নিজস্ব প্রতিবেদক :
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশালের শীর্ষ নেতা ও সরকারি ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের সাবেক ভিপি মঈন তুষারকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন তুষার জুলাই আন্দোলনের সময় ১৬ থেকে ১৯ জুলাই সশস্ত্র অবস্থায় শিশু-কিশোরদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র হিরনের সময়কালে মঈন তুষারের উত্থান ঘটে এবং তার প্রভাবেই বি এম কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হাতেম আলী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের একটি অংশের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তার মদদপুষ্ট ছাত্রলীগের কর্মী ডা. সায়েম, ডা. মেহেদী, ডা. সৈকত সহ আর কিছু মাদকাসক্ত ছাত্র বরিশালের রিফিউজি কলোনীর একটি ছেলেকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং তথকালীন বিরোধিদলের নিরীহ ছাত্রদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়। এই সন্ত্রাসি র্যাকেটের অন্যতম সদস্য ডা. মাশরেফুল ইসলাম সৈকত এখনো বহাল তবিয়তে বরিশাল কাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী রিফিউজি কলোনীর এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল এবং সে সময় বিরোধী দলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া বি এম কলেজের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে মঈন তুষারের বিরুদ্ধে।
এদিকে, তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।






