খবর ডেস্ক :
বরিশালের ৬টি আসনের বিপরীতে ৪৮ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। দাখিলকৃত ৪৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে সঙ্গে থাকা প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনে শুধু এনপিপির প্রার্থী স্বশিক্ষিত, আর বাকিরা সবাই কম-বেশি বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করেছেন।
অপরদিকে হলফনামা অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে কারও মামলা চলমান, কেউ আবার খালাস পেয়েছেন।
তবে সব থেকে বেশি মামলা রয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সর্বোচ্চ বাৎসরিক উপার্জনকারী বিএনপির এ প্রার্থীর তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে।
এছাড়া বাৎসরিক আয়ের দিক থেকে একাধিক প্রার্থীর অবস্থান ভালো থাকলেও, সবচেয়ে বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর স্ত্রী।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এলএলবি পাস ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী (ব্যবসা, গৃহ, সম্পত্তি ও কৃষি)।
দায়ের হওয়া ১৪টি মামলা থেকে এরই মধ্যে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, এছাড়া আরও ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ টাকা। তিনি বর্তমানে ৫০ তোলা স্বর্ণসহ ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকার অস্থাবর এবং ৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৬২ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি রাইফেল ও একটি রিভালবার রয়েছে প্রার্থীর।
তবে তিনি হলফনামায় স্ত্রী, সন্তান কিংবা নির্ভরশীলদের আয়ের কথা উল্লেখ করেননি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম কামিল ফিকাহ (এমএ) পাস এবং পেশায় একজন শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মামলা ছিল, তবে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে ২২ বোর একটি রাইফেল, ১০৬০ শতাংশ কৃষি জমি, ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অকৃষি জমিসহ ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকার অস্থাবর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষি জমিসহ ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, প্রার্থীর স্ত্রী মোসা. তাসলিমা আক্তারের ১৮৭ ভরি স্বর্ণসহ বর্তমানে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনের হলফনামায় স্ত্রীর কোনো সম্পদের কথাই উল্লেখ করেননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম। এমন প্রার্থীর নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসেবেও বেশ পরিবর্তন রয়েছে।
বাসদের মনীষা চক্রবর্তী এমবিবিএস পাস এবং পেশায় একজন চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, আর অন্য মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে ৫ ভরি স্বর্ণসহ ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩২ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হলেও স্থাবর কোনো সম্পদ নেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এলএলবি ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন আইনজীবী। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৪ টাকা। হলফনামায় তিনি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করলেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় পার্টির আখতার রহমান এসএসসি পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী (কমিশন এজেন্ট)। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ২০ লাখ ৬০ হাজার ২৭৫ টাকার এবং তার স্ত্রীর ৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর একটি টিনশেড, দুইতলা দালান এবং এক ও যৌথ মালিকানায় কৃষি জমি রয়েছে।
এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম এলএলএম পাস এবং পেশায় একজন আইনজীবী। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭০ টাকা। এছাড়া তার ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর উপহার পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণ ব্যতীতও দেড়লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর ১৫ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রী ফ্লোরা তানজিনের ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার স্বশিক্ষিত এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, সে সঙ্গে তিনি সর্বশেষ অর্থবছরে ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৫ টাকার সম্পদ আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তহিদুল ইসলাম এমবি ডিগ্রিধারী। হলফনামা অনুযায়ী তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ১০ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর ১২ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদও রয়েছে প্রার্থীর নিজের।
বাসদ মার্কসবাদী দলের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান এমএ এলএলবি পাস এবং পেশায় আগে কৃষক থাকলেও বর্তমানে শ্রমিক। যে হিসেবে তিনি প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অকৃষি জমি স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে এ প্রার্থীর।
খেলাফত মজলিশের একেএম মাহবুব আলম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বর্তমানে তার বাৎসরিক আয় ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭০৪ টাকা। এছাড়া তার ২২ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর উপহার পাওয়া ৮ ভরি স্বর্ণ অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে। এছাড়া যৌথ মালিকানায় থাকা ১০ একর কৃষিজমির এক তৃতীয়াংশ প্রার্থীর। যার বর্তমান মূল্য ৩৩ লাখ টাকা।






