খবর ডেস্ক :
আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যে তাকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। সেখানে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে মহানগর হাকিমের দ্রুত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
শুনানি শেষে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন দিয়েছেন।
আইনজীবী মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, তারা সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু আদালত অনুমতি দেয়নি। আদেশের পর একটি প্রিজন ভ্যানে করে আইনজীবী লিংকনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন।
পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন, অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন।
মামলায় বলা হয়, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আসামিরাসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তারা বিচারকদের উদ্দেশে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তারা হট্টগোল করেন।
এতে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।





