নিজস্ব প্রতিবেদক :
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে আপনারাও গদিতে থাকতে পারবেন না।

তিনি বলেন, যেহেতু আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি, জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাস্তায় ঝাঁপিয়ে পড়েছি এখানে লালনের আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য নয়, আমেরিকা-ভারতের অপসংস্কৃতি বাস্তবায়নের জন্য নয়।

এসব চাপিয়ে দিলে বাংলাদেশের মানুষ তা মানবে না। এই দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত আছে এই মাটি। শিক্ষা ও সংবিধান সংস্কারে যারা এসব চিন্তা লালন করে না, এর বাইরে বিচ্ছিন্ন কোনো চিহ্নিত ব্যক্তিদের আপনি শিক্ষা ও সংবিধান সংস্কারের এর জন্য যদি গ্রহণ করেন তা বাংলাদেশের মানুষ মানবে না।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব‌রিশ‌ালের গৌরনদীতে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশে তি‌নি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, প্রত্যেকটি সংস্কারে বাংলাদেশের আলেম সমাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যোগ্য আলেম ছাড়া আপনারা কোনো কিছু সংস্কার করতে পারবেন না। যদি আপনি আমাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চান তাহলে মনে করবেন ক্ষতি এই দেশের হবে, ক্ষতি এই জাতির হবে, মানবতার হবে। তাহলে আপনারাও সরকারের গদিতে থাকতে পারবেন না। তাই আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দেশটাকে গড়ি।

গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদ সংলগ্ন ঈদগা মাঠ ময়দানে সংগঠনের গৌরনদী উপজেলা শাখা সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুফতি নেছার উদ্দিন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাফিজুল রহমান, জেলা আন্দোলনের সদস্য মাস্টার মাহাবুল হক মানিক আগৈলঝাড়া সভাপতি রাসেল সরদার মেহেদী প্রমুখ।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর:

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শাতলা ইউনিয়নে  ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মাজার ভাঙা বন্ধ করলো স্থানীয় মুসল্লীরা।

 

সুত্রে জানা যায়,১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার  উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অশ্লীলতা ও বিভিন্ন কূ-কর্মের  অভিযোগ তুলে গদাই মাজারটি ভাঙার পরিকল্পনা করে কতিপয় স্থানীয়রা।

 

 এ ঘটনা এলাকায় চাউর হলে সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন।

 

 এরপর তাৎক্ষণিকভাবে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা  হাসনাত জাহান খান, উজিরপুর মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর মেধা ও দুরদর্শিতায় উত্তেজিত জনতার পরিবেশ শান্ত হয়। এমনকি মাজার ভাঙা বন্ধ হয়ে যায়।

 

এ ব্যপারে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মাজার ভাঙা বন্ধ হয়। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

 

এছাড়া মাজারটি ভাঙা বন্ধ করে স্থানীয় মুসল্লীরা। এমনকি  মাজারটি অক্ষত রয়েছে। তবে অভিযোগকারীরা ৪৫৭ জনের সাক্ষরিত আবেদনপত্র জমা দেন এবং সে অনুযায়ী পবিত্রতা রক্ষায় মাজার পরিচালনাকারীদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে সদ্য যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এর সাথে বরিশাল জেলার সুধীজনদের মতবিনিময় সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক উপস্থিত সুধীজনদের ফুল দিয়ে বরণ করেন।

 

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভা কক্ষে জেলা প্রশাসক বরিশাল মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক স্থানীয় সরকার বরিশাল গৌতম বাড়ৈ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরিশাল মনদীপ ঘরাইসহ সর্বস্তরের সুধীজন।

 

শুরুতে সুধীজনদের সাথে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসক বরিশাল মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

 নবাগত জেলা প্রশাসক বরিশাল গত ১২ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বরিশালে যোগদানের পর থেকে বরিশালের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি ইতোমধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে তার নিজ দপ্তরে প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে গ্লাস ব্যবহারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি সবাইকে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত বস্তু ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার ব্রত নিয়ে বরিশালে যোগদান করেছেন, তাই তিনি ফুল নেয়া নয়, দেয়ায় সংস্কৃতি চালু করেছেন। তাকে স্বাগত জানাতে আসা শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজেই ফুল দিয়ে বরণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসন ও শোষণে যোগ্য চিকিৎসকদের বদলি নামের হয়রানি করেছে। এতে জনগণ, রোগী ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহিদ রাকিব হেসেন ও শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এ কথা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. মো. নজরুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ উন্নয়নের নামে টাকা পাচার করেছে। প্রজেস্ট চালু করার আগেই টাকা পাচার করা হয়েছে। তাই এই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ হটানোর জন্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবদান আমাদের মনে রাখতে হবে সারা জীবন।

বেলা ১২ টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের বক্তব্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর বরিশাল জেলা সভাপতি ডা. মো. কবিরুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসন ও শোষণে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতন আর হয়রানির শিকার হয়েছে। ড্যাব’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমন চিকিৎসকদের পদোন্নতি বঞ্চিত করাসহ একাধিকবার বদলি ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর চিকিৎসকবৃন্দ। আগামীতে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে থাকবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ইতোমধ্যে স্বৈরাচারী আওয়ামী, স্বাচিপ ও তাদের সমর্থনকারী সহ বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনকে দেশ জুড়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আগামী দিনের জন্য বরিশাল তথা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এই স্বাচিপ ও তাদের সমর্থনকারীদের এড়িয়ে চলতে হবে।

এর আগে সভা শুরুর প্রথমেই দুই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো: কবিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, শেবাচিম শাখার ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. এস আবদুর রহিম, যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. ফয়সাল আহম্মেদ, ডা. আবদুল মোনায়েম সাদ, ডা. রেজা, ডা. রুশো, ডা. মেহেদি, ডা. মনির, ডা. ফয়সাল, এনডিএফএ এর সহ-সভাপতি ডা. মহাসিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহিদ রাকিব হোসেন’র পিতা মো. আলমগির হোসেন ও শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র পিতা মো. জাকির হোসেন। মতবিনিময় সভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পিতার হাতে দুই লাখ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সভা শেষে পরে ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকল শহিদের স্মরণে এনেসথেসিওলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. ডা. শাফিকুল ইসলাম’র পরিচালনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।