নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দিতেই এবারের গণভোট। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার পথরেখা তৈরি হবে।
রোববার বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের ইমামদের নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। গণভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে, আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দেশ কীভাবে পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রমাণ করেছে—এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সাধারণ নির্বাচনে আমরা যার যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। গণভোট নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনের মতোই গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। এ লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে গণভোটে অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল নিজামী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচির প্রথম দিনে আয়োজিত এ সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় বারো শতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন।






