নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে মুদ্রা ছাপানো বাবদ প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যয় ও অপচয় কমাতে সরকার ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর বান্দ রোডের একটি হোটেলের সেমিনার কক্ষে ‘বরিশাল অঞ্চলের বিজ্ঞ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সঙ্গে মতামত ও পরামর্শ সংগ্রহ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষান্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর বলেন, “ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে ছেড়া-ফাঁটা নোটের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হবে। নতুন ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হলে ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত হবে।”
তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তা, কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করবে। “এসএমই, নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে,”—বলেন গভর্নর।
এসএমই খাত প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, “আমাদের হাতে এসএমই সেক্টরের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা রয়েছে, যা খুব স্বল্প সুদে বিতরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে থাকব।”
ব্যাংকগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাত এখনও কর্পোরেটমুখী বড় গ্রাহকদের দিকেই বেশি নজর দেয়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এসএমই, উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অবশ্যই বড় পরিসরে বাড়াতে হবে।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ মাসুদ, প্রধান কার্যালয়ের মুদ্রানীতি বিভাগের ডেপুটি পরিচালক মাহমুদ সালাউদ্দিন নাসেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।






