TT Ads
Spread the love

খবর ডেস্ক :
আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি নির্বাচনি এলাকায় ৫১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র এবার ঝুঁকি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পক্ষ-প্রতিপক্ষের হিংসা বা প্রতিহিংসার কারণে নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম এলাকার কারণে এসব কেন্দ্রকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সাজানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বরিশাল অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিভাগের মোট দুই হাজার ৭৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬২১টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ আর ৮২৭টি গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড শহরতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানকার দিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে যাতায়াতসহ সব সুবিধা থাকলেও স্কুলটির মূল ভবনটিই ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে তিনটি কক্ষকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কীভাবে এখানে ভোট গ্রহণ করা হবে তা নিয়ে চিন্তিত খোদ শিক্ষকরাই।

এ বিষয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফসানা মুন্নির সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের স্কুলটি অনেক আগে থেকে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ একথা আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভোটের সময় যদি বৃষ্টি বা প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে কী হবে তা জানি না। এছাড়া আমাদের জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা নেই।

এদিকে, জেলার নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারীরা রয়েছেন আরও বিপাকে। তারা জানান, ইতোমধ্যে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকেই মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ বরিশাল বিভাগের ১৩টি উপজেলাকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোট কেন্দ্রকে যাতায়াতেই হিমশিম খেতে হয় পোলিং কর্মকর্তাদের।

বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা জানান, আমরা বিগত দিনে ভোট গ্রহণের জন্য অনেক কেন্দ্রে গিয়েছি। অনেক দুর্গম এলাকায় আমাদের দায়িত্ব ছিল। নারী হবার কারণে সেখানে রাত্রিযাপন করা সম্ভব হয়নি। ভোর রাতে রওনা দিতে হয়েছে। অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবে এখনকার কেন্দ্রগুলো আপডেট হওয়া উচিত। শুনেছি কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এসব ক্যামেরা সচল রাখতে বিদ্যুৎ নির্ভর হলে চলবেনা, জেনারেটরও রাখতে হবে।

এসব বিষয়ের সঙ্গে একমত পুলিশ প্রশাসনও। পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে এসব কেন্দ্রকে সহজতর করা হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। গুরুত্বপূর্ণ, অতি-গুরুত্বপূর্ণসহ তিন ভাগে ভোট কেন্দ্র সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বরিশালের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কারণে অতি-গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অবস্থান, নদী ভাঙন কিংবা চর এলাকায় হলে তাকে গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। ঘনবসতি এলাকাকেও আমরা গুরুত্বের তালিকায় নিয়ে এসেছি। গুরুত্বপূর্ণ কিংবা অতি-গুরুত্বপূর্ণের ক্ষেত্রে আসলে সেখানে ত্রাস বা সন্ত্রাস হবে এমন কোনো বিষয় নেই।

সূত্র : সময়ের আলো

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *