নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বরিশালের ছয়টি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল আহসান এবং প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
বরিশাল-৫ (সদর ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ২৯ ডিসেম্বর বরিশালবাসীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে ১০ দলীয় জোট গঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট গঠনের আগেই সারাদেশের তিনশত আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আমাকে মনোনীত করা হয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের ঐক্য হয়েছে। ফলে জামায়াত ইসলামীসহ দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়ন পুনঃবণ্টনের ব্যবস্থা করেছে।
তিনি বলেন, চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি, কল্যাণমুখী রাজনীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে এ দাবি দেশবাসীরও। জামায়াত ইসলামী বড় দল হিসেবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। আমাদের নেতা ড. শফিকুর রহমানের আহ্বানে এই ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে।
তিনি যোগ করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি, এজন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনে চরমোনাইয়ের সমর্থনে ১০ দলীয় জোট এবং জামায়াত ইসলামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।
উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর) ব্যতীত বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) থেকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে তিনিসহ চরমোনাই পীরের জন্মস্থান বরিশাল হওয়ায় বরিশাল-৫ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং জামায়াত অন্য (বরিশাল-৬) আসনে তার প্রার্থীতা বহাল রেখেছে।
এদিকে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪১ জন। এদের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।






