে জানা গেছে।

তারা মূলত ফোর বি কে গুরুত্ব দেন। এই ফোর বি হলো, বডি, বিউটি, ব্রেন ও বিজসেন। এই চারটির সম্বনয়েই করা হবে চ্যাম্পিয়ন।

বরিশালের খবর ডেস্ক :
অসুস্থ অবস্থায় চিকিতসাধীন দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে যান মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতে নগরীর বাজার রোড কেএমসি হাসপাতালে গিয়ে তিনি সাংবাদিক শামীম আহমেদের চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরো চিফ আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন, সহ-সভাপতি এম. মোফাজ্জেল, সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান হীরা, সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন, সদস্য বায়েজীদ বোস্তামী ও একরামুল কবির জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল আলীম প্রমুখ।

পরে উপস্থিত সবাইকে সাথে নিয়ে সাংবাদিক শামীম আহমেদের সুস্থতা কামনায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া- মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

বরিশালের খবর ডেস্ক :
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থানে হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনীতিবিদরা একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে।

দেশ সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে। এখন যতখানি প্রয়োজন ততখানি সংস্কার তারা করবে, আর যদি বাকি থাকে, তাহলে সেগুলো নির্বাচিত সরকার এসে করবে। ফলে স্বচ্ছ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেসে’ এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বরিশাল সিটি মেয়র সরোয়ার বলেন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক হাত-ধরাধরি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের যেকোনো বড় ক্রাইসিস পরিস্থিতিতে ঐক্য থাকার বিকল্প নেই। আর গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ মনে করে তাদের এগিয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যম ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। বিগত দিনে গণমাধ্যমে বিভাজন দেশ ও জাতির ক্ষতি করেছে।

বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহসহ গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে সাবেক এমপি বলেন, বিগত তিনবারে দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এবার তারা ভোট দিতে চায়। আর এজন্য মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চায়। এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তাই এই সরকারকে করতে হবে। যার মধ্য দিয়ে মানুষ একজন ভালো ব্যক্তিতে তাদের সেবার জন্য নিয়োজিত করতে পারে।

তিনি বলেন, সেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে দেশে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে। তবে দেশ স্বাধীনের পর ছাত্র জনতার এ আন্দোলন আমাদের অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়েছে। ছাত্ররা অনেক মেধাবী তাই আমি বিশ্বাস করি কোন কাজটি আগে করতে হবে তারা সেটি ভালোভাবে বুঝে। আর শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদসহ সবাই মিলেই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সবার ভেতরে মানবিকতার বিষয়টি ফিরিয়ে আনতে হবে, বিশেষ করে পুলিশের ভেতরে। আমার যেটা মনে হয় বিগত দিনে তাদের মানবিকতার বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনাই করা হয়নি। গুলির প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর বলা হয়েছে জনতাবদ্ধ হলেই গুলি করে দিতে। নইলে পরীক্ষা দিতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও গুলি চালাবে কেন? কিন্তু বিগত দিনে তো দেখেছি পুলিশ মানুষকে বোঝায় তারপরও না হলে হাটুর নিচে গুলি করে। এটার পরিবর্তন প্রয়োজন।

বরিশালের খবর ডেস্ক :
প্রজনন নিরাপদ করতে ইলিশ আহরণ, কেনাবেচা ও পরিবহনের ওপর টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধান থাকায় ইতোমধ্যে বরিশাল নগরসহ বিভিন্ন বাজারে ইলিশ বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ডের সদস্যদের নিয়ে নৌ-মহড়া দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তর।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের টাস্কফোর্স উপজেলা প্রশাসনসহ সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ সময় আইন ভেঙে ইলিশ শিকার করলে জেল-জরিমানা করা হবে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে, যাতে নদীতে কেউ জাল না ফেলে। এজন্য ইতোমধ্যে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সেইসাথে বরিশাল জেলায় জেলেদের সংখ্যা বেশি থাকায় যারা এই প্রণোদনা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল কুমার দাস বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাইকিং করা হয়েছে, আবার মসজিদ ও মন্দির থেকেও এই বিষয়ে প্রচার চালানোর কথা বলা হয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ৫৬ হাজার ৭০০ জেলেকে চাল দেওয়া হবে ২৫ কেজি করে মোট ১৪১৭.৫ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে ১৬ হাজার ৫৭৪ জনকে ৪১৪.৩৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই চারদিনের মধ্যে বাকিদের দেওয়া হবে।

তিনি জানান, জেলায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযানে মৎস্য, নৌ-পুলিশ নদী ও খালে প্রশাসনের ৪৮টি টিম ও ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে, বরিশাল নগরের পোর্ট রোডস্থ একমাত্র মৎস্য পাইকারি বাজারে রোববার সকালে প্রকাশ্যে ইলিশের দেখা মেলেনি বা বিকিকিনি হয়নি। অন্যান্য মাছের সংখ্যাও কম ছিল বাজারে। তবে গত মধ্যরাত পর্যন্ত বাজারটিতে ইলিশের বিকিকিনি হয়েছে।

জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে সস্তায় ইলিশ পাওয়ার আসায় পোর্ট রোড বাজারে রাতে ক্রেতা সমাগম থাকলেও শেষ দিনেও দাম ছিল আগের মতোই। ক্রেতারা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বাজারে অন্যান্য ধরনের মাছের বিকিকিনি চললেও ইলিশের দেখা নেই বাজারে। তবে আগের দিন শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ বাজারেও ইলিশ বিক্রির ধুম পড়েছিল। যদিও দাম আগের মতোই চড়া ছিল।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার জন্য সাগর থেকে আসা ট্রলারগুলো বাজার সংলগ্ন খালের ঘাটে বাধা রয়েছে। আবার বাজারের শ্রমিকদেরও অনেকেই অলস সময় কাটাচ্ছেন। তারা জানান, এই বাজারের শ্রমিকদের নিষেধাজ্ঞার এই বাইশ দিন অনেকটাই বেকার বসে থাকতে হবে।

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
তপ্ত রোদ, উত্তপ্ত সৈকত। আবহাওয়া অনেকটা গরম। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা অতিষ্ট হয়ে ওঠে। ঠিক সেই মুহুর্তে সুপেয় পানি নিয়ে পর্যটকদের পাশে দাড়িয়েছেন স্থানীয় পৌর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। রবিবার সকাল ১০ টায় ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স সংলগ্ন সৈকতে ৫’শতাধিক পর্যটকদের মাঝে সুপেয় পানি বিতরন করেন তারা। একই সাথে ছোট ছোট শিশুদের হাতে তুলে দেয় চকলেট। তাদের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পর্যটকরা।

এ সময় কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজোন’র পুলিশ সুপার মো.আনছার উদ্দিন, ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন ইনচার্জ আব্দুল খালেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আ.আজিজ মুসুল্লি, সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল ভুইয়া, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘড়ামী, পৌর যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, পৌর যুবদল সাধরন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন সহ স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়াকাটা পৌর যুবদল সাধরন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, আগত পর্যটকদের জন্য সামান্য উপহার হিসেবে আমাদের পক্ষ থেকে পানি ও চকলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের দিক নির্দেশনায় কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এ সেবা মুলক কাজগুলো অব্যাহত থাকবে।

বরিশালের খবর ডেস্ক :
আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পাঁচতলা বিশিষ্ট মেডিসিন ভবনটিতে রোগীদের পুনর্বাসন করতে সময় লাগবে। অন্তত তিনদিন সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল।

আগুনের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালের ভবন পরিদর্শন শেষে রোববার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় তার সঙ্গে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজাউল আলম রায়হান, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, সবার সহযোগিতায় ভবনে থাকা রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। পুরো ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর আমাদের কাছে নেই। বর্তমানে ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার কাজটি পরিচালনা করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, আগুন লাগার উৎপত্তি স্থান ভবনটির নিচতলা। সেখানে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ স্টোরে থাকা ম্যাট্রেস, মশারি, চাঁদরসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভানোর কাজের জন্য সেখানে এখনও পানি জমে আছে। ফলে সবকিছু সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো ক্ষয়ক্ষতির হিসেব নিরূপণ করতে সময় লাগবে।

এছাড়া ভবনের বাকি চারটি ফ্লোরে শুধু ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। আশা করি দ্রুত সময়ে মধ্যে ভবনটিতে রোগীদের স্থানান্তর করার কার্যক্রম শুরু হবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আরও বলেন, মেডিসিন ভবনটিতে রোগীদের পুনর্বাসন করতে সময় লাগবে। অন্তত তিনদিন সময় প্রয়োজন। এর মধ্যে ভবনের নিচতলা ছাড়া বাকি ফ্লোরগুলো রোগীদের সেবার জন্য চালু করা সম্ভব হবে। নিচতলায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে আরও সময় লাগবে।

রোববার সকাল ৯টার দিকে শেবাচিমের পাঁচতলা নতুন মেডিসিন ভবনের নিচতলার লেলিন স্টোর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্টোরটি পুরুষ মেডিসিন ইউনিটের পাশে। ধোঁয়া দেখে পুরো হাসপাতালে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ধোঁয়া খুব বেশি হওয়ায় অভিযান শেষ করতে তিন ঘণ্টার মতো সময় ব্যয় হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচতলা ভবনটিতে মেডিসিন বিভাগের পাঁচটি ওয়ার্ডের ১০টি ইউনিট ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ৭০ জন ডেঙ্গু রোগীসহ ৫৪৩ জন রোগী ছিল ভবনটিতে। এছাড়া রোগীদের স্বজন, নার্স, চিকিৎসক, স্টাফরাও সেখানে ছিলেন।