নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও ১০ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন এ তথ্য জানান।
মনোনয়ন বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিন শনিবার তিনটি আসনের মধ্যে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আট প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে তিনটি আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আরও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
মনোনয়ন বাইয়ের দ্বিতীয় দিন শনিবার বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে চারজনের মনোয়ন বৈধ ঘোষণা এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান (বিএনপি বিদ্রোহ), বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এবং ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার মেহেদীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানের আয়করবিষয়ক সমস্যা থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে চারজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল হয়েছে একজনের এবং স্থগিত হয়েছে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন। এ আসনে বাসদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নেসার উদ্দিন, রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং খেলাফত মসজিদের মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের মনোনয়নপত্রে দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তা অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকায় স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বিএনপির প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)র আয়কর বিষয় সমস্যা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থী সাহেব আলীর হোল্ডিং ট্যাক্স বিষয় সমস্যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির এম এ জলিলের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল হকের ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ) আসনের চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বাতিল হয়েছে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন, স্থগিত হয়েছে দুইজনের প্রার্থীতা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন এবং এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপসের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা এবং ৩শ টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল আহসানের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপুর জেল হাজতে এবং দ্বৈত নাগরিকতা থাকার অভিযোগের কারণে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাসদ মনোনীত প্রার্থী আজিমুল হাসান জিহাদ ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগের দিন শুক্রবার প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রথম দিন বরিশাল জেলার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্যে বরিশাল-৫ সদর আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম মনোনয়নপত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর করেনি এবং ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনো স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুল ইসলাম ভোটার তালিকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকদের তথ্য সঠিক না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে দুটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হলফনামা নোটারির কাগজে স্বাক্ষর না থাকা এবং অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আয়কর রিটার্ন সনদ না থাকা, ১০ (বি) ফরম সংযুক্ত না করা এবং ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মুসলিম লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। কাগজপত্র সংশোধন করে জমাদানের পর রোববার স্থগিত হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে ফের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন দেবে বলে জানা গেছে।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা পুনরায় আপিল করতে পারবেন। আর যাদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে রোববার (৪ জানুয়ারি) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






