TT Ads
Spread the love

খবর ডেস্ক :
বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইঙ্গিতে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গুপ্ত হিসেবে পরিচিতরা নিজেদের প্রেসে ভুয়া ব্যালট ছাপাচ্ছে। যাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখের পর থেকে জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিৎ শিক্ষা আপনাদেরকে দিতে হবে।

“বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভাব হয়েছে।

বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে গাড়িবহর নিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বেলস্ পার্ক মাঠে জনসভার মঞ্চে পৌঁছান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল, জনগণ যাদেরকে ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে এই জালেমদের নেতা- দুই দিন আগে নারীদেরকে কলঙ্কিত করেছে। যেই ব্যক্তি বা যেই দলের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই- তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানমূলক কোনো মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।

“বিবি খাদিজা সম্পর্কে আপনারা জানেন। আমাদের প্রিয় নবী করীম (সা.)-এর স্ত্রী। এই বিবি খাদিজা, একজন কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, ওনার নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। যেখানে মহানবী (সা.) নিজেও কাজ করতেন। এরা বলে ইসলামের রাজনীতি করে। অথচ নবীর স্ত্রী নিজে যেখানে কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কেমন করে সেই রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের নারী সমাজকে আবার একটি কলঙ্কিত করল।

কুমিল্লার এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “গুপ্ত দলের আরেক নেতা, যার বাড়ি কুমিল্লায়। সেই নেতা কিছুদিন আগে দলীয় সমাবেশে বলেছে, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন, পরবর্তীতে জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ চিন্তা করেন- এই রকম কথা কে বলতে পারে! এই কথা থেকে প্রমাণিত হয় কী তাদের মেন্টালিটি, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে তারা জনগণকে নিয়ে কতটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কথা তারা বলতে পারে। এইসব লোক যদি নির্বাচিত হয়, এইসব লোক যদি দায়িত্ব পায়- তাহলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিসহ ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, আমি তার উল্টোটা বলি। আমি আমার নেতাদের, আমি আমার কর্মীদেরকে বলি- ১২ তারিখ থেকে না আপনারা ১৩ তারিখ থেকেও আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ আমরা দেখেছি, জনগণের শক্তি যার পেছনে না থাকে, জনগণের সমর্থন যার পেছনে না থাকে- তার পরিণতি কী হতে পারে ৫ আগস্ট দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে।

বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “১৯৯৩ সালে বিএনপি তথা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলন। তারপরে নদীর পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। আমরা এই এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছি, কিন্তু আরও বহু কাজ করা বাকি। যেমন বরিশাল-ভোলা ব্রিজ এই কাজটি আমাদের করতে হবে। এখানকার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য উন্নয়ন করতে হবে। ভোলায় মেডিকেল কলেজের কাজে আমাদের হাত দিতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গ্রামের খেঁটেখাওয়া নারী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী- সবার কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন এবং পুরুষের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “আমরা এরই মধ্যে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে- বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেব।

তরুণ এবং যুবকদের কর্মস্থান পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবায় পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল আছে যেখানের মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিযুক্ত করতে চাই। তাদের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের, শিশুদেরকে ঘরে বসে ছোট-খোট অসুখের চিকিৎসা দেওয়া। যাতে করে মা ও বোনকে আর কষ্ট করে হাসপাতালে না আসতে হয়।

বলেন, আমাদের দেশে তরুণ ছেলে-মেয়েরা আছে যারা খেলাধুলায় ভালো। এমন যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ভালো তাদের আমরা ট্রেনিং দিতে চাই। যাতে করে তারা খেলোয়াড় হিসেবেও নিজেদের তৈরি করতে পারে।”

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বরিশালে আবার খাল খনন শুরু হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১৩ তারিখে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। নিজে বরিশালে এসে খাল খনন করবেন বলে ঘোষণা দেন তারেক রহমান।”

তিনি বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে বন্যার গতিরোধ করা হবে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সমাবেশ শেষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে বিএনপির ধানের শীষ এবং জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, ভাইস-চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদন, মেজর (অব.) হাফিজ ইব্রাহিম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি জোটের প্রার্থী ও বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী রাজিব আহসানসহ বিভাগের ২১টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

দুপুর দেড়টার দিকে জনসভা শেষ করেন তারেক রহমান। এরপর হেলিকপ্টার যোগে ফরিদপুরে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। মহানগর ও দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *